ক্রিকেটবাংলাদেশ ক্রিকেট

দ্বিধায় দর্শকরাও, বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ম্যাচে রানের গড়মিল

আফগানদের বিপক্ষে ব্যাটে-বলে তেমন লড়াইও করতে পারল না টাইগাররা। ম্যাচে মুশফিক-লিটন দাশের জুটিতে একটা লড়াই জমে উঠার একটা আভাস পাওয়া যাচ্ছিল।

কিন্তু রশিদ খানের অসাধারণ স্পেল সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে দেয় টাইগার ব্যাটিং লাইনআপকে। বিপরীতে ব্যাটিং-বোলিং ও ফিল্ডিং নৈপুণ্যে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিশাল ব্যবধানে সিরিজের প্রথম ম্যাচ ৪৫ রানে জিতে নিল আফগানরা।

আজকের এই ম্যাচে ১৬৮ রানের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাট করতে নামলে খেলা যখন ১০ ওভার তখন থেকে টিভি এবং ক্রিকেটের জনপ্রিয় ওয়েব সাইট ক্রিকইনফোর রানের অমিল দেখা যায়। টিভিতে যে রান দেখায় তার থেকে দুই রান বেশি দেখাতে থাকে ক্রিকইনফো। দুই তিন ওভার রানের এমন গড়মিল দেখে খেলা দর্শকরাও দ্বিধায় মধ্যে পড়ে যায়।

পরে অবশ্য বিষয়টি বুঝতে পেরে ১৪ ওভারের সময় সংশোধন করা হয়। এর পরেও একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে রানের এমন গড়মিল কোন ভাবেই কাম্য নয়।

 

এখন কি হবে বাংলাদেশের?

 

আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগে টাইগার শিবিরে সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ ছিলেন রশিদ খান। এই তরুণ লেগ স্পিনার একাদশ আইপিএলে ঘূর্ণিঝড় তুলেছেন। হায়দরাবাদে সাকিবের সতীর্থ ছিলেন তিনি। তবু রশিদকে নিয়ে ‘প্যানিক্ড’ না হতে বলেছিলেন সাকিব। কিন্তু আজ প্রথম টি-টোয়ন্টিতে রশিদ খান আর শাপুর জারদান হয়ে উঠলেন বাংলাদেশের বড় প্রতিপক্ষ। দুজনে মিলে ৩টি করে উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসিয়ে দিলেন। সাকিব আল হাসানের দল হারল ৪৫ রানের বড় ব্যবধানে! এখন কি হবে বাংলাদেশের?

১৬৮ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম বলেই এলবিডাব্লিউ হয়ে ফিরে গেলেন দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল (০)। শিকারী ঘূর্ণি জাদুকর মুজিব উর রহমান। দ্বিধা নিয়ে ফুল লেংথ বল খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন তামিম। অপর ওপেনার লিটন দাসের সঙ্গী হন অধিনায়ক সাকিব। কিন্তু ১৫ বলে ১৫ রান করে মোহাম্মদ নবির বলে উদ্ভট শট খেলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

২১ রানে ২ উইকেট হারানোর পর হাত খুলে খেলতে থাকেন লিটন দাস। তার সঙ্গী মুশফিকুর রহিমও তাল মিলিয়ে খেলতে থাকেন। দুজনে মিলে গড়েন ৪৩ রানের জুটি। দারুণ খেলতে থাকা লিটন দাস নবির দ্বিতীয় শিকার হলে জুটি ভাঙে। ২০ বলে ৩ চার ১ ছক্কায় ৩০ রান করেন লিটন। এরপর আবারও ধস শুরু হয়। বল হাতে ভয়ংকর হয়ে ওঠেন রশিদ খান। ১১তম ওভারে পরপর দুই বলে ফিরিয়ে দেন মুশফিক (২০) এবং সাব্বির রহমানকে (০)।

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের নাম্বার ওয়ান বোলার রশিদ এরপর ফেরান মোসাদ্দেককে। অনেকদিন পর ক্রিকেটে ফেরা এই অল-রাউন্ডার ২৩ বলে ১৩ রান করে রশিদকে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন। দলে ফেরা আরেক তরুণ আবুল হাসান ৫ রান করে শাপোর জারদানের বলে বোল্ড হন। পরের বলেই ক্যাচ দেন নাজমুল ইসলাম ‘নাগিন’ অপু। জারদানের দ্বিতীয় শিকার হন ২৯ রান করা মাহমুদ উল্লাহ। এক বল পরে বোল্ড হন রুবেল (০)। আবু জায়েদের বিদায়ে ১৯ ওভারে ১২২ রানে অল-আউট হয় বাংলাদেশ।

রশিদ খান ৩ ওভারে মাত্র ১৩ রানে নেন ৩ উইকেট। শাপুর জার্দান একটু বেশি রান দিলেও (৪ ওভারে ৪০) নেন সমান ৩ উইকেট। অল-রাউন্ডার মোহাম্মদ নবি ৪ ওভারে মাত্র ২১ রানে নেন ২ উইকেট। অন্যদিকে বাংলাদেশের সবচেয়ে খরুচে বোলার ৩ ওভারে ৪০ রানে ২ উইকেট নেওয়া আবুল হাসান। অন্যদিকে ১ ওভারে ১ রানে ২ উইকেট নিলেও মাহমুদ উল্লাহকে আর বোলিংয়ে আননেনি অধিনায়ক সাকিব!

এর আগে ভারতের দেরাদুনের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আফগানদের ‘হোম সিরিজ’ এর প্রথম ম্যাচে আজ রবিবার টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৭ রান সংগ্রহ করে আফগানিস্তান। স্বাগতিকদের উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদ এবং উসমান গনি। রুবেল হোসেনের বলে ২৪ বলে ২৬ করা গনি বোল্ড হয়ে গেলে ভাঙে ৬২ রানের ওপেনিং জুটি।

আফগান দূর্গে দ্বিতীয় আঘাত হানেন রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে থাকা অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডারের ঘূর্ণিতে ক্যাচ তুলে দেন উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান শাহজাদ। সাকিবকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে মাহমুদ উল্লাহর তালুবন্দি হন ৩৭ বলে ৪০ করা এই ওপেনার। এরপর নিজের প্রথম ওভার করতে এসে দ্বিতীয় বলেই নাজিবুল্লাআহ জারদানকে (২) রাহীর তালুবন্দি করেন মাহমুদ উল্লাহ। ওভারের চতুর্থ বলে তিনি মোহাম্মদ নবীর (০) স্টাম্প উড়িয়ে দেন।

এরপর সামিউল্লাহ শেনওয়ারি আর শফিকুল্লাহ মিলে ধুন্ধুমার ব্যাটিং শুরু করেন। ১৮ বলে ৩ চার ৩ ছক্কায় ৩৬ করে ফেলা শেনওয়ারি শিকার হন আবু জায়েদের। ৭ বলে ১ চার ৩ ছক্কায় ২৪ রান করা শফিকুল্লাহকে ইনিংসের শেষ ওভারের তৃতীয় বলে বোল্ড করেন আবুল হাসান। চতুর্থ বলটি ওয়াইড হওয়ার পরেও রান-আউট হয়ে যান স্তানিকজাই (২৫)। পঞ্চম বলে করিম জানাতকে (০) মোসাদ্দেকের তালুবন্দি করেন রাজু। নির্ধারিত ২০ ওভারের আফগানদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ১৬৭ রান।

Related Articles

Close