আন্তর্জাতিক ফুটবলফুটবল

দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন হবে ব্রাজিলের!

বিশ্বকাপ শুরু হতে এক মাসও তো বাকি নেই। টুর্নামেন্টে যখন ২৩ জনের স্কোয়াড নিয়ে যাওয়া যাবে, তখন আর প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণার দরকার কী! আর্জেন্টিনার কোচ হোর্হে সাম্পাওলি না হয় ৩৫ সদস্যের নাম ঘোষণা করেছেন; কিন্তু ব্রাজিলিয়ানদের ভাবনা অমন নয়। ২০ বছর আগে ১৯৯৮ ফ্রান্স বিশ্বকাপের জন্য তো কোচ মারিও জাগালো শুধু স্কোয়াড নয়, প্রথম ম্যাচের একাদশও বলে দিয়েছিলেন!

লিওনার্দো বাচ্চি তিতে অতটা করেননি। তবে ২৩ জনের স্কোয়াড ঘোষণা করে দিয়েছেন সরাসরি। গেল ফেব্রুয়ারিতেই অবশ্য ১৬ জনকে রাশিয়া ভ্রমণের জন্য নিশ্চিত করেছিলেন। এর মধ্যে দানি আলভেস ইনজুরির কারণে গেছেন ছিটকে।

তাহলে বাদবাকি ওই আটটি পজিশনই ঘোষণার ছিল পরশু। তাতে তেমন কোনো চমক দেখাননি ব্রাজিল কোচ। আস্থা রেখেছেন পরীক্ষিত শিষ্যদের ওপরই।

রাখবেন না কেন! বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ষষ্ঠ স্থানে থাকা অবস্থায় ব্রাজিলের দায়িত্ব পান তিতে। বাছাই পর্বের এক-তৃতীয়াংশ শেষ তত দিনে, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা কোয়ালিফিকেশন স্লটের বাইরে। নতুন কোচের অধীন শেষ ১২ ম্যাচের মধ্যে ১০টিতে জেতে ব্রাজিল, ড্র বাকি দুই খেলায়। শীর্ষে থেকে নিশ্চিত করে রাশিয়া বিশ্বকাপের টিকিট। প্রীতি ম্যাচগুলোর ফলও উৎসাহব্যঞ্জক।

বিশেষত বাছাই পর্বের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের পাশাপাশি জার্মানির বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়—চার বছর আগের ‘সেমিফাইনাল ভূত’ তাড়াতে যা সাহায্য করেছে খুব।

রিও ডি জেনেইরোতে দল ঘোষণার সময় তাই ব্রাজিলকে ফেভারিট হিসেবে ঘোষণা দিতেও দ্বিধাহীন তিতে, ‘যেমন ফুটবল আমরা খেলেছি এবং যেমন ধারাবাহিকতা দেখিয়েছি, তাতে বিশ্বকাপে ব্রাজিল অন্যতম ফেভারিট হিসেবেই যাচ্ছে। আমরা আগ্রাসী ফুটবল খেলেছি, অনেক গোল করেছি। এখন নিজেদের ফেভারিট দাবি করাটা ঔদ্ধত্য নয়, শুধু সত্যটাই বলছি আমি।’

ওই ফেভারিট তকমায় একটাই সমস্যা—নেইমার। ইনজুরির কারণে গেল ফেব্রুয়ারির পর থেকে যিনি মাঠের বাইরে। প্রত্যাশিতভাবেই ব্রাজিলের ২৩ সদস্যের স্কোয়াডে রয়েছেন তিনি। আর ব্রাজিলের চিকিৎসক রদ্রিগো লাসমারও শোনাচ্ছেন আশার কথা, ‘ইনজুরি থেকে সেরে ওঠার পথে দারুণভাবে এগোচ্ছে নেইমার। ও এখন পুনর্বাসনের শেষ পর্যায়ে। দ্রুতই অনুশীলন শুরু করতে পারবে আর খেলতে পারবে প্রস্ততি ম্যাচগুলোও।’

বিশ্বকাপের আগে ৩ জুন ক্রোয়েশিয়া এবং ১০ জুন অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। নেইমারের ফিরে আসার খবরে আনন্দিত হলেও অন্যদের কর্তব্য মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি তিতে, ‘নেইমার থাকলে আমরা অনেক বেশি শক্তিশালী। কারণ ও বিশ্বের সেরা তিন ফুটবলারের একজন। তবে নেইমারের ভালো করার জন্য ওর চারপাশের পুরো দলেরও ভালো খেলা চাই।’

সেই পুরো দলের মধ্যে আক্রমণভাগ নিয়ে কিছু মধুর সমস্যা এখনো আছে তিতের। যেমন ‘নাম্বার নাইন’ হিসেবে কাকে খেলাবেন? নিজেই যেমন বলছেন, ‘স্ট্রাইকার হিসেবে গ্যাব্রিয়েল জেসুসই আমাদের পছন্দ।

তবে ফর্মের তুঙ্গে থাকা রবের্তো ফিরমিনো ওকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে।’ ওদিকে লিভারপুল থেকে মধ্য মৌসুমে বার্সেলোনায় নাম লেখানো ফিলিপে কৌতিনিয়োর পজিশন নিয়েও দ্বিধা কিছুটা, ‘ও তো মিডফিল্ডে খেলতে পারে; আবার উইংয়েও। সব জায়গায় মানিয়ে নিতে পারে। তবে প্রস্তুতির সময় অনেক ক্ষেত্রে পরিকল্পনা বদলে যেতে পারে।’

পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে ছিলেন দানি আলভেস। হাঁটুর ইনজুরির কারণে শেষ হয়ে গেছে যাঁর বিশ্বকাপ। বিকল্প হিসেবে নেওয়া হয়েছে দানিলো ও ফাগনারকে। তিতে অবশ্য এটিকে বড় হোঁচট বলে মানতে রাজি নন, ‘যাঁরা নেই, তাঁদের জন্য কান্নার কিছু নেই। আমাদের বরং পূর্ণ মনোযোগ দিতে হবে বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে।’

স্কোয়াডের গভীরতায় আস্থা রাখছেন ব্রাজিল কোচ, ‘সব সময় বলে আসছি, আমাদের স্কোয়াড খুব শক্তিশালী। ইনজুরির কারণে কেউ খেলতে না পারলেও আমরা পারফরম করেছি। ফুটবলীয় দৃষ্টিকোণ এবং ব্যক্তি পর্যায়েও দানি অবিশ্বাস্য এক নেতা। অবশ্যই ওকে আমরা মিস করব। তবে ওর ইনজুরি একই সঙ্গে সুযোগ এনে দিয়েছে ফাগনার, দানিলোদের প্রস্তুত করার। ওদের প্রতি আমাদের সেই আস্থা থাকবে, যা ছিল দানির প্রতিও।’

তিতের এই ব্রাজিলের প্রতি আস্থা রয়েছে ব্রাজিলবাসীরও। বিশ্বজোড়া ‘সেলেসাও’ সমর্থকদেরও। দেশে তুমুল অজনপ্রিয় ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট মিশেল তেমেরও বোঝেন সবার মনের কথা। এ কারণেই তো জাতীয় দলের প্রতি তাঁর টুইট, ‘স্বাগতিক রাশিয়া এবং অন্য সব বন্ধুর প্রতি যথার্থ সম্মান রেখে বিনয়ের সঙ্গে বলছি, দয়া করে তোমরা ট্রফি নিয়ে বাড়ি ফিরে এসো।’

ওই প্রার্থনাই এখন ব্রাজিলের সব সমর্থকের।
সূত্র: এএফপি

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close