আইপিএলক্রিকেট

ব্রাভোর গানের তালে ধোনি-রায়নার মেয়ের নাচ

সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির শিশু কন্যা জিভা ধোনি। বাবার সাথে তার সম্পর্ক, পানি খাইয়ে দেয়া- এমন কিছু সুন্দর ভিডিও ক্লিপের কল্যাণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ পরিচিত ৩ বছর বয়সী এই শিশু। এই শিশুটির একটি ভিডিও আবার সাধারণ মানুষকে আনন্দ দিয়েছে। এবার সে আইপিএলে তার বাবার সতীর্থ ডোয়াইন ব্রাভোর ‘চ্যাম্পিয়ন’ গানে নেচেছে। তার সাথে ছিল সুরেশ রায়নার ২ বছরের শিশুকন্যা গ্রেসিয়া রায়নাও।

ক্রিকেটের অন্যতম আমুদে চরিত্র হিসেবে ক্যারিবিয় ক্রিকেটার ডোয়াইন ব্রাভোর বা ডিজে ব্রাভোর বেশ পরিচিতি আছে। এই অল রাউন্ডারের মাঠের রঙ্গ-রসিকতা থেকে শুরু করে মাঠের বাইরে বিভিন্ন কাজ ভক্ত-সমর্থকদের বেশ আনন্দ দেয়। তার মজার এই কাজগুলোর মধ্যে ২০১৬ সালে গাওয়া ‘চ্যাম্পিয়ন’ গানটি বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। বর্তমানে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে আইপিএলে খেলছেন এই তারকা। সেখানে তার সতীর্থ ধোনি ও রায়না।

সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে ‘চ্যাম্পিয়ন’ গানটি গেয়েছিলেন ব্রাভো। সেখানে উপস্থিত ছিল জিভা ও গ্রেসিয়া। তারা গানটির সাথে নেচেছে। সাথে আরো একগাদা শিশু ছিল। সবাই মিলে একসাথে নেচে উপভোগ করেছে ব্রাভোর এই গানটি।

 

পরবর্তীতে এই নাচের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে চেন্নাই সুপার কিংসের অ্যাকাউন্ট থেকে টুইট করা হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘চ্যাম্পিয়ন গানের এর চেয়ে কিউটতম দৃশ্যায়ন আপনার চোখে পড়বে না!’

আইপিএলে ইতোমধ্যে ধোনি, ব্রাভো, রায়নার দল চেন্নাই প্লে অফ নিশ্চিত করেছে। তাই কিছুটা নির্ভারই আছেন তারা।

 

বিশ্বকাপের সবচেয়ে কলঙ্কিত ম্যাচগুলোর কাহিনী!

সময়ের পরিক্রমায় আরেকটি ফুটবল বিশ্বকাপ দুয়ারে কড়া নাড়ছে। ফুটবল বিশ্বকাপের জ্বরে পৃথিবীর মত কাঁপছে বাংলাদেশও। সারা বছর ক্রিকেটের ভিড়ে আড়ালে থাকলেও বিশ্বকাপ এলেই বাঙ্গালির ফুটবল প্রেম কিংবা উন্মাদনা চোখে পড়ার মত। প্রতিটি পাড়ায় মহল্লায় ইতিমধ্যেই তাদের পছন্দের দলের সমর্থক গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। নিজের পছন্দের দলের গুণগান করার পাশাপাশি প্রতিপক্ষ দলের দুর্নাম করায় ব্যস্ত সবাই। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যকার ঠান্ডা যুদ্ধ উপভোগ্য।

আর মাত্র কয়েকদিন পরেই রাশিয়ায় শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের ২১তম আসর। বিশ্বকাপের পূর্বের আসরগুলোতে জড়িয়ে আছে হাসি-কান্না , সাফল্য-ব্যর্থতার মুহূর্ত। তবে বিশ্বকাপ আসলেই সব ছাপিয়ে কিছু কলঙ্কিত ম্যাচ কথা উঠে আসে। বিশ্বকাপের এমন কয়েকটি কলঙ্কিত ম্যাচের গল্প নিয়ে আজকের আয়োজন।

