আন্তর্জাতিক ফুটবলফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০১৮ফুটবল

থাইল্যান্ডের কিশোর ফুটবলারদের জয় উৎসর্গ করলেন পগবা

থাইল্যান্ডের গুহায় কিশোর ফুটবলারদের আটকে পড়ার ঘটনায় গত কয়েকদিন ধরে উৎকণ্ঠায় ছিল পুরো বিশ্ব।

অবশেষে এক অভিযানের মাধ্যমে গুহা থেকে মুক্তি মিলেছে আটকে পড়া ফুটবল দলটির। এতটা সময় গুহার ভিতরে কি ঝুঁকিতেই না ছিল ক্ষুদে ওই ফুটবলাররা! তবু তারা সাহস হারায়নি।

উদ্ধার হওয়া কিশোরদের এই সাহসের প্রশংসাই ঝড়ে পড়ল ফ্রান্সের তারকা ফুটবলার পল পগবার কণ্ঠে। শুধু প্রশংসাই নয়, মঙ্গলবার রাতে বেলজিয়ামের বিপক্ষে উত্তেজনাপূর্ণ সেমিফাইনালে পাওয়া ফ্রান্সের জয়টাকেও এই কিশোরদের উৎসর্গ করেছেন ম্যানইউ ফরোয়ার্ড।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে স্যামুয়েল উমতিতির দুর্দান্ত এক হেডে গোল পেয়ে যায় ফ্রান্স। শেষপর্যন্ত ওই এক গোলেই ফাইনালে নাম লিখিয়েছে দিদিয়ের দেশমের দল। টানটান উত্তেজনার সেমিফাইনাল জিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস আর আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছেন ফরাসি ফুটবলাররা, যার বেশিরভাগই ম্যাচ সম্পর্কিত কথা-বার্তা। তবে পগবা এই জায়গায় একটু আলাদা।

ইনস্টাগ্রামে পগবা পোস্ট করেছেন গুহা থেকে উদ্ধার হওয়া ১২ কিশোরের ছবি। যেখানে তিনি লিখেছেন, ‘এই জয়টা উৎসর্গ করছি দিনের নায়কদের, অভিনন্দন ছেলেরা, তোমরা আসলেই অনেক শক্তিধর।’

উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন জন্মদিন পালন করতে ১১ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১২ জনের একটি ফুটবল দল থাইল্যান্ডের থ্যাম লুয়াং নামক গুহায় প্রবেশ করে। এ সময় ওই কিশোরদের সঙ্গে ২৫ বছর বয়সী কোচও ছিলেন। তারা গুহায় প্রবেশের পরই বৃষ্টি শুরু হয়। গুহাতে পানি প্রবাহিত হতে থাকে। তারা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে গুহার গভীরে চলে যায় এবং সেখানে টানা ১৭ দিন আটকা থাকে। পরে তাদের সন্ধান পাওয়া গেলে তাদের উদ্ধার অভিযানে দুই সপ্তাহ ধরে নানা প্রস্তুতি নেওয়া হয়। টানা তিনদিন শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার উদ্ধার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এই ১৩ জনের। একই দিন বেলজিয়ামকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে ফ্রান্সের।

 

বেলজিয়ামকে ডুবিয়ে ফ্রান্সের জয়ের নায়ক কে এই উমতিতি?

সেমিফাইনালে শুধু একটা গোল করেননি উমতিতি। ষষ্ঠ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত বেলজিয়াম। কিন্তু ফ্রান্সের ডি-বক্সে হ্যাজার্ডের নিচু শট কর্নারের বিনিময়ে ক্লিয়ার করেন উমতিতি। গোলের পাশাপাশি হাজার্ড ও ডি ব্রুইনদের আক্রমণকেও ভেস্তে দেন তিনি। আর লুকাকুকে তো বল নিয়ে টানারই সুযোগ দেননি উমতিতির নেতৃত্বে ফরাসি ডিফেন্ডাররা। বেলজিয়ামকে হারিয়ে ১২ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে ১৯৯৮ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। আর তাদের এই জয়ের নায়ক স্যামুয়েল উমতিতি।

ম্যাচের ১৮তম মিনিটে কর্নার থেকে পাওয়া বলে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন তিনি। পরে বেলজিয়ায় চেষ্টা করেও আর সেই গোল পরিশোধ করতে পারেনি। তাই এমবাপ্পে, পগবা ও গ্রিজম্যানরা অসাধরণ খেললেও ম্যাচ সেরার পুরস্কার উঠেছে সেই উমতিতির হাতে। তা কে এই উমতিতি?

উমতিতি ফ্রান্সের সেন্টার ব্যাক হিসেবে খেলে থাকেন। যিনি প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানোর মূল দায়িত্বে থাকেন। ব্রাজিলের দিয়াগো সিলভা এবং আর্জেন্টিনার
ম্যাসচেরানোকেও একই ভূমিকায় দেখা যায়। যদিও ম্যাসচেরানো মিডফিল্ডার হিসেবেও খেলে থাকেন।

উমতিতি বিশ্বের তারকা ডিফেন্ডারদের একজন। খেলেন স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনায়। এতেই বোঝা যায় তিনি কতটা ভয়ংকর। ২০১৮ সালে ইএসপিএন এফসি সাংবাদিক স্যাম মারসডেন উমতিতিকে সাহসী ডিফেন্ডার হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

Related Articles

Close