আইপিএলক্রিকেট

যে কারণে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন কেকেআর তারকা

একসময়ে খেলায় ব্যর্থ হওয়ায় নিজেকে শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন। আর এখন তার স্পিন ধ্বংস হচ্ছে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানরা। বিপক্ষের বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানদের রাতের ঘুম কেড়ে নিচ্ছেন কলকাতা নাইটরাইডার্সে তরুণ বোলার কুলদীপ যাদব।

মঙ্গলবার (১৬ মে) ইডেন গার্ডেন্সে রাজস্থান রয়্যালসের ব্যাটিং মেরুদণ্ড একাই ভেঙে দেন কুলদীপ। ২০ রান দিয়ে চার-চারটি উইকেট তুলে নেন তিনি। আর তার বোলিং নৈপুণ্যে কলকাতা নাইটরাইডার্সও ম্যাচটা জিতে নেয় সহজে।

কুলদীপের উপরে এখন হাজার ওয়াটের আলো। তাকে দলে রাখা নিয়ে অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও তৎকালীন কোচ অনিল কুম্বলের মধ্যে মন কষাকষি শুরু হয়েছিল। পরে তা অন্য আকার ধারণ করে। আর সেই কুলদীপ একদিন আত্মহত্যা করার ভাবনাচিন্তা করেছিলেন।

গত বছর লখনাউয়ে একটি অনুষ্ঠানে এসে নাইট-স্পিনার ফাঁস করেছিলেন সেই তথ্য। তখন কুলদীপের বয়স ১৩। সেই সময়ে উত্তরপ্রদেশের অনূর্ধ্ব ১৫ দলের জন্য ট্রায়াল দিয়েছিলেন কুলদীপ। দলে সুযোগ পাওয়ার জন্য ঘাম ঝরাতে হয়েছিল তাকে। তবুও দলে জায়গা হয়নি কুলদীপের। অনূর্ধ্ব ১৫ রাজ্য দলে জায়গা না হওয়ায় মানসিক দিক থেকে ভেঙে পড়েছিলেন কুলদীপ। তখনই আত্মহত্যার চিন্তা ভিড় করেছিল কুলদীপের মনে।

এই দুঃসময়ে সময়ে এগিয়ে আসেন কুলদীপের বাবা। কুলদীপকে বুঝিয়ে সুজিয়ে আবার ক্রিকেটে পাঠান তিনি। বাবার পরামর্শ পেয়ে বদলে যান চায়নাম্যান বোলার। এখন কুলদীপ জাদু ছড়াচ্ছেন মাঠে। তার বল বুঝতেই পারছেন না প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানরা। শুধু আইপিএলেই নন, দেশের জার্সিতেও ম্যাচ উইনার হয়ে উঠছেন কুলদীপ।

 

আইপিএলে জ্বলে উঠেই হারিয়ে গিয়েছেন এই তারকারা

ফ্রাঞ্চাইজিভিত্তিক ক্রিকেট লিগগুলোর মধ্যে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) যে সবচেয়ে জনপ্রিয় তাতে কোনো সন্দেহ নেই। অর্থের ছড়াছড়িতে সবচেয়ে জাকজমকপূর্ণও। এখানে খেলতে পারলেই কোটিপতি বনে যাওয়ার পাশাপাশি রাতারাতি তারকা বনে যাওয়ার সুযোগও আছে।

তবে সবাই যে তারকা হতে পারবে তেমনটা তো আর সম্ভব নয়। অনেক তারকা আবার আইপিএলে খেলতে এসেই হারিয়ে গেছেন। আবার কেউ আছেন এমন যে আইপিএল খেলতে এসে তারকা বনে গেলেন কিন্তু কিছুদিন পর আর খুঁজেই পাওয়া যায়নি। তাদের কয়েকজনকে নিয়েই আজকের আলোচনা।

মনবিন্দর বিসলা: বিসলাকে আইপিএলই তারকা বানিয়েছিল। ২০১১ সালের আইপিএলে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের বদলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের জার্সিতে খেলতে নেমে প্রথম ম্যাচেই খেলেছিলেন ৮৯ রানের ঝলমলে ইনিংস। সেই ইনিংসটাই সুযোগ করে দিয়েছিল বিসলাকে। ২০১২ সালের আইপিএলটা কেটেছিল দুর্দান্ত। কিন্তু ২০১৩ সালে সুবিধা করতে পারেননি। কলকাতার হয়ে ১৪ ম্যাচে করেছিলেন ২৫৫ রান। রবিন উথাপ্পার কাছে সেই যে জায়গা হারালেন আর সুযোগ পাননি বিসলা। পরে কোনো দলের হয়েই খেলা হয়নি। আলোচনা থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছেন ভারতীয় তারকা।

পারবিন্দর আওয়ানা: ২০১১ আইপিএলে পাঞ্চাবের হয়ে ১৭ উইকেট তুলে নিয়ে রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছিলেন আওয়ানা। এক মৌসুমেই তারকা বনে গিয়েছিলেন ভারতের ফাস্ট-মিডিয়াম পেসার। কিন্তু ওই মৌসুমের পর থেকেই নিজেকে হারিয়ে ফেলেন। ২০১১ আইপিএলের পারফরম্যান্সের কারণে ভারতের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি দলে ডাক পেয়েছিলেন। টেস্টে সেরা একাদশে সুযোগ মিলেনি। তবে একটা টি-টোয়েন্টি খেলার সুযোগ মিলেছিল। তবে মোটেও ভালো খেলতে পারেননি। পরে আলোচনা থেকেই হারিয়ে গেছে তার নাম।

কামরান খান: ২০১০ সালের আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে দুর্দান্ত খেলেছিলেন কামরান। নিয়মিত ১৪০ কিলিমিটার গতিতে বোলিং করার ক্ষমতার সাথে তার অদ্ভুত বোলিং অ্যাকশন নিয়ে বেশি কথা হচ্ছিল। বল হাতে সেবার স্মরণীয় সময় কাটিয়েছেন। ২০১১ সালে পুনেতে খেলার সময় উঠল বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন। তারপর থেকেই লাপাত্তা কামরান। জাতীয় দলে ঢোকা তো দূরের কথা ২৭ বছর বয়সী পেসারের ক্যারিয়ার থেমে আছে ১১টি ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ও ২টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচের মধ্যেই।

স্বপ্নিল আসনোদকার: ২০০৮ সালে আইপিএলের প্রথম আসরে রাজস্থানের হয়ে দারুণ খেলেছিলেন স্বপ্নিল। সেবার সাত ম্যাচে ১২০.০৬ স্ট্রাইক রেটে ২৪৪ রান করে বেশ নামডাক কুড়িয়েছিলেন। তার মধ্যে এক ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে করেছিলেন ৩৪ বলে ৬০। কিন্তু তারপর পারফরম্যান্সের গ্রাফ এতোটাই নিচে নেমে যায় যে, দলই পাননি স্বপ্নিল।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close