আন্তর্জাতিক ক্রিকেটক্রিকেট

কোচের জামাই হওয়ার যোগ্যতা অর্জন কর’, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের গিলক্রিস্ট

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের চরিত্র নিয়ে চারদিকে যখন আলোচনা, তখন তাদের ভালো হওয়ার একটা সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন গিলক্রিস্ট। তিনি বলছেন, ক্রিকেটারদের এমন চরিত্রের অধিকারী হওয়া উচিত যাতে তারা জ্যাস্টিন ল্যাঙ্গারের এক মেয়েকে বিয়ে করতে পারে!

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট এখন একটা পালা বদলের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। নিয়মিত অধিনায়ক, সহঅধিনায়ক বল টেম্পারিং করে নিষিদ্ধ হয়েছেন। কোচ লেহম্যান পদত্যাগ করার পর নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ল্যাঙ্গার।

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে ল্যাঙ্গার একজন পরিচ্ছন্ন মানুষ হিসেবে পরিচিত। দায়িত্ব নিয়ে দলের ভেতর সেই পরিচ্ছন্ন মনোভাব ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন।

কিংবদন্তি উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ফক্স স্পোর্টসের ‘ব্যাক পেজ লাইভ’ অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। সেখানেই রসিকতার ছেলে ক্রিকেটারদের ‘জামাই হওয়ার মতো’ চরিত্রের অধিকারী হওয়ার পরামর্শ দেন।

‘আপনারা জানেন ল্যাঙ্গার ক্রিকেটারদের কাছ থেকে সততা চায়। আসলে আমি শুনেছি সে ক্রিকেটারদের ততটুকু ভালো হতে বলেছে, যতটুকু হলে তার জামাই হওয়া যাবে,’ গিলক্রিস্ট হাসতে হাসতে বলেন, ‘তার চার মেয়ে। সুতারং সব কিছু নির্বাচনী পর্যায়ে রয়েছে।

 

ক্রিকেটকে ঘিরে ধরেছে অপরাধী চক্র

 

ক্রিকেটে দুর্নীতি এখন আর ম্যাচ ফিক্সিং কিংবা স্পট ফিক্সিংয়ে সীমাবদ্ধ নেই। এটা এখন ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিটি ভাগে ভাগে। সম্প্রতি আল জাজিরা টিভির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য। গত তিন বছরে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভারতের টেস্ট ম্যাচে দুর্নীতির খবর তুলে এনেছে তারা, যা কিনা নাড়িয়ে দিয়েছে আইসিসিকেও। তদন্ত চলছে, এখনও কোনো কিছু নিশ্চিত নয়। তবে আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিচার্ডসন স্বীকার করলেন, ক্রিকেটকে ঘিরে ধরেছে অপরাধী চক্র।

রিচার্ডসনের মতে, দুর্নীতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে টেস্ট ক্রিকেট। সেইসঙ্গে এখন এটা ঘরোয়া এবং জুনিয়র লেভেলের ক্রিকেটেও ছড়িয়ে পড়েছে, স্বীকার করেছেন তিনি। দুর্নীতি আগেও ছিল, এখনও আছে। রিচার্ডসন জানিয়েছেন, আইসিসির লড়াইটা তাই চলছে, চলবে।

আল জাজিরা টিভির ডকুমেন্টারিতে অভিযোগ উঠেছে, ভারতে অনুষ্ঠিত দুটি টেস্ট ম্যাচে ১০ ওভারের মতো সময়ে ইংল্যান্ডের তিনজন এবং অস্ট্রেলিয়ার দুইজন খেলোয়াড় বাজিগরদের কথামতো ধীরে রান করেছেন। টেস্ট দুটি হলো ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের ভারত সফরের সময় চেন্নাইতে এবং গত বছর রাঁচিতে বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির তৃতীয় টেস্ট।

শুধু খেলোয়াড়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই এই দুর্নীতি। এখন বাজিগররা ক্রিকেটের অন্য ক্ষেত্র যেমন গ্রাউন্ডসম্যানকে দিয়ে পিচের চরিত্র বদলের মতো কাজও করছেন। লন্ডনে বুধবার ২০১৯ বিশ্বকাপের এক ইভেন্টে রিচার্ডসন বলেন, ‘আমরা টপ লেভেলে কঠোরতা আরোপ করেছি বলে তারা এখন জুুনিয়র লেভেলের ক্রিকেট এবং অন্য জায়গা; যেমন কিউরেটর এবং গ্রাউন্ডসম্যানের দিকে নজর দিয়েছে। আমরা জানি সমস্যাটা কি। ধারাবাহিকভাবে এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। আমরা হাল ছাড়তে পারি না।’

রিচার্ডসন জানালেন, আল জাজিরা টিভির ডকুমেন্টারিটি দেখার পর শুরুতে শুধু রাগই লেগেছে তার। ক্রিকেটটা নষ্ট করার জন্য অপরাধী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে, মনে করছেন তিনি, ‘আমরা জানি, বিশ্বজুড়ে এমন অনেক ব্যক্তি এবং অপরাধী চক্র আছে যারা ক্রিকেটে ঢোকার চেষ্টা করছে। খেলোয়াড়দের, গ্রাউন্ডসম্যানদের ধরার চেষ্টা করছে। মনে রাখতে হবে, তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, চলে যাচ্ছে না। তাদের নির্মূল করতে আমরাও আমাদের কাজ করে যাচ্ছি।

Related Articles

Close