আইপিএলক্রিকেট

প্লে-অফে ডুকে যা বললেন বিরাট কোহলি

এবার কিংস ইলেভেনকে হারিয়ে ফের প্লে-অফের দৌড়ে ঢুকে পড়ল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর৷ শেষ দু’টি ম্যাচ বড় ব্যবধানে হারালে প্লে-অফের যাওয়ার ক্ষীণ আশা রয়েছে বলে মনে করেন রয়্যাল ক্যাপ্টেন বিরাট কোহলি৷ সোমবার হোলকার স্টেডিয়ামে কিংস ইলেভেন পঞ্জাবকে ১০ উইকেটে হারিয়ে চাঙ্গা বিরাটশিবির৷

কিংস বধের পর বিরাট বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ অন্য ম্যাচ গুলো ফের আমাদের একটা রাস্তা করে দিয়েছে৷ একটা সময় মনে হয়েছিল, টুর্নামেন্ট থেকে আমরা ছিটকে গিয়েছি কিন্তু অন্য ম্যাচ গুলির ফলে পয়েন্ট টেবল ফের ওপেন হয়ে যায়৷ শেষ দু’টি ম্যাচ জিতলে আমাদেরও একটা সুযোগ থাকবে, যদি আমরা নেট রান-রেট ভালো রাখতে পারি৷’

সোমবার ইন্দোরে অন্য বিরাট কোহলিদের দেখে রয়্যাল সমর্থকরা৷ বল হাতে প্রথমে কিংস ইলেভনকে ৮৮ রানে অল-আউট করে দেওয়ার পর কোনও উইকেট না-হারিয়ে রান তুলে ১০ উইকেট ম্যাচ জিতে নেয় কোহলি অ্যান্ড কোং৷ বোলিং, ফিল্ডিং এবং ব্যাটিং৷ তিন দিক থেকেই কিংস ইলেভেনকে পিছনে ফেলে হঠাৎ করেই ফের প্লে-অফের রাস্তায় ঢুকে পড়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স৷ বিরাটরা বড় ব্যবধানে জেতায় ফের তিন নম্বরে উঠে আসে কেকেআর ৷ সানরাইজার্স ১২ ম্যাচে ৯ জয়ে ১৮ এবং চেন্নাই ১২ ম্যাচে, ৮ জয়ে ১৬ প্লে-অফ নিশ্চিত করে ফেলেছে৷ বাকি দু’টি জায়গার জন্য লড়াই কেকেআর ১২ ম্যাচে,৬ জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে, রাজস্থান ১২ ম্যাচে, ৬ জয়ে ১২ পয়েন্ট, পঞ্জাব ১২ ম্যাচে,৬ জয়ে ১২ পয়েন্ট, মুম্বই ১২ ম্যাচে,৫ জয়ে ১০ পয়েন্ট ও ব্যাঙ্গালোরের ১২ ম্যাচে,৫ জয়ে ১০ পয়েন্ট ৷

ম্যাচ শেষে কোহলি বলেন, ‘ টস থেকেই আজকের দিনটা আমাদের কাছে পারফেক্ট ছিল৷ প্রথমে প্রতিপক্ষকে অল্প রানে বেঁধে রাখা, পরে ব্যাটিংয়ে সেরাটা দেওয়া৷ আমাদের হারানোর কিছু ছিল না৷ এই মানসিকতা নিয়েই আমরা মাঠে নেমেছিলাম৷ পরের ম্যাচটা জিতলে শেষ ম্যাচটা অত্যন্ত পূর্ণ হয়ে যাবে৷’ কিংসকে বড় ব্যবধানে হারানোয় রান-রেটে উন্নতি করে রয়্যালবাহিনী ৷ ১২ ম্যাচে বিরাটদের ১০ পয়েন্ট নিয়ে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের পর অর্থাৎ সাত নম্বরে রয়েছে আরসিবি ৷ শেষ দু’টি ম্যাচে বিরাটরা খেলবে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে ৷

 

২০১৬-তে সাকিবের সম্পদের পরিমাণ ছিল ২৭৬ কোটি, বর্তমানে তার সম্পদ কত জানেন ?

