ক্রিকেটবিপিএল

মুস্তাফিজকে একটু বেশিই মিস করছেন ড্যারেন স্যামি

দেশের ক্রিকেটে ধুমকেতুর মত আবির্ভূত হয়ে দ্রুত আন্তর্জাতিক তারকা হয়ে উঠেছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। পেয়েছেন ‘কাটার মাস্টার’ ‘দ্য ফিজ’ উপাধি। কিন্তু ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তার পিছু নিয়েছে চোট।

গতবছর কাঁধের ইনজুরি থেকে ফিরে হারানো ফর্ম ফিরে পেতে না পেতেই আবারও গোঁড়ালির ইনজুরিতে পড়েছেন এবার। চলতি বিপিএলে তিনি কবে মাঠে নামতে পারবেন তা অনিশ্চিত। কিন্তু তার দল রাজশাহী কিংস তাকে ঠিকই মিস করছে।

আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রাজশাহী কিংস ফ্র্যাঞ্চাইজিটি জানিয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার থেকে রাজশাহীর ক্যাম্পে যোগ দেবেন পুনর্বাসনে থাকা মুস্তাফিজ। তবে কবে তিনি মাঠে নামতে পারবেন সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। তাই রাজশাহী কিংসের অধিনায়ক ক্যারিবীয় তারকা ড্যারেন স্যামি একটু বেশিই মিস করছেন মুস্তাফিজকে।

হার দিয়ে বিপিএল শুরু করেছে তার দল। বর্তমান রানার্সআপদের দলপতি সোশ্যাল সাইটে নিজের মনের কথা প্রকাশ করলেন এবার। নিজের ভেরিফাইড অ্যাকাউন্ট টুইটারে নিজের একটি সেলফি পোস্ট করে স্যামি লিখেছেন, ‘অনুশীলনে আছি। আশা করছি মুস্তাফিজ দ্রুতই সুস্থ হয়ে উঠবে এবং আমাদের সঙ্গে যোগ দেবে। ‘

স্যামির টুইট দেখে তাকে উদ্দেশ্যে করে পাল্টা টুইটে দ্য ফিজ লিখেন, ‘আমি অধীর আগ্রহে সেই দিনটির অপেক্ষায় করছি। আশা করছি দ্রুতই মাঠে আমাদের দেখা হবে। ‘

উল্লেখ্য, গতমাসে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে নতুন করে গোঁড়ালির চোটে পড়েন ‘কাটার মাস্টার’ খ্যাত মুস্তাফিজুর রহমান। সিরিজ শেষ না করেই দেশে ফিরতে হয় তাকে। এছাড়া ওই সিরিজে চোট পাওয়া দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবালও এখন পর্যন্ত চলতি বিপিএলে মাঠে নামতে পারেননি।

খলনায়ক থেকে যেভাবে ‘সোনার ছেলে’ সাইফউদ্দিন

ক্রিকেট এমনই! আজ রাজা তো কাল প্রজা! পচেফস্ট্রমে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে ডেভিড মিলারের হাতে এক ওভারে পাঁচ ছক্কা খেয়ে খলনায়ক বনে গিয়েছিলেন তরুণ সাইফউদ্দিন; কিন্তু এবারের বিপিএলে ফেনীর সেই ২১ বছর বয়সী তরুণ হয়ে উঠলেন ‘কুমিল্লার সোনার ছেলে’। বিপিএলের এবারের আসরে প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ম্যাচ সেরার পুরষ্কার উঠলো তার হাতেই।

বিপিএলের আগের চার আসরে নামি-দামি বিদেশি ক্রিকেটারদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পারফর্ম করেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। প্রথম দু’বার বিশ্বের অনেক নামি-দামি ক্রিকেটারদের পেছনে ফেলে টুর্নামেন্ট সেরা হয়েছিলেন সাকিব আল হাসান।

কিন্তু এবার কেন যেন নিজেদের খুঁজে পাচ্ছেন না স্থানীয় ক্রিকেটাররা। আজকের ম্যাচের আগে পর্যন্ত চার ম্যাচে একজন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানও ফিফটি করতে পারেননি। ঢাকার মিডিয়াম পেসার আবু হায়দার রনি এক ম্যাচে ১৩ রানে তিন উইকেট দখল করলেও ম্যাচ সেরা হতে পারেননি।

অবশেষে মঙ্গলবার তৃতীয় দিনে এসে ম্যাচ জেতানো পারফরমার হিসেবে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হলেন কুমিল্লার পেস বোলিং অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন। চার ওভারের স্পেলে ২৪ রানে চিটাগং ভাইকিংসের তিন ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে কুমিল্লার সাফল্যের রূপকার এ পেসার।

