আইপিএলক্রিকেট

বাচাঁমরার লড়াইয়ে সাকিবের মুখোমুখি কোহলি

এবারের আইপিএল আসরে ইতিমধ্যে প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ও চেন্নাই সুপার কিংস। এছাড়া আরও দুটি দল এ সুযোগ পাবে। তবে পয়েন্ট টেবিলের সবশেষে থাকা দিল্লি ডেয়ারডেভিলস ছাড়া বাকি সবগুলো দলেরই সুযোগ আছে প্লে অফ খেলার। তাই প্রতিটি দলের প্রয়োজন জয়। তাই আজ বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে সাকিব আল হাসানের দল হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে মাঠে নামবে ব্যাঙ্গালোরু।

বেঙালুরুর ভাগ্য সুতোর উপর ঝুলছে। আর দুইটি ম্যাচ বাকি আছে তাদের। ১২ ম্যাচে ৫ জয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকায় তারা রয়েছে সপ্তম অবস্থানে। এই ম্যাচে তারা জয় পেলে উঠে আসবে পঞ্চম স্থানে। তাতে তালিকার চতুর্থ থেকে সপ্তম- সবার পয়েন্টই হবে সমান। এই ম্যাচে হেরে পরের ম্যাচ জিতলে গাণিতিকভাবে বেঙালুরুর একটা সুযোগ থাকে। তবে সেই ঝুঁকি নিশ্চয় নিতে চাইবে না দলটি।

টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মত টানা দুই জয় পেয়েছে বিরাট কোহলির দল। সেই ধারা অব্যাহত রেখে হায়দ্রাবাদকে হারিয়ে প্লে-অফ খেলার সব পথ খোলা রাখতে চাইবে দলটি।

অন্যদিকে ১২ ম্যাচে ৯ জয়ে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে আছে হায়দ্রাবাদ। টানা ছয় ম্যাচ জয়ের পর নিজেদের শেষ ম্যাচে চেন্নাইয়ের কাছে হেরেছে দলটি। প্লে-অফ যদিও নিশ্চিত হয়েছে, দলটি নিশ্চয় চাইবে শীর্ষে থেকেই কোয়ালিফায়ারে খেলতে। সাকিব দারুণ বল করেছেন। ১২ ম্যাচে পেয়েছেন ১২ উইকেট। তিনিও নিশ্চয় চাইবেন নিজের উইকেটের সংখ্যা আর বাড়িয়ে নিতে। আইপিএলে এক মৌসুমে সাকিবের সর্বোচ্চ উইকেট সংখ্যা ১২। এই ম্যাচে তিনি সুযোগ পাবেন নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার।

এর আগের সাক্ষাতে ১৪৬ রানের লক্ষ্য দিয়েও ৫ রানে জিতেছিল হায়দ্রাবাদ। সাকিব ব্যাট হাতে ৩৫ রানের পাশাপাশি ২ উইকেট নিয়েছিলেন।

 

ক্রিকেটে সর্বকালের সেরা ২০ রেকর্ডের যে ৯টি টাইগারদের দখলে

ক্রিকেটে ইতিহাসে বাংলাদেশ এখন একটি নাম। অন্যান্য দেশের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের দামাল টাইগাররা। বিশ্ব ক্রিকেট ইতিহাসে ২০টি দুর্দান্ত ইতিহাসের মধ্যে বাংলাদেশের ৯টি রেকর্ড রয়েছে যা সারাজীবন স্মরনীয় হয়ে থাকবে।

চলুন দেখে নেই ৯টি রেকর্ড_

মোহাম্মদ আশরাফুল: ৬ সেপ্টেম্বর ২০০১। সবচেয়ে বম বয়েসে একই দিনে দুটো রেকর্ড গড়েন বাংলাদেশ ক্রিকেটের বিস্ময় বালক। সবচেয়ে কম বয়সি হিসেবে টেস্টে সেঞ্চুরি করেন একই ম্যাচে যেটা সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরির রেকর্ডও। ক্রিকেটের বিবর্তনে এখন ২০ বছরের আগে জাতীয় দলে অভিষেক অকল্পনীয়। সেখনে বড়জোড় অনূর্ধ্ব-১৯ খেলে কেউ দ্রত খেলে ফেলতে পারে জাতীয় দলে সেক্ষেত্রেও কিন্তু বয়স হয়ে যাবে ১৮ এর বেশি। তারও কম বয়সে যদি কারও অভিষেক হলে সেটা টেস্টে হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। আর যদি অভিষেক হয়েও যায় রেকর্ডটা ভাঙা সহজ হবে না। কারণ ওই বয়সে কারও পক্ষে টেস্টে সেঞ্চুরি করা অনেকটা অসাধ্য সাধন করেই দেখোনো। ৬ সেপ্টেম্বর ২০০১ সালে শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় গড়া সেই রেকর্ড তাই টিকে যেতে পারে আরও ১০০ বছর।

