ফুটবল

দেখুন রোনালদোর চোট নিয়ে কি খবর দিলেন জিদান

লা লিগার শিরোপা আগেই নিশ্চিত করে ফেলেছে বার্সা। তাই মৌসুমের শেষ এল ক্লাসিকো ছিল শুধু মাত্র মর্যাদার লড়াই।

তবে রিয়াল মাঠে নেমেছিল লিভারপুলের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নেয়ার ম্যাচ হিসেবে। ম্যাচে রোনালদোর ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়ায় ফাইনালের আগে রিয়াল শিবিরে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

তবে এ নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন কোচ জিনেদিন জিদান। লিভারপুলের বিপক্ষে রোনালদোকে পুরোপুরি ফিট পাওয়া যাবে বলেই জিদানের বিশ্বাস। রিয়াল কোচ বলেন, ‘ওর সুস্থ হতে ঠিক কত দিন লাগবে, আমি এখনো জানি না। তবে ভয়ের কিছু নেই। রোনালদো নিজের মতো করেই ফিরবেন। ওর মতো খেলোয়াড়ের জন্য এটা মামুলি ব্যাপার।’

বার্সার মাঠে ম্যাচের ১১ মিনিটে গোল করে দলকে লিড এনে দেন সুয়ারেজ। তবে চার মিনিট পরই দলকে সমতায় ফেরান রোনালদো। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বেনজেমার হেডে বাড়ানো বল জালে জড়ান এই তারকা।

এরপরই ঘটে বিপত্তি। ম্যাচের ১৪ মিনিটে গোল করার সময় পড়ে গিয়ে গোড়ালিতে চোট পান রোনালদো। প্রথমার্ধের বাকি সময় খেলালেও বিরতির পর আর মাঠে নামেননি।

জিদান আরও বলেন, ‘ডাক্তারদের প্রতিবেদনের পরই চোটের বিষয়ে বলা যাবে। আমি যত দূর দেখেছি, ওর পায়ের গোড়ালিতে চোট লেগেছে। তবে চোট নিয়ে সে খুব একটা চিন্তিত নয়। সে বলছে, এটা বড় কিছু নয়।

 

‘খেপ’ খেলে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন জুবায়ের

তিনি এখন কোথাও নেই। না টেস্ট, না ওয়ানডে, না টি-টোয়েন্টিতে। আচ্ছা, জাতীয় দলের কথা না হয় বাদ থাকুক। ঘরোয়া ক্রিকেটেও তো নেই কোথাও। না ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ, না বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ, না জাতীয় ক্রিকেট লিগ, না বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ। সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে কোনো প্রতিযোগিতায় একটি ম্যাচ খেলার সুযোগও হয়নি তাঁর।

বাংলাদেশের ক্রিকেটাকাশে ধূমকেতুর উজ্জ্বলতা ছড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া জুবায়ের হোসেন এখন খসে পড়া এক তারকা। দ্যুতি হারিয়ে আঁধারে পথ হারানো এক লেগ স্পিনার।

অথচ বিশ্বক্রিকেটজুড়েই লেগ স্পিনারদের আলাদা কদর। বোলিংয়ের বিশেষ শাখার শিল্পী বলে তাঁদের আগলে রাখা হয় সর্বদা। জাতীয় দল তো বটেই, আইপিএলের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও লেগ স্পিনাররা অনেক সময় হয়ে ওঠেন অধিনায়কের তুরুপের তাস। বাংলাদেশ জাতীয় দল টেস্ট যুগে কখনো সেভাবে বিশেষজ্ঞ লেগ স্পিনার পায়নি। অকেশনাল লেগি অলক কাপালির পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট হ্যাটট্রিক আর ক্যারিয়ারের শুরুর অর্ধে মোহাম্মদ আশরাফুলের টুকটাক হাত ঘোরানো—বাংলাদেশের লেগ স্পিনের আলোচনা থেমে যায় এইটুকুতেই।

জুবায়েরের সন্ধানে তাই চকচক করে উঠেছিল বাংলাদেশের সাবেক কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহের চোখ। সেই পছন্দের মাত্রা বাড়াবাড়ি হওয়ায় নির্বাচকদের সঙ্গে শুরু হয়ে যায় টানাপড়েন। নিজেকে ঠিকভাবে তখন দেখভাল করতে পারেননি জুবায়ের নিজে; দায়িত্ব নেয়নি ক্রিকেট বোর্ডও। যে কারণে ছয় টেস্ট, তিন ওয়ানডে ও এক টি-টোয়েন্টিতে থমকে আছে ওই লেগ স্পিনারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। ঘরোয়া ক্যারিয়ারেও শেষ মৌসুমে খেলতে পারেন না কোনো ম্যাচ। ক্রিকেট-চর্চা অব্যাহত রাখার জন্য ‘খেপ’ খেলতে হচ্ছে জুবায়েরকে।

প্রতিভার অপমৃত্যু আর কাকে বলে!