শেষ পর্যন্ত তিন উইকেট পেলেও প্রথম দুই ওভারে (৫+৬ = ১১ রান দিয়ে) উইকেটশূন্য ছিলেন তিনি; কিন্তু এরপর বুদ্ধি খাটিয়ে উইকেট সোজা থ্রি কোয়ার্টার লেন্থে বল ফেলার চেষ্টা ছিল। সঙ্গে মাঝে মধ্যে ব্যাটসম্যানকে বিভ্রান্তিতে ফেলে দেয়ার মতো স্লোয়ারও ছুঁড়েছেন।

তাতেই শেষ দুই ওভারে তার শিকার সৌম্য, এনামুল হক জুনিয়র আর সোহরাওয়ার্দী শুভ। এর মধ্যে তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলে সৌম্য সরকার- রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড আর পঞ্চম ডেলিভারিতে এনামুল হক বিজয় লংঅনে ক্যাচ তুলে দেন।

আর শেষ ওভারে সাইফ ফিরিয়ে দেন বাঁ-হাতি সোহরাওয়ার্দী শুভকে। তার সাড়াসি বোলিংয়ে ১৪৩ রানে থামে চিটাগাং ভাইকিংস। টার্গেট কম থাকায় বাটলার, স্যামুয়েলস আর ইমরুল কায়েসের দল জেতানো খুব সহজ হয়ে যায়। তাই সাইফউদ্দীনই ম্যাচ সেরা।

এমন ম্যাচ জেতানো পারফরমেন্সের অনুভুতি কেমন? খুব জানতে ইচ্ছে করছে তাই না? তাহলে শুনুন, খেলা শেষে প্রেস কনফারেন্সে প্রথমেই প্রশ্ন উঠলো, দল জিতলো, আপনিই নায়ক, কেমন লাগছে?

সাইফউদ্দীনের লাজনম্র জবাব, ‘এটা টুর্নামেন্টে আমাদের প্রথম জয়। ভালো লাগছে। বিশেষ করে, জয়ের পিছনে আমার অবদান ছিলো। এ জন্য ভালো লাগাটা অনেক বেশি।’

দেশের ক্রিকেটারদের ফেলে আর স্যামুয়েলসের মত বিশ্বমানের পারফরমার থাকার পরও আফগান মোহাম্মদ নবিকে অধিনায়ক করা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন; কিন্তু সাইফউদ্দিনের কথা শুনে পাল্টে গেলো ধারণা। মনে হলো নবি খুবই ভালো অধিনায়ক। খুবই ফ্রেন্ডলি।

মোহাম্মদ নবির ক্যাপ্টেন্সি সম্পর্কে কিছু বলতে বলা হলে সাইফউদ্দিন বলেন, ‘উনি অনেক বন্ধুবৎসল। মাঠ এবং মাঠের বাইরেও। গত ম্যাচেও অধিনায়ক হিসেবে তিনি আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন। আজও। প্রতিটি বলের আগে তার সঙ্গে কথা বলেছি। সব মিলিয়ে সে খুব ভালো একজন মানুষ।’

চিটাগাং এক সময় খুব ভালো অবস্থায় ছিল। ৮ ওভারে রান ৮০‘র ঘরে চলে গিয়েছিল। তখন কুমিল্লার প্ল্যানিং কি ছিল? সাইফের জবাব, ‘ক্রিকেটটা এমনই। রানের খেলা। একটা সময় রান আসবে। একটা সময় বোলিং ভালো হবে। আমরা তাই ওটা নিয়ে চিন্তিত হইনি। বিশ্বাস ছিল সামনে ভালো হবে। ড্রিংকস ব্রেকের পর আমরা ভাবছিলাম যে, একটা ব্রেক থ্রু এলে ওদেরকে ১৫০-এর মধ্যে আটকে দেয়া যাবে।’

সৌম্যকে আউট করার পর অনুভুতি কি? ‘উনি ওয়েল সেট ছিলেন। বেশ কিছু বাউন্ডারি মেরেছেন। তখন তার উইকেট পাওয়াটা খুব জরুরি হয়ে উঠেছিল। আমি চেষ্টা করেছি, তাকে ডট খেলানোর জন্য। পরে আমি সাকসেস হয়েছি।’

দক্ষিণ আফ্রিকা সফর তাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে, এমন অনুভব থেকে সাইফউদ্দিনের সহজ সরল স্বীকারোক্তি, ‘সত্যি বলতে কি এটা আমার দ্বিতীয় বিপিএল হলেও প্রথম ম্যাচে কিছুটা নার্ভাস ছিলাম; কিন্তু এবার খুব উপভোগ করছি। দক্ষিণ আফ্রিকা সফর আমার জন্য অনেক কিছু শেখার উপলক্ষ ছিল। সেখান থেকে অনেক অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছি।’

Tags
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close