ক্রিকেটবিপিএল

দারুণ সাফল্যের পর দুঃসংবাদ মাশরাফিদের!

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সর্বশেষ ম্যাচে দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে রংপুর রাইডার্স। ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে নাটকীয় এক জয় পেয়ে মাশরাফিরা কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। অবশ্য দারুণ এই জয়ের পরই একটি দুঃসংবাদ শুনতে হয়েছে তাদের। স্লো ওভার রেটের কারণে জরিমানা গুনতে হয়েছে রংপুরকে।

আজ বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার রংপুর রাইডার্স ও ঢাকা ডায়নামাইটসের ম্যাচ নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দুই ওভার বেশি বল করেছে রংপুর। যে কারণে ম্যাচ রেফারি সামিউর রহমান রংপুরের খেলোয়াড়দের জরিমানা করেছেন।

ধারা অনুযায়ী, রংপুরের খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ২০ শতাংশ এবং অধিনায়ক মাশরাফিকে জরিমানা করা হয় ৪০ শতাংশ। দোষ স্বীকার করে নেওয়ায় এ বিষয়ে শুনানির প্রয়োজন হয়নি।

ঢাকার বিপক্ষে এ ম্যাচে রংপুর মাত্র তিন রানে জয় তুলে নেয়। এই জয়ের সুবাদে ছয় ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে উঠে আসে মাশরাফির দল। সমান ম্যাচ থেকে শীর্ষে থাকা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের সংগ্রহ ১০ পয়েন্ট।

বিপিএলের দ্বিতীয় পর্ব শেষে…

জমে উঠেছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। ক্রিস গেইল-ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, শহীদ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আমির, হাসান আলীর মতো তারকা ক্রিকেটাররা নিজ নিজ দলে যোগ দেওয়ায় আসরে জৌলুস বেড়েছে বহুগুণ। তারকা ক্রিকেটাররা দলে আসায় দলগুলো আরো চনমনে হয়েছে। প্রথম পর্ব শেষে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ছিল সিলেট সিক্সার্স। দ্বিতীয় পর্বে একটিও জয় না পাওয়ায় স্বর্গচ্যুত হয়েছে দলটি। আসুন দেখে নেই, দ্বিতীয় পর্ব শেষে আসরের বিস্তারিত গল্প :

দলগুলোর অবস্থা : এবারই প্রথম বিপিএলের আসর বসে সিলেটে। সেখানে মোট আটটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। আটটি ম্যাচের তিনটিতেই জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ছিল সিলেট সিক্সার্স। সিলেট পর্বে রাজশাহী কিংস বাদে সবকটি দলই জয় পায়। তবে ঢাকা পর্বে এসে দলগুলোর অবস্থা বদলেছে। টানা কয়েকটি ম্যাচ জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ছয় ম্যাচের পাঁচটিতে জিতেছে তামিম ইকবালের দল। আট ম্যাচে চার জয় নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ঢাকা ডায়নামাইটস। পরের তিনটি দল হলো খুলনা টাইটানস, সিলেট সিক্সার্স ও রংপুর রাইডার্স। সাত ম্যাচে দুটি জয় নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে চিটাগং কিংস। আর ছয় ম্যাচে রাজশাহী কিংসের জয় মাত্র একটিতে।

সবচেয়ে বেশি রান : সিলেট পর্বটা নিজেদের করে নিয়েছিল সিক্সার্সরা। তবে ঢাকায় ইমরুল কায়েস, রবি বোপারা, গেইলরা আলো ছড়িয়েছেন। ৭ ম্যাচে ২৩৯ রান করে টুর্নামেন্টের সেরা রান সংগ্রাহকদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান এভিন লুইস। তবে গড়ের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন রংপুর রাইডার্সের রবি বোপারা। ৬ ম্যাচে ২১৯ রান করেছেন এই ইংলিশ অলরাউন্ডার। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় দুইয়ে রয়েছেন তিনি। ৭ ম্যাচে ২০১ রান করা থারাঙ্গা রয়েছেন তিনে। সিলেট পর্বে সর্বোচ্চ রান ছিল এই লঙ্কান ব্যাটসম্যানের। প্রথম পর্বে সেরা পাঁচে কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটার ছিলেন না। দ্বিতীয় পর্বে সেই অভাবটা পুষিয়েছেন ইমরুল কায়েস ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ২০১ রান নিয়ে তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছেন ইমরুল। আর পঞ্চম স্থানে থাকা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের রান ১৮৯।

