ক্রিকেটবাংলাদেশ ক্রিকেট

বিয়ের পর এক বড় লজ্জা পেতে যাচ্ছেন তাসকিন

সাউথ আফ্রিকা সফরে বল হাতে নিষ্প্রভ ছিলেন তাসকিন। পুরো সিরিজে পেয়েছিলেন মাত্র ২ট উইকেট। সেটা আবারো ১টি ওয়ানদে ম্যাচে। টেস্টে ছিলেন উইকেটবিহীন। আর টি-টুয়েন্টি সিরিজেও একি অবস্থা। আর সেই সমালোচনার মধ্যেই করে ফেললেন বিয়ে। আজকে বিয়ের পর প্রথম ম্য্যাচ খেলতে মাঠে নামেন তাসকিন।

কিন্তু বিয়ের পরেও খুঁজে পাওয়া গেল সেই সাউথ আফ্রিকা সফরের তাসকিনকে। আজ চিটাগং কিংস্র হয়ে কুমিল্লার বিপক্ষে নেমেছিলেন তাসকিন। চিটাগং কিংস দুর্বল দল হওয়াতে তার উপরে আশা রাখতেই পারে। কিন্তু সেই আশার গুড়িবালী করে দিলেন তিনি। ৩ অভার বল করে দিলেন ৩৬ রান। তাই তাকে আর বাকী ১টি অভার করতে দিলেন না অধিনায়ক মিসবাহ। তার বিয়ের পর তাসকিনকে বড় লজ্জাই দিলেন মিসবাহ!

তাসকিনের এমন পারফর্মেন্সে তাসকিন যে দল থেকে বাদ পড়বেন অতি শীঘ্রই সেতা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বিয়ের পর এ বড় লজ্জা পেতে যাচ্ছেন তাসকিন।

ব্যাটিং লাইন ধসিয়ে দেওয়া সাইফুদ্দিনের প্রশংসা করে যা বললেন নবী-বাটলার

বিপিএলের ৫ম আসরে মুখোমুখি হয় চিটাগং-কুমিল্লা। সেই ম্যাচে বল হাতে নিজের কারিশমা দেখান তরুণ অলরাউন্ডার সাইফুদ্দিন। একাই তুনে নেন ৩ উইকেট। আর ধসিয়ে দেন চিটাগংয়ের ব্যাটিং লাইন আপকে, জিতে নেন ম্যান অফ দ্যা ম্যাচের পুরষ্কার।

আর ম্যাচ শেষে সাইফুদ্দিনের প্রশংসা করে নবী বলেন ,’প্রথম ম্যাচে অধিনায়কত্ব উপভোগ করিনি। কিন্তু এখানে করেছি। মাঝের ওভারগুলোর দিকে রাশিদ, ব্রাভো এবং সাইফুদ্দিন খুব ভালো বল করেছে। বিশেষ করে সাইফুদ্দিনের কথা আলাদা করেই বলতে হয়। ‘

বাটলার বলেন ,’ যদিও বোলিংয়ের সময় আমাদের শুরুটা ভালো হয়নি, তবে রাশিদ খান এবং সাইফুদ্দিনদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে আমরা তাদের অল্পতে আটকে দিতে সমর্থ হই। ব্যাটিংয়ের সময় আমি প্রথম ছয় ওভারের দিকেই মনোনিবেশ করি। উইকেট ভালো থাকায় রান তুলতে আমাদের কোন কষ্টই হয়নি। এসব আসরে যারা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করে তারা তাদের লক্ষ্য বুঝে খেলতে পারে। ‘

৩ কাঠা জমি পাচ্ছেন মিরাজ

২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এক ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়ে দলের সাফল্যের মূল নায়ক ছিলেন মিরাজ। এর আগে চট্টগ্রামে প্রথম টেস্টে সাত উইকেটসহ সেই সিরিজে মোট ১৯ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। আর এ নায়ক নাকি খুলনায় টিনের চালের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন।

সংবাদমাধ্যমে এ খবর প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে উদ্যোগী হয়ে বাংলাদেশ দলের তরুণ এই অলরাউন্ডারের পরিবারের জন্য বাড়ি নির্মাণের নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। তারই ধারাবাহিকতায় খালিশপুরেই মিরাজকে তিন কাঠা জমি দিচ্ছে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)। আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মিরাজের হচ্ছে ৩ কাঠা জমি।

খবরটি মিরাজ নিজেই জানিয়ে বলেন, ‘গত বছরই আমাকে জানানো হয়েছিল জমি দেওয়া হবে। আগামী মাসেই সব কিছু আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে পাব। হয়তো আরো আগেই পেয়ে যেতাম, আমি ক্রিকেট নিয়ে ব্যস্ত থাকায় কিছুটা দেরি হয়েছে।’

বড় সুখবরই পেয়েছেন। এবার মাঠেও সুখবর দেওয়ার পালা মিরাজের। বিপিএলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তাঁর দল রাজশাহী কিংস ৬ উইকেটে হেরেছে রংপুর রাইডার্সের কাছে।

