ক্রিকেটবাংলাদেশ ক্রিকেট

বড় ধরণের সুসংবাদ পেলেন মিরাজ

বেশ বড় ধরণের এক সুসংবাদ পেয়েছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার মেহেদী হাসান মিরাজ। দীর্ঘদিন ধরে ‘পেলে-পুষে’ বড় করা ইনজুরিটা ভোগাচ্ছিল বেশ। পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকাকালীনই জেনেছিলেন, সেরে ওঠার জন্য লাগতে পারে অস্ত্রোপ্রচার।

তবে আপাতত মিরাজের কোনো অস্ত্রোপ্রচারের প্রয়োজন নেই। এতে তরুণ ক্রিকেটার খুঁজে পাচ্ছেন স্বস্তি। পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার শুরুতে বিসিবি চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, ডান কাঁধের এই ইনজুরি অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলার সময় থেকেই মিরাজকে ভোগাচ্ছে। চিকিৎসা করে ইনজুরিটি মোটামুটি ‘ম্যানেজেবল’ অবস্থায়ও ছিল। তবে সম্প্রতি সমস্যা দেখা দেয় থ্রোয়িংয়ে। দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে ইনজেকশন অথবা ফিজিওথেরাপি দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করার পরও ব্যথা না কমলে মিরাজকে যেতে হতো ছুরির নিচে।

তবে দেবাশীষ ও অভিজ্ঞদের সেই বিশেষ ‘প্রাথমিক ধাপের চিকিৎসা’য়ই সেরে উঠেছেন মিরাজ। ফলে লাগছে না কোনো অপারেশন, সার্জারি বা অস্ত্রোপ্রচার। রিহ্যাবের মধ্যে থাকা এই ক্রিকেটার এখন অনেকটাই ফিট।

বুধবার সংবাদমাধ্যমকে মিরাজ নিজেই জানান, সেরে ওঠার জন্য তার অস্ত্রোপ্রচার না লাগার বিষয়টি। তিনি বলেন, ইনজুরির স্থায়িত্ব নিয়ে যে ভয় ছিল সেটি বর্তমানে অনেকটাই কেটে গেছে। ফলে শতভাগ ফিট হয়ে ওঠা এখন কেবলই সময়ের ব্যাপার তার।

সামনে আফগানিস্তান সিরিজ, এর আগে পুরো সুস্থ হয়ে উঠার জন্য যথেষ্ট সময় দেখছেন মিরাজ। তার মতে, ফিজিওর নির্দেশনা এবং জিমনেশিয়ামে যথাযথ সময় দিলে আফগানিস্তান সিরিজের আগেই দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন তিনি।

এক মাসের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মিরাজ পেয়েছেন সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা। পরোক্ষভাবে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখনো সময় আছে। জিম আছে, মারিও (ভিল্লাভারানে, ফিজিও) আছেন। উনিও সহায়তা করছেন। বায়োজিদ ভাই ছিলেন, তিনিও সহায়তা করছেন। পুরো একমাস বায়োজিদ ও দেবাশীষ স্যার দু’জন আমাকে অনেক গাইড করেছেন। এখন জাতীয় দলের ক্যাম্প চলছে। আশা করি ভালোই হয়েছে। আশা করি, ফিট হয়ে যাব। এখনো তো সময় আছে অনেক দিন।

 

টাইগারদের কি পরামর্শ দিয়ে গেলেন সেই গর্ডন গ্রিনিজ?

বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক কোচ গর্ডন গ্রিনিজ নামটা টাইগারদের ক্রিকেটের সঙ্গে ওতোপ্রতোভাবে জড়িত। কেননা ১৯৯৭ সালে লাল-সবুজের দলের আইসিসি ট্রফি’র সাফল্যের কারিগর এই ক্যারিবিয়ান কোচ। টাইগারদের কি পরামর্শ দিয়ে গেলেন সেই গর্ডন গ্রিনিজ?

এছাড়া ১৯৯৯ সালে যুক্তরাজ্যে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে গর্ডন গ্রিনিজের কোচিংয়েই পাকিস্তানের চরম শক্তিশালী দলকে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দেন আমিনুল, সুজন, আকরাম, নান্নু, দুর্জয়, পাইলট, অপি, রফিকরা।

বাংলাদেশের ক্রিকেটের মোড় ঘোরার সময়কার কোচ গর্ডন গ্রিনিজকে নাটকীয়ভাবে বিদায় নিতে হলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আমন্ত্রণে ঢাকায় এসে বর্তমান দলের খেলোয়াড়দের দিয়ে গেলেন পরামর্শ।

গর্ডন গ্রিনিজ যখন বাংলাদেশের কোচ ছিলেন তখন মিরপুর স্টেডিয়ামে ক্রিকেট হতো না। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ফুটবলের সঙ্গে মাঠ ভাগাভাগি করতে হত ক্রিকেটকে। এখন ক্রিকেটের আছে নিজস্ব মাঠ। যে মাঠেই বিসিবির অফিস। এই ‘হোম অব ক্রিকেট’ ঘিরেই বাংলাদেশের ক্রিকেটের সব কার্যক্রম। যে ঠিকানায় বুধবার বিকেলে কয়েক পাক ঘুরেও গেলেন ক্রিকেট ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা এ ওপেনার।

এর আগে, সোমবার গর্ডন গ্রিনিজকে দেওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেকালের ক্রিকেটারদের অনেকেই। যেখানে মুশফিকুর রহিমসহ মাত্র কয়েকজনই ছিলেন একালের ক্রিকেটার।

বুধবার মিরপুরের ‘হোম অব ক্রিকেট’ পরিদর্শনে গিয়ে এই ক্যারিবীয় গ্রেট দেখা পেয়ে গেলেন বর্তমান জাতীয় দলের সবারই। বিকেল ৩টা থেকে অনুশীলন সূচি ছিল ক্রিকেটারদের। গ্রিনিজ মিরপুরে এলেন এর কাছাকাছি সময়ের মধ্যেই। এসেই ভাসলেন নানা উপহারের বন্যায়। ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা সই সংবলিত বাংলাদেশ দলের জার্সি তুলে দিলেন গ্রিনিজের হাতে, মুশফিক দিলেন ক্যাপ। মাহমুদ উল্লাহ জানালেন ফুলেল শুভেচ্ছা।

একাডেমি মাঠে তার সামনে গোল হয়ে দাঁড়ানো অনুশীলন শিবিরের ক্রিকেটারদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথাও বললেন গ্রিনিজ। জানতে চাইলেন পরবর্তী সিরিজগুলো সম্পর্কে। পরে সবাইকে সব সময় তৈরি থাকাসহ ব্যাটসম্যানদের দিলেন নিজেদের উইকেটের মূল্য বোঝার পরামর্শও। প্রায় দুই যুগ আগে আকরাম খান-আমিনুল ইসলাম-মিনহাজুল আবেদীনরাও নিশ্চয়ই গ্রিনিজের মুখ থেকে এমন কথাই শুনতেন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close