সবচেয়ে বেশি ছক্কা : এবারের টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ১৪টি ছক্কা মেরেছেন এভিন লুইস। ১২টি ছক্বা নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন আরেক ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান কার্লোস বার্থওয়েট। লুক রঞ্চি ও কাইরন পোলার্ড উভয়ই মেরেছেন ১১টি করে ছয়। পঞ্চম স্থানে থাকা গেইল মেরেছে ৯টি ছক্কা। তিন ম্যাচ খেলা গেইল যেভাবে ছক্কা মারছেন তাতে করে টুর্নামেন্ট শেষে তিনি তালিকায় এক নম্বরে ওঠে আসলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে নয়টি ছক্কা মেরে গেইলের পাশে রয়েছেন টুর্নামেন্টের নতুন আবিষ্কার আরিফুল হক।

 

সবচেয়ে বেশি উইকেট : এবারের টুর্নামেন্টে বাংলাদেশি বোলাররা আলো জালিয়েছেন। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ১২টি উইকেট নিয়েছেন আবু জায়েদ রাহি। চার ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন শহীদ আফ্রিদি। আবু হায়দার রনিও নিয়েছেন ১১ উইকেট। সাকিব আল হাসান ১০টি ও সুনিল নারাইন নিয়েছেন আটটি উইকেট। এ ছাড়া তাসকিন আহমেদ, শফিউল ইসলাম, মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাইফুদ্দিনরা নিজেদের নামের সুনাম ধরে রেখেছেন।

সেরা বোলিং ফিগার : টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশি বোলাররা দারুণ খেলেছেন। টুর্নামেন্টের সেরা বোলিং বিশ্লেষণের রেকর্ডটি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসারের দখলে। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে মাত্র ১৬ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন তিনি। দ্বিতীয় নামটি হাসান আলীর। ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে ২০ রানে পাঁচ উইকেট নেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের এই বোলার।

সেরা জুটি : সিলেট-পর্বে আটটি ম্যাচের তিনটিতে শতোর্ধ্ব রানের জুটি হয়েছিল, যার দুটিই করেন সিলেটের ব্যাটসম্যানরা। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ১২৫ রানের জুটি আন্দ্রে ফ্লেচার ও উপুল থারাঙ্গার। ঢাকা পর্বেও এটি রেকর্ড হয়ে রয়েছে। তবে বিপিএলের দ্বিতীয় পর্বের সেরা জুটিটা সাব্বির রহমান ও নাসির হোসেনের। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে চতুর্থ উইকেট জুটিতে ১১৭ রান যোগ করেন তাঁরা। এ ছাড়া সিলেট-পর্বে খুলনা টাইটানসের বিপক্ষে ঢাকার ক্যামেরন দেলপোর্ট ও এভিন লুইস করেন ১১৬ রান।

সবচেয়ে বড় জয় : বিপিএলের দ্বিতীয় পর্বে সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ডটি ঢাকা ডায়নামাইটসের। রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে ৬৮ রানে জেতে সাকিব আল হাসানের দল। উইকেটের দিক থেকে বড় জয়টি সিলেট সিক্সার্সের দখলে। ঢাকার দেওয়া ১৩৭ রানের জবাবে মাত্র এক উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করেন নাসিররা। এ ছাড়া সিলেট-পর্বে খুলনা টাইটানসের বিপক্ষে ৬৫ রানের জয় পেয়েছিল সাকিবের দল।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close