জুবায়ের কাউকে দোষারোপ করছেন না। কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন নিজেকেই, ‘হয়তো আমার কোনো ভুল আছে যে কারণে আমাকে ঘরোয়া লিগে খেলাচ্ছে না। হয়তো টিম কম্বিনেশনের কারণে হোক বা যে কারণেই হোক আমার ওপর ভরসা করতে পারছে না। আমি কাউকে দোষ দেব না। হয়তো আমারই ভুল।’ সে ভুল শোধরানোর প্রত্যয়ও কাল ঝরেছে তাঁর কণ্ঠে, ‘আমার মধ্যে যদি ওই রকম প্রতিভা না থাকত তাহলে এত

দ্রুত জাতীয় দলে খেলার সুযোগ হতো না। প্রতিভা থাকলেও হয়তো আমার কিছু ঘাটতি ছিল। হয়তো পরিশ্রম কম করতাম। অনেকে বলার পরেও করতাম না অনেক কিছু। এখন বুঝতে পারছি যে আমার কী ভুলগুলো ছিল। দল থেকে বাদ পড়ার পর বুঝেছি, খারাপ সময় না এলে আসলে মানুষ ভালোটা বোঝে না। আবার সুযোগ এলে চেষ্টা করব ভুলগুলো না করতে।’

তাঁকে আত্মবিশ্বাস জোগায় ওই ‘প্রতিভা’। যাঁর গুণমুগ্ধের তালিকায় বিদেশিদের থাকার কথাও কাল জানান জুবায়ের, ‘এবার বিপিএলে ম্যাককালাম দেখে বলছে—‘তুমি কয়টা উইকেট পেয়েছ’। আমি যখন বললাম আমি কোনো দলে নাই তখন টম মুডিও অনেক কিছু জিজ্ঞেস করল; অবাক হলো। আমাদের মোহামেডানে বিপুল শর্মা বলছিল, তুমি আইপিএলে অনায়াসে খেলতে পারতে। এসব কথা আমাকে আত্মবিশ্বাস দেয়।’ কৃতজ্ঞতা তাঁর বিসিবির প্রতিও, ‘বোর্ড কিন্তু সব খেলোয়াড়কে ফ্যাসিলিটি দেয় না। আমাকে দিচ্ছে। আমি গত বছর ঘরোয়া লিগেও খেলিনি। তবু এইচপিতে রাখছে। তো বোর্ডের প্রতি আমি অনেক কৃতজ্ঞ যে তারা আমাকে সাহায্য করছে। আমার প্রতি তাদের যে প্রত্যাশা আমিও চেষ্টা করব সেটার মান রাখতে।’

জুবায়েরের এখন মূল সমস্যা ম্যাচ খেলার সুযোগ না পাওয়া। সে জন্য বিভিন্ন জায়গায় খেপ পর্যন্ত খেলছেন বলে জানালেন, ‘সবাই বলে আমার মধ্যে ভালো কিছু করার গুণটা আছে। যদি কঠোর পরিশ্রম করি, চেষ্টা করি ভালো কিছু দিতে পারব। আমার মূল যে সমস্যাটা আত্মবিশ্বাস, সেটায় একটু ঘাটতি আছে। যেহেতু ঘরোয়া লিগ খেলি নাই। আগে যেটা হতো ম্যাচ খেলা কম হতো, এখন ছোট-বড় যেখানেই পাই, ম্যাচ খেলছি। আত্মবিশ্বাস ফেরানোর জন্য।’

আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে যদি জুবায়েরকে ফেরানো যায়, তাতে মঙ্গল বাংলাদেশ ক্রিকেটেরই। চাইলেই তো আর গণ্ডায় গণ্ডায় লেগ স্পিনার তৈরি করা যায় না!

Related Articles

Close