বাংলাদেশের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেটার হিসেবে আখ্যায়িত সাকিবের সম্পদের পরিমাণ ২০১৬ সালে ছিলো সাড়ে তিন কোটি ডলার, বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ ২৭৫ কোটি ৬১ লাখ ৭৮ হাজার ২৫০ টাকা।

ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকেট ট্র্যাকার সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে সাকিবের আয়ের এই তথ্য উঠে এসেছিল। বিশ্বের প্রায় সব বড় টি টোয়েন্টি লিগে খেলা সাকিবের বেতন, চুক্তির পাশাপাশি বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি কসমেটিকস, রেস্তোরাঁ ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবসায় জড়িত সাকিব।

গত বছর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে বেতন হিসেবে প্রতি মাসে সাকিব আল হাসান পেয়েছেন ২ লাখ ১০ হাজার টাকা করে। এ বছর ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা করা হচ্ছে তার বেতন। পারিশ্রমিক হিসেবে প্রতি ম্যাচে ফি পেয়েছেন লাখ টাকার উপরে।

এ ছাড়া দৈনিক ভাতা তো আছেই। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে সবচেয়ে বেশি আয় করেছেন সাকিব। ২০১১ সালে আইপিএলে সাকিবকে ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলারে কিনে নেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স।

২০১৬-২০১৭ সালেও কলকাতায় হয়ে খেলেছেন বাঁহাতি এ অলরাউন্ডার। ২০১৬ সালে সাকিবকে রেখে দেওয়ায় ২ কোটি ৮০ হাজার রূপি দিতে হচ্ছে কেকেআরকে। এ ছাড়া বাংলাদেশে বিপিএলেও সাকিবের আয় হয়েছে সবচেয়ে বেশি। বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছিলেন সাকিব। সর্বশেষ আসরে ঢাকা ডায়নামাইটস থেকে পেয়েছেন ৯০ লাখ টাকা।

আইপিএল ও বিপিএলের মতো পাকিস্তানের সুপার লিগেও সাকিব এগিয়ে। ২০১৬ সালে পিএসএলে প্লাটিনাম গ্রুপে সাকিব খেলেছেন করাচি কিংসে। এজন্য পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার। এ ছাড়া বিগ ব্যাশ, ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ, শ্রীলঙ্কান প্রিমিয়ার লিগ ও কাউন্টি ক্রিকেট থেকে হাজারো ডলার আয় করেছেন সাকিব।

২০০৯ সালে উইজডেন ম্যাগাজিনের সেরা টেস্ট ক্রিকেটার নির্বাচিত হন সাকিব। সে সময় বড় অঙ্কের অর্থ সাকিবের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। ক্রিকেটের বাইরেও সাকিবের আয় আকাশচুম্বি। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্যদূত হয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করছেন সাকিব।

পেপসি, ক্যাস্ট্রল, নর্টন এন্টিভাইরাস, বুস্ট, লাইফবয়, লা রিভ, লেনেভো, স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক, বাংলালিংক, রানার মোটরসাইকেল, জান এন জি আইসক্রিম, টিফিন বিস্কুটস, সিঙ্গার ইলেকট্রনিকসের বিজ্ঞাপনী দূত হিসেবে মোটা অঙ্কের অর্থ পেয়েছেন সাকিব।

ব্যক্তিগত ব্যবসাতেও সাকিব সফল। যমুনা ফিউচার পার্কে সাকিবের নিজস্ব কসমেটিকসের দোকান কসমিক জোভিয়ান, বনানীতে নিজের রেস্টুরেস্ট সাকিবস ডাইন এরই মধ্যে লাভের মুখ দেখেছে। প্রচুর আয় হচ্ছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দুটি থেকে। গত বছর ‘ফিয়েস্তা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডারের। বর্তমানে সাকিবের আয় ৩০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে (আনুমানিক)

Related Articles

Close