আন্তর্জাতিক ক্রিকেটক্রিকেট

এই সিরিজে অবশ্যই ভালো করতে হবে বাংলাদেশকে: ওয়ালশ

আগামী ৩রা জুন আফগানিস্তানের সাথে টি-২০ সিরিজে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। সেই সিরিজের আগে অনুশীলনে নেমে পড়েছে তামিম-মুস্ফিকরা। কিন্তু সেই সিরিজের আগে প্সেয়ারদের আলাদাভাবে কাঠগড়ায় আনলেন হেড কোচ ওয়ালশ।

ওয়ালশের মতে এই সিরিজে অবশ্যই ভালো করতে হবে বাংলাদেশকে। ওয়ালশ বলেন ,’ আমি আরেকবার যুক্ত হতে পেরে উজ্জীবিত। আমাদের ভালো মানের ক্রিকেট খেলা প্রয়োজন, ঠিক শ্রীলঙ্কা সফরের মতো। কয়েকটি নির্দিষ্ট জায়গায় আমাদের উন্নতি দরকার।

ওয়ালশ আরো বলেন ,’তাদের ভালোমানের খেলোয়াড় আছে। কিন্তু আমরা ফোকাস করবো আমাদের শক্তি এবং দুর্বলতার দিকে। যে পরিকল্পনা আমাদের জন্য উপযুক্ত হয়, সেটাই আমরা নিব।

 

মোস্তাফিজদের বোলিং ভাবাচ্ছে কোর্টনি ওয়ালশকে

পারিবারিক কারণে ঢাকায় আসতে কোর্টনি ওয়ালশের একটু দেরি হয়েছে। কাল থেকে দলে যোগ দেওয়া ক্যারিবীয় কিংবদন্তির চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বৃষ্টি। প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি বাগড়ায় ব্যাহত হচ্ছে দলের নিবিড় অনুশীলন। আজ যেমন দুই দলে ভাগ হয়ে একটা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা ছিল তামিম-মুশফিকদের। বৃষ্টির কারণে সেটি হয়নি। বৃষ্টির চিন্তাটা অবশ্য সাময়িক। এটির চেয়ে ওয়ালশের বড় চিন্তা পেসাররা।

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে ওয়ালশ বাংলাদেশ দলে যোগ দিয়েছিলেন পেস বোলিং কোচ হিসেবে। চন্ডিকা হাথুরুসিংহের বিদায়ের পর কোচ খুঁজে না পাওয়ায় বোলিং কোচ ওয়ালশকে দিয়ে ‘ঠেকা কাজ’ চালিয়ে নিচ্ছে বিসিবি। কোচ সন্ধানে এখনো যে অগ্রগতি, ওয়ালশের কাঁধেই থাকছে আফগানিস্তান সিরিজের দায়িত্ব। নিদাহাস ট্রফিতে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব অবশ্য খারাপ করেননি। ক্যারিবীয় কিংবদন্তির আশা আগামী মাসে আফগানিস্তান সিরিজেও দুর্দান্ত খেলবে বাংলাদেশ, ‘আবারও যুক্ত হতে পেরে খুব ভালো লাগছে। আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে, যেটা শ্রীলঙ্কায় করেছি। কিছু জায়গায় আমাদের উন্নতি করা দরকার। আশা করি, একটা সফল সিরিজ হবে আমাদের। যদি আত্মতুষ্টিতে না ভুগি আর কী করতে হবে, সেটিতে পূর্ণ মনোযোগ থাকে তাহলে মনে করি আমরা আমাদের সামর্থ্যের সেরাটা দিতে পারব।’

দলীয় পারফরম্যান্স তো আছেই। ওয়ালশকে ভাবতে হচ্ছে পেস বোলিং আক্রমণ নিয়েও। গত জুনে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পর সবশেষ নিদাহাস ট্রফি—পেসাররা সাফল্য পাননি বলার মতো। ওয়ালশের মতো ক্রিকেট-মস্তিষ্ক যে ড্রেসিংরুমে, কেন মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, রুবেল হোসেনরা পারছেন না ধারাবাহিকভাবে সফল হতে? অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে সফল হতে পারেন। কিন্তু ওয়ালশের মূল যে দায়িত্ব, সেই পেস বোলিং কেন ধারালো হচ্ছে না? ক্যারিবীয় কিংবদন্তিও যে পেসারদের নিয়ে চিন্তিত সেটি আজ তাঁর কথাতেই বোঝা গেল, ‘বোলিং বিভাগটা আরেকটু ধারাবাহিক হলে ভালো লাগত, বিশেষ করে ফাস্ট বোলাররা। সবশেষ দুই সফরে তারা ধারাবাহিক ছিল না। ওরা চারজনই (আফগানিস্তান সিরিজে দলে থাকা চার পেসার) দুর্দান্ত খেললে খুব ভালো লাগবে।’

টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে, খেলবে নিজেদের পরিচিত কন্ডিশনে, তাদের বোলিং আক্রমণও বেশ শক্তিশালী—বাংলাদেশ দলের অনেক খেলোয়াড় আফগানিস্তানকে এগিয়ে রাখছেন। পেসারদের নিয়ে চিন্তিত হলেও ওয়ালশ আফগানদের নিয়ে খুব একটা ভাবতে চান না, ‘তাদের দলে ভালো খেলোয়াড় আছে। তবে আমরা আমাদের শক্তি ও দুর্বলতায় মনোযোগ দেব। আমাদের সঙ্গে মানানসই এমন পরিকল্পনা নিয়েই আমরা এগোব। তাদের নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নই। যদি নিজেদের সেরাটা দিতে পারি, তবে সুযোগ থাকবে।’

এই সিরিজটা টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের উন্নতির সিঁড়ি হিসেবেও দেখছেন ওয়ালশ, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খুব বেশি দূরে নয়। একই সঙ্গে র‍্যাঙ্কিংয়েও আমাদের উন্নতি করতে হবে। আত্মতৃপ্তির সুযোগই নেই এখানে। সেখানে গিয়ে ভালো খেলতে হবে। সিরিজটা জিতে আসা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটা র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। এটা ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের আগে আত্মবিশ্বাসও জোগাবে।

Related Articles

Close