সোহাগ গাজি : ১৩ অক্টোবর ২০১৩, চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের সাথে টেস্ট ম্যাচে প্রথমে সেঞ্চুরি এবং পরে বল হাতে হ্যাট্রিক করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েন বাংলাদেশের তরুণ অফ স্পিনার সোহাগ গাজী। বাংলাদেশ দলে সাকিব আল হাসানের পর একমাত্র তিনিই কোন একটি টেস্ট ম্যাচে সেঞ্চুরি এবং পাঁচের বেশি উইকেট নিলেন।প্রথম ইনিংসে আট নম্বর ব্যাটসম্যান হিসাবে ক্রিজে নেমে টেইল-এন্ডারদের সাথে সেঞ্চুরি করেন সোহাগ। ১০১ রান করে অপরাজিত থাকার পর নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে একটি হ্যাট্রিকসহ ছয়টি উইকেট নেন এই অফ স্পিনার। ১৩৬ বছরের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে এই ঘটনা এই প্রথম। যে কারনে প্রথম হিসেবে েএমন বিরল রেকর্ড গড়ায় সেটা আর কেউ ভেঙে ফেলতে পারবে না।

তামিম ইকবাল খান : ২০১৬ মার্চ। বিশ্বের ্একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে তিন ফরম্যাটে দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান ও ব্যাক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলে রেকর্ডবুক নতুন করে লিখতে বাধ্য করেন চট্টগ্রামের এই ফায়ারবাক্স।ছাড়া তামিম ইকবালে ঝুলিতে রয়েছে দলের হয়ে সব ফর‌ম্যাটে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি, ফিফটি, বেশি চার ও বেশি ছক্কা হঁকানোর রেকর্ডও্ সেসব ছাপিয়ে প্রথম দুটো রেকর্ডই অমরত্ব পেয়ে গেছে। যেটা আর কারও পক্ষেই ভাঙা সম্ভব হবে না।

সাকিব আল হাসান: ২০১৫ নভেম্বর। সবাই তাকে মিস্টার অল রাউন্ডার হিসেবেই চিনেন। এরই মধ্যে গড়ে ফেলেছেন বেশ কিছু বিশ্ব রেকর্ড। একই ইনিংসে সেঞ্চুরি ও ৫ উইকেট, ১০ উইকেটও নিয়েছেন । সেসব ছাপিয়ে তার যে রেকর্ড ক্রিকেট বিশ্বে অমরত্ব পেতে পারে সেটি হলো প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে একই সাথে ৩ ফরম্যাটেই বিশ্বের শীর্ষ অল রাউন্ডার হওয়া। এক সাথে যেখানে ৩ ফরম্যাটের দলে জায়গা ধরে রাখাই কঠির সেখানে ৩ ফরম্যাটে এমন কীর্তী গড়া প্রায় অসম্ভবই। যিনি এই রেকর্ড ভাঙবেন তাকে স্পোশাল প্রতিভা নিয়েই জন্ম নিতে হবে। আর যদি ভেঙেও ফেলেন তার পরও সাকিবের এই কীর্তি টিকে থাকবে কোটি বছর। কারণ প্রথম হিসেবে এই রেকর্ড গড়ার সুযোগ আর কারও নেই।

মুমিনুল হক: টেস্টে অভিষেকের পর থেকে টানা ১৩ টেস্টেই খেলেছেন পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস। যেটা একটা বিশ্ব রেকর্ড। ভিলিয়ার্সেরও ১৩ টেস্টে ফিফটি প্লাস রান করার রেকর্ড থাকলেও অভিষেকের পর গত ১৩৬ বছরের ইতিহাসে এমটা আর কোন ব্যাটসম্যান করে দেখাতে পারেন নি।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close