আন্তর্জাতিক ফুটবলচ্যাম্পিয়ন্স লীগফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০১৮

রোনালদোর বিদায়ে হাল ধরতে উচ্ছ্বসিত বেনজেমা

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো চলে গেছেন জুভেন্টাস এ। মাদ্রিদ বস পেরেজ এখনো তেমন কোন নামী ফুটবলার কেও কেনেনি। সেক্ষেত্রে আক্রমণ এর মূল নেতৃত্বে থাকবেন বেল এবং বেনজেমা। সাথে আছেন ইসকো এবং এসেনসিও। রোনালদো না থাকায় নাম্বার নাইন বেনজেমাই যে মাদ্রিদ এর সেরা স্ট্রাইকার বলার অপেক্ষা রাখেনা।

রোনালদোর চলে যাওয়া শাপে বর হয়েছে বেনজেমার। তার কথাতেও বোঝা গেল কতটা উচ্ছ্বসিত সে। আত্মবিশ্বাস এর সাথে আছে চমক দেখানোর উচ্ছ্বাস।

করিম বেনজেমা বলেন, “আমাদের সর্বপ্রথম কাজ হলো টাইটেল জেতা কারণ এখানে সবসময় আমাদের প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে একসাথে দলগতভাবে কাজ করে জিততে থাকা। ব্যাক্তিগত ভাবে আমি গতবছরের তুলনায় ভালো করতে চাই ও আমাকে কাজ চালিয়ে যেতে হবে যেহেতু আমি এই ক্লাবে আরো ইতিহাসের অংশ হতে চাই।”

তিনি আরও বলেন,
“আমরা এই প্রি সিজনে প্রচুর পরিশ্রম করছি ও কাজ ভালোভাবে এগোচ্ছে। আমরা জানি যে আমাদের কাজটা ডিমান্ডিং কিন্তু তবে ঠিকঠাকভাবে কাজ করতে পারলে তা আমাদেরকে পুরো মৌসুমে সাহায্য করবে।”

“আমরা জানি যে তিনি এমন একজন কোচ যে কিনা বলটি বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পছন্দ করেন, তিনি পজেশন বেজড ফুটবল পছন্দ করেন।একই সঙ্গে তিনি আমাদেরকে পজেশন ছাড়া কিভাবে কাজ করতে হবে তার উপর জোড় দেন, বলের দখল হারিয়ে যাওয়ার পর কিভাবে প্রেশার ক্রিয়েট করে আবার বলের দখল নিতে হবে তা নিয়ে তিনি কাজ করাচ্ছেন।”

“আমি কখনো ভাবিনি যে এই ক্লাবের হয়ে এতকিছু জিততে পারবো, তবে আমি টাইটেল জয়, সাফল্য অর্জন ও আরো অনেক কিছুর জন্যই এই ক্লাবে সাইন করেছিলাম। আমি জানতাম যে একটা সময় হয়তো কিছু কঠিন সময় পার করতে হবে তবে আমি মাইন্ড করছি না কারণ এটা হচ্ছে বিশ্বের সেরা ক্লাব। আমি খুব সুখেই আছি।”

নিজেকে চেনানোর এর চেয়ে বড় সুযোগ আর হয়না। এখন অপেক্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার।

 

সাব্বির-সৈকতদের ব্যর্থতার জন্য কে দায়ী?

টিম ম্যানেজমেন্ট জুনিয়রদের কয়টি ম্যাচে টপ অর্ডারে পারফর্ম করার সুযোগ দিয়েছে? লিগ কাপানো খেলোয়াড়রা, যারা তিন বা চারে খেলে অভ্যস্ত তাদের জোর করে হার্ডহিটার বানানোর প্রচেষ্টায় কখনো সাত বা আটেও খেলানো হয়েছে। তারওপর যে বড় ফরম্যাটে ভালো তাকে টি২০ তে খেলানো হয়েছে। আবার কয়েকজনকে তো নির্বাচকেরা এক ম্যাচ বা এক সিরিজ দেখেই বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছেন। যেমন রনি তালুকদার, মুক্তার আলী সহ আরো বেশ কয়েকজন।

মোসাদ্দেকের টেস্ট অভিষেকে তাকে যখন আট নাম্বরে নামানো হলো তখন ডিন জোন্স তার টেকনিক দেখে বলেছিলো, ‘এটা অপরাধ যখন আপনি এমন টেকনিকের কাউকে আটে ব্যাট করতে পাঠান।‘ একই কথা রনি তালুকদার, নাসির হোসেন সহ বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আবার মিরাজকে ব্যাটিং অলরাউন্ডার থেকে জোর করে বোলার বানানো হলো। সাইফুদ্দিনকে প্রস্তুত হওয়ার আগেই অভিষেক করানো হলো। আবার কয়েক ম্যাচ খারাপ করায় পরিচর্যা ব্যাতিত ছুড়ে ফেলা হলো।

সবচেয়ে আশ্চর্য আমরা এত বছর ধরে ক্রিকেট খেলার পরও ভালো মানের কয়েকজন হার্ডহিটার, লেগী, সিমিং অল রাউন্ডার ও ১৪০-১৪৫ কিমিতে বল করা দশজন পেসার তৈরি করতে পারলাম না। সেই সঙ্গে নতুন কাউকে পেলে পুরোনোদের গতি ১২৮-১৩০ এ চলে আসে! তবে এতে একদিকে যেমন বিসিবির কোচিং প্যানেল দায়ী অন্যদিকে ক্লাবগুলোও দায়ী।

আমাদের ঘরোয়া লিগের উইকেট, মিরপুরের মাঠ অধিক ব্যবহার, ঘরোয়া লিগের মাঠ সল্পতা, বাজে আম্পায়ারিং, অসম টুর্নামেন্ট পরিচালনার পদ্ধতি, পুরোনো কোচিং সিস্টেম, খেলোয়াড় খোজায় অনিয়ম এবং ২য় ও ৩য় বিভাগের অসম দুর্নীতি। এত সমস্যার কোনো প্রতিকার নেই। আছে শুধু বোর্ড কর্তাদের বড় বড় বুলি। তারওপর হিথ স্ট্রিক যাওয়ার পর গত দুই বছরের পেসারদের করুন অবস্থাতো আছেই। এর সঙ্গে আছে বিশ্বকাপের মত বড় আসরের আগে হেডকোচ ব্যতিত আট মাস কাটানো।

আর বিসিবির অদুরদর্শীতার কথা বাদই দেয়া যাক। এখনো তো আরেকজনের রোপন করা গাছের ফল বিক্রি করে নিজেদের যোগ্যতা দেখাচ্ছে। সাত/আট বছর পর যখন পুরোনো গাছগুলো ফল দেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। তখন আরো দশ বছর আফসোস করেও কূল-কিনারা পাওয়া যাবে না। তখন খালি চিন্তা করবে কেনো পুরোনো গাছ থাকতে নতুন চারা রোপন করলাম না।

Related Articles

Close