আন্তর্জাতিক ক্রিকেটক্রিকেট

ভাতিজাকে নিয়ে এবার মুখ খুললেন ইনজামাম

‘ইনজামামের ভাতিজার কি খবর?’-সব জায়গায় এই একটি কথা শুনতেই হয় ইমাম-উল-হককে। চাচা ইনজামাম-উল-হক পাকিস্তান দলের সাবেক অধিনায়ক ছিলেন, এখন প্রধান নির্বাচক। তার ছায়া থেকে যেন বেরিয়েই আসতে পারছেন না তরুণ ইমাম। দলে নেয়ার পর সমালোচনা, ভালো করলেও ঘুরে ফিরে আসছে চাচার প্রসঙ্গ।

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক টেস্টেই লড়াকু এক ইনিংস (অপরাজিত ৭৪ রান) খেলে দলকে পরাজয়ের হাত থেকে বাঁচিয়ে দেয়ার পরও ইনজামামকে নিয়ে কথা শুনতেই হলো ইমামকে। ক্রিকেটার থেকে জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার হওয়া রমিজ রাজা যেমন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানকে বলে বসলেন, ‘এবার তবে চাচা ইনজামাম নির্ভার হলেন!’

ইমামের জবাব ছিল তার ইনিংসটার মতোই বুদ্ধিদীপ্ত। বাঁহাতি এই ওপেনার বলেন, ‘আমি এখন এটাতে অভ্যস্ত। যখন আমাকে ওয়ানডে দলে নেয়া হয়, তখনও চাপ ছিল। আমি তখন ভালো পারফর্ম করি, এখন আমি আত্মবিশ্বাসী। সামনে ইংল্যান্ড সফরের দিকে তাকিয়ে আছি।’

গত বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হয় ইমামের। অভিষেক ম্যাচেই দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বসেন তিনি। এবার টেস্টে অভিষেক হয়ে গেল। অভিষেক টেস্টেও নিজের জাত চেনালেন ২২ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান। কিন্তু জাত চেনালে কি হবে, একটু খারাপ করলেই তো আবার জাত নিয়ে কথা বলা শুরু হয়ে যাবে! চাচার জোরে খেলছেন, এমন কথাও শুনতে হবে।

ইমাম এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় দেখছেন না। পারফর্ম করেই সমালোচকদে মুখ বন্ধ করে রাখতে হবে, নির্মম সত্যটা মেনেই নিচ্ছেন তিনি, ‘বাস্তবতা হলো, আমি তার (ইনজামাম) ভাতিজা। আমি তো রক্তের সম্পর্ক বদলাতে পারব না। আমি শুধু ব্যাট হাতে পারফর্ম করতে পারি, খেলতে পারি ইতিবাচকভাবে।’

আগামী ২৪ মে লর্ডসে প্রথম টেস্ট দিয়ে শুরু পাকিস্তানের ইংল্যান্ড সফর। কঠিন এই সফরেও ভালো করার আশা ইমামের, ‘আমি এই সফরের দিকে (ইংল্যান্ড) তাকিয়ে আছি। আশা করছি, এই সফরে ভালো ফল করে দেখাতে পারব।

 

সালাহ রোজা ভাঙতে পারবেন না বলে ফতোয়া

ঘনিয়ে আসছে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের ক্ষণ। আগামী ২৬ মে ইউক্রেনের কিয়েভে ফাইনালি লড়াইয়ে রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে লিভারপুল।

দীর্ঘ ১৩ বছর পর ইউরোপসেরা টুর্নামেন্টের শিরোপা ঘরে তুলতে মুখিয়ে অলরেডরা। এতে মোহাম্মদ সালাহর সেরাটা চান তারা। তবে এ জন্য তিনি রোজা ভাঙতে পারবেন না বলে ফতোয়া দিয়েছেন মুসলিম সালাফি নেতা ইয়াসের বোরহামি।

সালাহ একজন নিবেদিত মুসলিম। মাঝেমধ্যেই সেজদা প্রদানের মাধ্যমে গোল উদযাপন করেন তিনি। নিয়মিত রোজা রাখেন। চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে রোজা রেখে খেলবেন মিসরীয় এ ফরোয়ার্ড। তবে দলীয় স্বার্থে তা ভাঙতে পারবেন না বলে ফতোয়া দিয়েছেন বোরহামি।

তিনি বলেন, ইসলামি শরিয়াহ আইন অনুযায়ী, কারো বা স্বীয় স্বার্থে কেউ রোজা ভাঙতে পারবেন না। সালাহও এর বাইরে নন।

বোরহামি এক বিবৃতিতে বলেন, কোরআনের কোথাও বলা নেই- ফুটবলারদের জন্য রোজা মওকুফ করা হয়েছে। জীবন রক্ষার্থে কঠোর পরিশ্রম করতে হলেই কেবল রোজা ভাঙা যায়। ফুটবল খেলা কখনই হাড়ভাঙা পরিশ্রমের আওতায় পড়ে না। যার জন্য রমজানে রোজা ভাঙতে পারবেন মুসলিমরা।

আগামীকাল শুক্রবার শুরু হচ্ছে পবিত্র মাহে রমজান। মুসলিম সম্প্রদায়ের তাৎপর্যপূর্ণ মাসটির প্রথম সপ্তাহের শেষ দিকে হবে এই মহারণ। সেহরির মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর শুরু হবে রিয়াল-লিভারপুল ময়দানি লড়াই।

রোজা রেখে খেললে সালাহ নিজের সর্বোচ্চটা দিতে পারবেন না বলে ধারণা করছেন অন্য ধর্মাবলম্বীরা।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close