আন্তর্জাতিক ফুটবলফুটবল

রুশ মেয়ে পটানোর বুদ্ধি দিয়ে বিপাকে আর্জেন্টিনা

রাশিয়ায় বিশ্বকাপে রুশ মেয়েদের পটানোর বুদ্ধি দিয়ে বিপাকে পড়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। আর্জেন্টিনা থেকে যেসব সাংবাদিক যাচ্ছেন তাদের হাতে যে ম্যানুয়াল বই দেয়া হয়েছে, তার একটি চ্যাপ্টারে লেখা রয়েছে ‘ রুশ নারীদের কীভাবে পটাতে হবে’- আর এই পরিচ্ছেদ নিয়েই তাদের কড়া বিপাকে পড়েছে মেসির দেশের ফুটবল সংস্থা।

ম্যানুয়ালে সাংবাদিকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে রুশ নারীদের মনোরঞ্জন করতে হলে ‘নিজেকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখবেন, আপনার শরীর সুগন্ধী রাখবেন এবং ভালো জামাকাপড় পরবেন।’

এতে নারীদের সঙ্গে তাদের এমন আচরণ করতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে যাতে তারা মনে করেন ‘তাদেরও একটা দাম আছে’।
পুস্তিকার এই পরামর্শ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় ওঠার পর আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এই পরিচ্ছেদটি সেখান থেকে সরিয়ে নিয়েছে।

বইতে দেয়া পরামর্শের চ্যাপ্টারটি আট ভাগে ভাগ করা ছিল এবং এতে সরাসরি কী করতে হবে তা বলা হয়েছিল। নির্দেশিকার শুরুতেই বলা হয়েছিল, ‘রুশ মেয়েরা সুন্দরী, তাই বহু পুরুষ তাদের সঙ্গে শুতে চায়। হয়তো তারাও সেটা চায়, কিন্তু মনে রাখবেন তারাও মানুষ- তারাও গুরুত্ব চায়- তারা বিশেষ কেউ সেটা ভাবতে চায়।’

পুস্তিকায় আরো লেখা হয়, ‘তাদের কাছে যৌনতা নিয়ে বোকার মত প্রশ্ন করবেন না। যৌন সম্পর্ককে তারা একান্ত ব্যক্তিগত মনে করে এবং এটা নিয়ে সবার সামনে আলোচনা পছন্দ করে না।’

এএফএ-র সূত্র থেকে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে বিতর্কিত চ্যাপ্টারটি ইন্টারনেটের ব্লগ থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ম্যানুয়াল বা নির্দেশিকায় এই চ্যাপ্টারটি অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছিল কার সিদ্ধান্তে তা এখনো স্পষ্ট জানা যায় নি।

আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আয়ার্সে কয়েক মাস আগেই বিশাল এক নারী সমাবেশ হয়েছিল যেটি ছিল লাটিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় নারী সমাবেশ এবং সেখানে নারীদের প্রতি চরম বৈষম্যের বিরুদ্ধে এবং নারীদের ওপর নির্যাতনের অবসান দাবি করে বিক্ষোভ হয়েছিল। তার কয়েক মাসের মধ্যেই রুশ নারীদে মনোরঞ্জনের পরামর্শ সম্বলিত এই নির্দেশিকা বের হল।

 

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের মানুষের মুখে হাসি এনেছে ক্রিকেট

 

ভয়-ডর বলে তাঁদের কিছু নেই। মাঠের বাইরের লড়াইটা এত ভয়ানক, যে মাঠের যুদ্ধ নিয়ে তাঁদের ভয়-ডর থাকার কথাও নয়। ভারতের বিরুদ্ধে অভিষেক টেস্টে নামার আগে আসগর স্তানিকজাইয়ের আফগান দল তাই নির্ভার।

পাকিস্তানের উদ্বাস্তু শিবিরে থাকাকালীন ক্রিকেট-পাঠ শুরু করেছিল আফগানিস্তানের একটা প্রজন্ম। বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার মহড়া শুরু হয়েছিল সেই শিবির থেকেই। বাকিটা ইতিহাস। আফগানিস্তান এখন বিশ্ব ক্রিকেটে পরিচিত নাম। কিছুদিন আগে আইসিসি তাদের টেস্ট খেলার ছাড়পত্রও দিয়েছে। ১৪ জুন বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট খেলিয়ে দলের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট খেলতে নামবে কাবুলিওয়ালারা।

বিশ্বের এক নম্বর দল। কিন্তু তাতে কী, বিন্দুমাত্র টেনশন নিচ্ছেন না আফগানরা। স্বস্তির খবরটা অবশ্য আফগান শিবিরে আগেই পৌঁছেছে। বিরাট কোহলি তাঁদের বিরুদ্ধে খেলবেন না। স্তানিকজাই এসব খবরে আমলও দিচ্ছেন না। উল্টে বলছেন, ‘এই ভারতীয় দলটা যথেষ্ট শক্তিশালী। এখানে প্রত্যেকে এক-এক জন বিরাট। আমাদের লড়াইটা কিন্তু একা বিরাট কোহলির বিরুদ্ধে নয়, পুরো ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে। ফলে বিপক্ষ দলে কে থাকল আর কে থাকল না, তা নিয়ে আমাদের চিন্তা নেই।’

১৪ জুন ব্যাঙ্গালুরুতে হবে ভারত-আফগানিস্তান টেস্ট। একে তো প্রথম টেস্ট। তার উপর ভারতের মাটিতে খেলতে হবে। ব্যপারটা কতটা চাপের? স্তানিকজাই বলছিলেন, ‘ভারতে খেলা হলে স্পিনাররা সুবিধা পাবে। আর আমাদের দলে ভাল স্পিনার রয়েছে।’

আইপিএলে খেলার সুবাদে সেখানকার পরিবেশ, পরিস্থিতির সঙ্গে ভালমতো পরিচয় রয়েছে আফগান শিবিরের এক নম্বর স্পিনার রশিদ খানের। রশিদ ছাড়া মুজিব উর রহমানও আইপিএলে খেলেছেন। আর দলের এই দুই ক্রিকেটারকেই তুরুপের তাস হিসাবে ধরছেন স্তানিকজাই। আফগান অধিনায়ক বলছিলেন, গত চার-পাঁচ বছর ধরে আমরা টিম কম্বিনেশন ধরে রেখেছি। আমাদের ব্যাটিং অর্ডারেও খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি। এটা আমাদের কাছে বাড়তি সুবিধা। তা ছাড়া টিমের বেশিরভাগ ব্যাটসম্যানই ফর্মে রয়েছেন।’ প্রসঙ্গত, গত বছরই আয়ারল্যান্ডর সঙ্গে আফগানিস্তানও টেস্ট খেলার ছাড়পত্র পেয়েছে। আয়ারল্যান্ড ডাবলিনে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিষেক টেস্ট খেলেছে।

মাঠের লড়াইয়ের সঙ্গে তাদের মাঠের বাইরের লড়াইটাও কোনও বিন্দুতে এসে কি মিলে যায়? স্তানিকজাই সে কথা মেনে নিয়ে বললেন, ‘আমাদের জয়ে দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটে। এটাই সব থেকে বড় পাওনা। একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের মানুষের মুখে হাসি ফুটছে ক্রিকেটের জন্য। এটাই তো আাদের জেতার খিদেটা দ্বিগুণ করে দেয়।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close