আন্তর্জাতিক ক্রিকেটক্রিকেট

এবার ধারাভাষ্যকারের দায়িত্ব পালন করবেন ওয়ার্নার

বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারিতে আন্তর্জাতিক ও অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ আছেন ডেভিড ওয়ার্নার। এই নিষেধাজ্ঞায় ক্রিকেট খেলতে বাধা থাকলেও ধারাভাষ্যে বাধা নেই। অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন সহ-অধিনায়ককে তাই অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজে ধারাভাষ্যে দেখা যাবে।

চ্যানেল নাইনের হয়ে ধারাভাষ্য দেবেন ওয়ার্নার। ইংল্যান্ড সফরে অস্ট্রেলিয়ার পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে ১৩ জুন। ওয়ার্নার ১৬ জুন কার্ডিফে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে চ্যানেল নাইনের ধারাভাষ্য প্যানেলে যোগ দেবেন।

ওয়ার্নারকে নিয়ে চ্যানেল নাইনের ডিরেক্টর টম ম্যালন বলেছেন, ‘গত এক দশক ধরে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির সেরা ব্যাটসম্যান ওয়ার্নার। সবকিছুর (বল টেম্পারিং) জন্য মানুষ তাকে খলনায়ক মনে করে। কিন্তু অন্যদের মতো সে নিজেও কষ্ট পেয়েছে।’

‘ওয়ার্নারের সঙ্গে আমাদের পেশাদার সম্পর্কটা পাঁচ বছর হয়ে গেল। আমরা সব সময় তাকে স্বাভাবিক ও নম্র একজন হিসেবেই পেয়েছি। সে তার ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছে এবং এগিয়ে যেতে চায়। আশা করি, অস্ট্রেলিয়া সব সুযোগ তাকে দেবে’- যোগ করেন টম ম্যালন।

ওয়ার্নারের এক বছরের নিষেধাজ্ঞার ৩ মাস এরই মধ্যে পার হয়ে গেছে। এ মাসের শেষ দিকে তিনি প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরবেন। ইংল্যান্ডে ধারাভাষ্য মিশন শেষে নিষিদ্ধ সতীর্থ স্টিভ স্মিথের সঙ্গে তিনি কানাডায় গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি লিগে খেলতে যাবেন। যেটি শুরু হবে ২৮ জুন।

কানাডায় উইনিপেগ হকসের হয়ে খেলবেন ওয়ার্নার। এরপর জুলাইয়ে ডারউইনে খেলবেন নর্দার্ন টেরিটরির স্ট্রাইক লিগে। ওয়ার্নার সেখানে মাত্র দুটি ম্যাচে খেলবেন। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারিতে নিষিদ্ধ হওয়া তৃতীয় ক্রিকেটার ক্যামেরন ব্যানক্রফট পুরো টুর্নামেন্টেই খেলবেন।

সম্প্রতি চ্যানেল নাইনের সঙ্গে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চার দশকের সম্প্রচার চুক্তি ছিন্ন হয়ে গেছে। বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নতুন সহযোগী হয়েছে সেভেন নেটওয়ার্ক ও ফক্স স্পোর্টস। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও চ্যানেল নাইনের ২০১৩ সালের চুক্তির অংশ হিসেবে নাইন ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশেজ সফর ও সীমিত ওভারের সিরিজ সম্প্রচার করবে।

মারামারি নয়, সাব্বির বলছেন ভুল বোঝাবুঝি

আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি চলার সময় ড্রেসিংরুমে মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েছিলেন সাব্বির রহমান। উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় গড়ায় মারামারি পর্যন্ত।

সাব্বির-মিরাজের ঝগড়ার বিষয়টি ধরা পড়ে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে দেরাদুনে যাওয়া বোর্ডের এক কমর্কর্তার চোখে। শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে তিন ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ শেষ ম্যাচে দল থেকে বাদ পড়েন সাব্বির।