তবে এটি নিয়ে উদ্বিগ্ন নন তরুণ অলরাউন্ডার, ‘শুরুটা ভালো হয়নি, খারাপও হয়নি। গত বিপিএলেও শুরুটা ভালো হয়নি আমাদের। শেষ পর্যন্ত আমরা কিন্তু ফাইনালে উঠেছিলাম। এ বছর দলটি ভালো হয়েছে। একটি ম্যাচ হারতেই পারি। এখনো ১১টা ম্যাচ আছে। ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে চাই আমরা।’

জানা যায়, মহানগরীর মুজগুন্নি আবাসিক এলাকায় (মুজগুন্নী প্রধান সড়ক) প্লট নং-এম-৪৪, জমির পরিমাণ ৩ দশমিক ৭ কাঠা জমি পাচ্ছেন তরুণ এ অলরাউন্ডার। বিপিএল শেষে খুলনায় ফিরলেই তার কাছে এ জমি ও দলিল হস্তান্তর করা হবে।

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’র (কেডিএ) প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. সাবিরুল আলম বলেন, মিরাজের জমি বরাদ্দ গেলো সপ্তাহে হয়েছে। ১০০১ টাকা প্রতীকি মূল্য রেখে জমিটি তার নামে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বিপিএল খেলা শেষে মিরাজ ১০ দিনের ছুটিতে বাড়ি আসবেন। এসময় তার নামে জমি রেজিস্ট্রি হবে। একইসঙ্গে জমির দলিল আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে। দলিল হস্তান্তরের পর তাকে বাড়ির নকশা করার প্রস্তাব করা হবে। সে প্রস্তাবনা অনুমোদন সাপেক্ষে এস্টিমেট করা হবে। তারপর ভবন নির্মানের কাজ শুরু হবে।

ঢাকা থেকে বিপিএলের নতুন সূচি

চার-ছক্কা ধুম ধাড়াক্কার খেলা টি-টোয়েন্টি শুরু হয়ে গেছে তিনদিন হলো। এরই মধ্যে নতুন সমস্যায় পড়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) গভর্নিং কাউন্সিল। নভেম্বর-ডিসেম্বরে বাংলাদেশে শিশিরের প্রভাব থাকে এবং আস্তে আস্তে তা বাড়তেই থাকে। ইতোমধ্যে শিশিরের কারণেই শেষ হওয়া চারটি ম্যাচ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারেনি বিপিএল কর্তৃপক্ষ। তাই তো ঢাকা ও চট্টগ্রাম পর্ব থেকে সময়সূচিতে পরিবর্তন আনলো বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। আগামী ১১ নভেম্বর থেকে শুরু হবে ঢাকা পর্বের ম্যাচ এবং ২৪ নভেম্বর থেকে শুরু হবে চট্টগ্রাম পর্বের ম্যাচ। ঢাকা পর্ব থেকে দিনের প্রথম ম্যাচটি আধ ঘন্টা এবং দ্বিতীয় ম্যাচটি এক ঘন্টা করে এগিয়ে আসছে।নতুন সময় অনুসারে দুপুরের ম্যাচগুলো বেলা ২টার পরিবর্তে শুরু হবে ১.৩০ মিনিটে। সন্ধ্যা ৭ টার ম্যাচ শুরু হবে ৬টায়। এদিকে আগের সময়সূচীতে সপ্তাহের ৬ দিন ২টা ও ৭টা থেকে ম্যাচ থাকলেও শুক্রবার ২.৩০ মিনিট ও ৭.৩০ মিনিট ছিল ম্যাচ শুরুর সময়। এখানেও প্রথম ম্যাচ আধ ঘন্টা এগিয়ে ২টা এবং দিনের দ্বিতীয় ম্যাচ আধ ঘন্টা করে এগিয়ে ৭টায় শুরু হবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ফলে দিনের প্রথম ম্যাচটি শেষ হচ্ছে ৪টা ২০ মিনিটে, রাতের খেলা শেষ হবে ৯টা ২০ মিনিটে। শুক্রবার এক ঘন্টা করে বাড়তি সময়ের প্রয়োজন হবে।এক ঘন্টা করে এগিয়ে আসার কারণ প্রসঙ্গে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক বলেছেন,‘দুই তিনটা কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খেলা যখন শেষ হয় দর্শকদের বাড়িতে ফিরতে ভোগান্তি পোহাতে হয়। যানবাহন স্বল্পতা থাকে। শিশির আরেকটি কারণ। প্রায় প্রতিদিনই ম্যাচ থাকে। পরদিন মাঠ প্রস্তুত করতে কিউরেটরদের একটু সময় দিতে খেলাটা এগিয়ে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত।’বিপিএলের প্রথম দিন রংপুর রাইডার্স ও রাজশাহী কিংসের মধ্যকার ম্যাচটির টসের আগে বেশ খুনসুটিতে মজেছিলেন রংপুর অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ও রাজশাহী অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি। কিন্তু মাশরাফি টস জিততেই মুখ থেকে হাসি উধাও স্যামির। উধাও হওয়ারই কথা। ডিউ ফ্যাক্টরের কথা মাথায় রেখে ম্যাশ পরে ব্যাটিং নিলেন। এই ডিউ ফ্যাক্টরটা আসলে বড় প্রভাবকই হতে যাচ্ছে বিপিএলে। শনিবার রংপুর-রাজশাহীর ম্যাচটি শেষ করতে নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে বেশ খানিকটা সময় বেশি লেগেছে। কারণ সেই শিশির। শিশিরের প্রভাব ছিল রোববার ঢাকা ডায়নামাইটস ও খুলনা টাইটানসের মধ্যকার ম্যাচেও।

