ক্রিকেটবাংলাদেশ ক্রিকেট

সাব্বিরের জন্য এক্সট্রিম ডিসিশন নিতে হবে : পাপন

গত দুইবছর ধরে বহুবার আলোচনায় এসেছেন সাব্বির রহমান। একে তো তিনি অফফর্মে, তার উপর তার দুর্ব্যবহারের জন্য বারবার হয়েছেন বিতর্কিত। তিনি কখনো নারি কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে, কখনো দর্শককে পিটিয়ে আবার কখনো দর্শকে হুমকি প্রদর্শন করে তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসে পড়েন।

এদিকে তার এমন আচরণকে মোটেও স্বাভাবিকভাবে নিচ্ছেন না বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপন। আর তিনি এরকম অবস্থাকে ‘ খারাপ’ বলেও অভিহিত করেন। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন,

“আমরা মনে করেছিলাম, শেষ যে বিচারটি হয়েছিল, তার পর সব ঠিক হয়ে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তাতেও যদি ঠিক না হয়, তাহলে তো এক্সট্রিম ডিসিশন নিতেই হবে, উপায় নেই। তবে এই ধরণের বিশৃঙ্খলা আমি মনে করি ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত অত্যন্ত খারাপ।”

এদিকে গত তিন-চার বছর ধরেই বাংলাদেশ ক্রিকেটে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করে আসছে। যে কোনো দলের বিপক্ষেই বাংলাদেশ এখন কঠিন প্রতিপক্ষ। আর তাই বাংলাদেশকে নিয়ে ঘাটাঘাটিও কম হয় না। আর তাই দেশের ক্রিকেটকে নিয়ে কোনো বিতর্ক চান না তিনি। তিনি বলেন,

“যেহেতু ক্রিকেটটা বাংলাদশে ভালো জায়গায় আছে এবং বাইরেও সব জায়গায় খোঁজখবর রাখে, এটা নিয়ে বিতর্ক হোক, তা আমরা চাই না।

 

ফুটবলে বাতিল হচ্ছে হেড!

 

ফুটবলের একটি পরিচিত দৃশ্য হচ্ছে হেড করা। এই যেমন এক সতীর্থের করা ক্রস বা কর্ণার শটকে হেড করে গোলপোস্টের জালে ঢুকিয়ে দেওয়া! তবে এখন যদি বলা হয় হেড করা বাতিল করা হবে। কারণ হেড করা মস্তিস্কের জন্য মারাত্নক ক্ষতিকর। এর ফলে মৃত্যুও হতে পারে!

কথাটি কি বিশ্বাস হচ্ছে না? সত্যি সত্যিই কিন্তু এমন দাবি উঠেছে। আর সেই দাবি কিন্তু যে কেউ করেন নি। দাবিটি খোদ আঘাতের কারণে মস্তিষ্কের রোগ ক্রনিক ট্রমাটিক সেফালোপ্যাথির (সিটিই) আবিষ্কারক ড. বেনেট ওমালুর। তিনি বলেন সেটি না হলে অন্তত হেডের ক্ষেত্রে কিছু সীমারেখা টেনে দিতে হবে। আর অনূর্ধ্ব-১৮ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে হেড পুরোপুরি বাতিলের কথাও বলেছেন তিনি।

ফুটবলারদের মস্তিষ্কের সমস্যার জন্য হেডকে দায়ী করেছেন ওমালু। অবসর নেওয়ার পর অনেক খেলোয়াড়ই মস্তিষ্কের নানা সমস্যায় ভুগে থাকেন। এর কারণ হিসেবে খেলোয়াড়ি জীবনে ক্রমাগত হেডকে দায়ী করেছেন তিনি। হেড বাতিলের আবেদন করে ওমালু বলেন, ‘প্রচণ্ড গতিতে ছুটে আসা কোনো কিছু মাথা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার ব্যাপারটি অর্থহীন। অন্তত পেশাদার ফুটবলে হেড নিষিদ্ধ করা উচিত। এটা বিপজ্জনক।’

বিবিসি রেডিও ফাইভ-এর সঙ্গে আলাপচারিতায় এসব কথা বলেছেন ওমালু। নাইজেরিয়ান বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের এই চিকিৎসক খুদে ফুটবলারদের জন্য হেড নিষিদ্ধ করার দাবিও তুলেছেন, ‘আঠারো বছরের নিচে কারও হেড করা উচিত নয়। অনূর্ধ্ব-১২ কিংবা অনূর্ধ্ব-১৪ বছর বয়সীদের জন্য এমন ফুটবল খেলা উচিত যা শারীরিকভাবে কম সংঘাতপূর্ণ। এটা আমাদেরই তৈরি করতে হবে। ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সীরা ফুটবল খেলতে পারে তবে হেড করা যাবে না।’

ফুটবলে হঠাৎ করে হেড বাতিল হওয়াটা কেমন অদ্ভুতুড়ে না? এর পক্ষে-বিপক্ষে নানা যুক্তি-তর্ক হবে, চলবে বিতর্ক। ওমালু তা বুঝতে পেরেই একটি ব্যাপার মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ‘মানুষের জন্য ব্যাপারটা (হেড বাতিল) মেনে নেওয়া কঠিন হবে কিন্তু এভাবেই বিজ্ঞানের বিকাশ ঘটেছে। আমরা সময়ের সঙ্গে পাল্টাই। সমাজও বদলে যায়। তাই কিছু পথ পাল্টানোর সময়টা এখনই।’

ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডের সাবেক ফুটবলার জেফ অ্যাস্টলের মৃত্যুর কারণ উদ্‌ঘাটিত হওয়ার পর হেড নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে ইউরোপিয়ান ফুটবলে। টানা ১০ বছর আলঝেইমার রোগে ভোগার পর ২০০৪ সালে মারা যান অ্যাষ্টল। পরে তাঁর মৃত্যুর কারণ নিয়ে গবেষণায় দেখা যায়, মস্তিষ্কে ক্রমাগত আঘাতের (সিটিই) জন্যই আসলে মারা গেছেন অ্যাস্টল। যার পেছনে দায়ী মূলত চামড়ার ভারী ফুটবল। তা ছাড়া মস্তিষ্কে ক্রমাগত আঘাত আলঝেইমার রোগের জন্যও দায়ী। মুষ্টিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে এমন রোগে ভোগার প্রবণতা বেশি।

Related Articles

Close