জুনিয়র সতীর্থের সাথে গণ্ডগোলের এমন খবরে দিনভর উত্তাল ছিল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো। চলেছে নিন্দা ও সমালোনার ঝড়।

ঘটনার একদন পর মিরাজকে সাথে নিয়ে ফেসবুক লাইভে আসেন সাব্বির। জানালেন, মারামারি নয়, পুরো বিষয়টা ছিল ভুল বোঝাবুঝি। হাস্যোজ্জ্বল মিরাজ এসময় সাব্বিরের পাশেই ছিলেন।

নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে এ প্রসঙ্গে সাব্বির বলেন, ‘আজকে যার সাথে আমি লাইভে এসেছি, স্টার বয় মেহেদী হাসান মিরাজ। ছোটভাই আমার। আসলে একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে আমাদের মধ্যে। আপনারা হয়তো শুনেছেন, দেরাদুনে আমাদের মধ্যে একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। অনেক সময় এরকম হয়, পরিবারে ছোটোখাটো গণ্ডগোল বা ভুল বোঝাবুঝি হয়। এটা পরিবারের মধ্যেই শেষ হওয়া ভালো।’

সাব্বির আরও বলেন, ‘আসলে বড় হয়ে যে কাজটা ওর সাথে হয়েছে সেটা উচিত হয় নাই। সবসময়ই চেষ্টা করি, ছোট ভাইদের ভালোবাসার, স্নেহ করার। একজন ছোটভাই হিসেবে ওর সাথে আমার অনেক ভালো সম্পর্ক। ওর বাসায় এসেছি, ডিনারে ইনভাইট করেছে, ডিনার করতে এসেছি। আর যেটা হয়েছে সেটা হিট দ্য মোমেন্ট। কিছু বলার নেই।’

চুপ থাকেননি মিরাজও। তিনি বলেন, ‘আসলে অনেকের অনেক নেগেটিভ ধারণা। অনেক মানুষ অনেক মন্তব্য করছে। আসলে তেমন কিছুই না। আমার কাছে মনে হয়, অনেক সময় একসাথে থাকলে অনেক বিষয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এটা এরকমই। অনেকে অনেকরকম মন্তব্য করেছে। অনেকে বলেছে, আমার সাথে সাব্বির ভাইয়ের মারামারি হইছে। তেমন কিছুই না। সাব্বির ভাই আমাকে অনেক আদর করে, অনেক ভালোবাসে। অনেক আগে থেকেই।’

এসময় মিরাজকে থামিয়ে সাব্বির বলেন, ‘ওর সাথে আমার ৮/৯ বছরের পরিচয়। যখন ও অনূর্ধ্ব- ১৩ দলে খেলে তখন ওর সাথে আমার পরিচয় হইছে। এটা লম্বা সময়ের বন্ধুত্ব। এটা ছোটভাই বড়ভাই বন্ধুত্ব। এটা অনেক বড় বন্ধুত্ব। এর চেয়ে বড় কিছু নাই। অনেক সময় যেটা নেগেটিভলি আসে, আমার ওর সাথে মারামারি বা হাতাহাতি হইছে। তেমন কিছুই হয় নাই। আমরা একটা ভুল বোঝাবুঝির মধ্যে ছিলাম। মারামারি হইলে তো আমি ওর সাথে থাকতে পারতাম না। ও আমাকে দাওয়াত দিত না। পরিবারের মধ্যে অনেক সময় ছোটভাই, বড়ভাই গণ্ডগোল হয়। এটা আবার ঠিকও হয়ে যায়। আমরাও ওই মুহূর্তে ঠিক হয়ে গেছি। যেটা ভাইরাল হয়েছে, আমরা মারামারি করেছি এটা ভুল। মারামারি করলে তো আর দুইজন একসাথে থাকতে পারতাম না। যেটা হয়েছে হয়ে গেছে।

Related Articles

Close