নাসিরের নেতৃত্বে উড়ন্ত সিলেট! দূরন্ত সিলেট!

যাকে সামনে পাচ্ছে, তাকেই চুরমার করে দিচ্ছে সিলেট সিক্সার্স! যাকে সামনে পাচ্ছে, তাকেই চুরমার করে দিচ্ছে সিলেট সিক্সার্স!

ওপেনার উপুল থারাঙ্গার তিনে তিন! ৬৯*, ৫১ ও ৫০। মানে টানা তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি।

তার সঙ্গী আন্দ্রে ফ্লেচার যথাক্রমে ৬৩, ৩৬ ও ৪৮। লংকান আর ক্যারিবীয়ানের যুগলবন্দীতে তিন ম্যাচের দুটিতেই শতাধিক রানের উদ্বোধনী জুটি! অন্যটিও ৭৩ রানের। এ পর্যন্ত প্রত্যেক ম্যাচে ব্যাটিংয়ের শুরুতেই যে সিলেট সিক্সার্স ‘রিমোর্ট কন্ট্রোল’ হাতে নিতে পেরেছে, তা বোধহয় এই দু’জনের কল্যাণেই।

স্কোরবোর্ডে ২০৫/৬। রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে ইনিংস বিরতিতেই সম্ভবত জয়ের দিগন্তরেখা দেখতে পাচ্ছিলো সিলেট! কীভাবে? কারণ বিপিএলের ইতিহাসে এ পর্যন্ত দুই’শ উর্ধ্ব রান তাড়া করে জয়ের মুখ দেখে নি কোনো দল। সর্বোচ্চ ১৯৭ রান চেজ করতে নেমে জিতেছে সিলেট রয়্যালস। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে মিরপুরে ২০১৩ আসরে, এক ওভার হাতে রেখে ৪ উইকেট হারিয়ে।

সিলেট-রাজশাহী ম্যাচ পর্যন্ত বিপিএলের পাঁচ আসরে সব মিলিয়ে দুই’শ বা তার বেশি দলীয় রান উঠেছে মোট ৯ বার। সর্বোচ্চ রান (২১৭/৪) করেছে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স, ২০১৩ বিপিএলে মিরপুরে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে। সেবারই চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে রাজশাহী কিংসের করা ২১৩ রান টপকাতে গিয়ে ২০৯ পর্যন্ত গিয়ে শেষ পর্যন্ত মাত্র ৪ রানে হেরেছিল বরিশাল বার্নার্স। পরে ব্যাট করে ওটাই সর্বোচ্চ স্কোর।

৯ বারের মধ্যে শুধু ঢাকা দলই ৫ বার করেছে দুই শতাধিক রান। রাজশাহী, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট একবার করে পেরিয়েছে ওই মাইলফলক।

প্রথম ম্যাচে বর্তমান শিরোপাধারী হট ফেভারিট ঢাকাকে উড়িয়ে দেয়া! পরের ম্যাচে উত্তেজনা ছড়িয়ে সাবেক চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লাকে ধরাশায়ী করা। এবং তৃতীয় ম্যাচে গতবারের ফাইনালিষ্ট রাজশাহীর দফারফা করে ছাড়া! কী অসাধারণ নৈপূণ্য দেখালো সিলেট! শেষ পর্যন্ত কতদূর যেতে পারবে এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে সিলেটের শুরুটা যে রাজসিক হলো, তা না মেনে উপায় কী?

পরপর তিন ম্যাচে তিন স্টাইলের জয়ে সত্যিকার অর্থে ‘ছক্কার মতোই’ যেন আকাশে উড়ছে সিলেট সিক্সার্স! দূরন্ত সিলেটের পরের ম্যাচ খুলনা টাইটান্সের সঙ্গে। সেখানেও ঝাঁপিয়ে পড়ে মাহমুদউল্লাহর দলের ‘টাইটানিক’ ডুবিয়ে ঘরের মাঠে চারে চার জয় নিয়েই ঢাকা মিশন শুরু করতে চাইবে নাসির-সাব্বিরের দল!

যাকে সামনে পাচ্ছে, তাকেই চুরমার করে দিচ্ছে! কে বলবে, ডার্কহর্স কিংবা আন্ডারডগ দল হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল এই সিলেট সিক্সার্স, আসরের সবচেয়ে নবীন দল।

Tags
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close