ফুটবল

ক্লাবে ‘বন্ধ’,জাতীয় দলে ‘শত্রু’

রাশিয়ায় ১৪ জুন ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি মাত্র ২৮ দিন। প্রতিবারের মতো এবারো দেখা যাবে সারা বছর যে বন্ধুর সাথে অনুশীলন করেন, ম্যাচ খেলেন, ট্রফি জয়ের উল্লাস করেন তারাই কিভাবে একে অপরের প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠে। তাই জেনে নেয়া যাক এবারের গ্রুপপর্বে কোন কোন মহাতারকা বন্ধুত্ব শত্রুতে পরিণত হতে যাচ্ছেন-

১৫ জুন, পর্তুগাল বনাম স্পেন- রোনালদো বনাম রামোস (রিয়াল মাদ্রিদ)

স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলে দুজনই। তবে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে নামলে দু’জনকেই নামতে হয় ভিন্ন জার্সিতে। বলছি স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের সেরা ডিফেন্ডার স্প্যানিশ সার্জিও রামোস ও সেরা উইঙ্গার পর্তুগিজ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর কথা। রোনালদোর পর্তুগাল ২০১৬ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন। আর রামোসের স্পেন ২০১০ সালের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন। তাই বি-গ্রুপের এই লড়াইটি হাই-ভোল্টেজ হিসেবেই পরিচিতি পাবে। তবে শুধু দলের নয়, লড়াইটা তাদের বন্ধুত্ব দারুণ। কয়েকদিন পর একই জার্সিতে ক্লাবের জন্য উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবেন। কিন্তু ১৫ জুন তারিখে কেউই ছাড় পাচ্ছেন না। রোনালদো যেমন নিজ দলের জয়ে গোল করতে চাইবেন, তাকে আটকে নিজ দলকে বাঁচাতে চাইবেন রামোসও।

২১ জুন, আর্জেন্টিনা বনাম ক্রোয়েশিয়া- মেসি বনাম রাকিতিচ (বার্সেলোনা)

আর্জেন্টাইন ক্ষুদে জাদুকর লিওনেল মেসি যখন নিজেকে জাতীয় দলের হয়ে মেলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টায় ব্যস্ত থাকবে তখনই এই কøাবের সতীর্থ যেখানে তাকে গোল দিতে বল এগিয়ে দিত সেই ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডারই আবার বল ধরে রেখে প্রতিপক্ষ মেসির বলের যোগান বন্ধ করতে দেখা যাবে। এটাই বিশ্বকাপের গ্রুপ-ডি এর এই হাই ভোল্টেজ ম্যাচে হিসেবে দেখা যাবে।

২৩ জুন, জার্মানি বনাম সুইজারল্যান্ড- ভার্নার বনাম ফরসবার্গ (আরবি লিপজিগ)

ক্লাব লিপজিগে হয়ে বিপক্ষ দলকে আক্রমণ করতে ছুটেনে কাধেঁ কাধঁ মিলিয়ে। জার্মানির ২২ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড টিমো ভার্নার, অন্যদিকে ২৬ বছর বয়সী সুইস খেলোয়াড় এমিল ফরসবার্গ একই ক্লাবে ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলেন। তবে এই দুই তরুণ ফরোয়ার্ডকেই ক্লাবের বন্ধুত্ব ভুলে নেমে পড়তে হবে গ্রুপ- এফ এর এই মহারণে।

জুন ২৪, পোল্যান্ড বনাম কলম্বিয়া- লেভাদোস্কি বনাম হামেস (বায়ার্ন মিউনিখ)

কলম্বিয়ান হামেস রদ্রিগেজ গত বিশ্বকাপে খুব ভালো পারফর্ম করেছে। তাই এবারের বিশ্বকাপেও নিজের সেরাটাই দিতে চান তিনি। এই মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে বায়ার্ন মিউনিখে চলে যান কলম্বিয়ান মিডফিল্ডার।শুরুটা নড়বড়ে হলেও মৌসুমের শেষ দিকে এসে নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন। ২৩ ম্যাচে ৭ গোল, ১১ অ্যাসিস্ট। আর সেখানে একই ক্লাবে খেলে পোলিশ স্ট্রাইকার রবার্ত লেভাদোস্কির। এ মৌসুমেও লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা (২৯) হয়ে দলকে জিতিয়েছেন। গ্রুপ-এইচের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দুজন দুজনার শত্রু।

২৮ জুন, ইংল্যান্ড বনাম বেলজিয়াম- স্টার্লিং বনাম ডি ব্রুইন (ম্যানচেস্টার সিটি)

বেলজিয়ানকেভিন ডি ব্রুইন ও ইংলিশ রাহিম স্টার্লিং দুজনই খেলেন ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিতে। তাদের দূদার্ন্ত পারফর্মে দলটিকে টানা জয়ে শিরোপা ও বড় ভুমিকা রেখেছে ক্লাবের ১০০ পয়েন্টের রেকর্ড গড়তে। স্টার্লিং ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে মোট ২৩ গোল করে ক্যারিয়ারসেরা খ্যাতাব। তবে কেভিনও খেলেছেন পিছিয়ে নেই লিগে তার ১৬ অ্যাসিস্টের রেকর্ডই সেরা। গ্রুপ-জি যখন মুখোমুখি হবেন তখন ক্লাবের চেয়ে নিজের দলেক কথাই বেশি ভাববেন এই দুই তরুণ প্রতিভাবান তারকা। জাতীয় দলকে জয় এনে দেয়াই হবে তাদের লক্ষ্য।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close