২০০৬ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ড বনাম পর্তুগাল:
বিশ্বকাপ ফুটবলের সবচেয়ে কলঙ্কিত ম্যাচের একটি ছিল ২০০৬এ জার্মানিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ড ও পর্তুগালের মধ্যকার ম্যাচটি। রাউন্ড অফ সিক্সটিন এ এই দু দল মুখোমুখি হয়। ২৫ শে জুন ২০০৬ এ ম্যাচটির দায়িত্বে ছিলেন রাশিয়ান রেফারি ভ্যালেনটাইন ইভানভ। ম্যাচ শেষ হবার আগ পর্যন্ত রেফারিকে দুই দলের খেলোয়াড়দের মোট ১৬টি হলুদ কার্ড এবং ৪ বার লাল কার্ড দেখাতে হয়েছে।

নেদারল্যান্ড এবং পর্তুগাল দু দলেরই ফেয়ার প্লের জন্য সুনাম রয়েছে। কিন্তু বিশ্বকাপ ফুটবলের সবচেয়ে কলঙ্কিত ম্যাচের কালিমা এই দুই দেশই বহন করে চলছে। খেলা শেষে অবশ্য কেউ কেউ ম্যাচটাকে রাঘবি ম্যাচের সাথে তুলনা করেছে। ফিফা প্রেসিডেন্ট স্লেপ ব্লাটার এই ম্যাচের সম্পর্কে বলেন, ম্যাচে দুর্বল পারফরমেন্স এর জন্য রাশিয়ান রেফারির উচিত ছিল নিজেকে নিজেই হলুদ কার্ড দেখানো!

২০০৬ বিশ্বকাপে জিদানের হেড:
জার্মানিতে অনুষ্ঠিত ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফ্রান্স এবং জিনদিন জিদানের ভক্তদের জন্য এক মর্মপীড়াদায়ক ম্যাচ। ১৯৯৮ এর ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক জিদান একাই দলকে টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন ফাইনালে। খেলার প্রথমার্ধে ৭ মিনিটেই প্যানাল্টি থেকে গোল করেন জিদান। ১২ মিনিটের ব্যবধানে মার্কো মাতরাজ্জির গোলে সমতায় ফিরে ইতালি।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট আর কোন গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ে জিদানের একটি হেড ইতালির গোলরক্ষক বুফনের হাতে লেগে ক্রসবারে আঘাত হানে। জিদাম দলকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ১০৭ মিনিটে জিদানের সেই বিখ্যাত হেড অবাক করে বিশ্ববাসীকে। এবারের হেডটি বলে নয় সরাসরি মারলেন ইতালির মার্কো মাতেরাজ্জির বুকে। সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে যান ফ্রান্সের আশার প্রদীপ জিনেদিন জিদান। প্যানাল্টি শুট আউটে ৫-৩ গোলে ইতালির কাছে হেরে যায় ফ্রান্স। মুহূর্তেই হিরো থেকে ভিলেনে পরিণত হন জিদান।

১৯৬২ বিশ্বকাপে ব্যাটেল অব সান্তিয়াগো:
চিলিতে অনুষ্ঠিত ১৯৬২ সালের বিশ্বকাপে ইতালি এবং চিলির মধ্যকার ম্যাচটি বিশ্বকাপের আরেকটি কলঙ্কিত ম্যাচ। ম্যাচটিকে অবশ্য ফুটবল ম্যাচ না বলে মার্শাল আর্টস এর প্রদর্শনী বলাই ভাল। ফ্লাইং কিক, কিল-ঘুষি কি ছিল না সেই ম্যাচে। কাউকে কাউকে কাবাডি খেলতেও দেখা যায় সেই ম্যাচে। মাঠের যুদ্ধাবস্থা নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনবার পুলিশের সাহায্য নিতে হয় রেফারিকে। ২রা জুন ১৯৬২ সালের ঐ ম্যাচটি ব্যাটেল অফ সান্তিয়াগো নামে পরিচিত। ম্যাচ শেষে ইতালি টিমকে পুলিশের প্রোটেকশনে মাঠ থেকে বেরুতে হয়।

১৯৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনা-হ্যান্ড অফ গড:
ডিয়াগো ম্যারাডোনা ফুটবলের একজন জীবন্ত কিংবদন্তী। সাফল্যের পাশাপাশি বিতর্কও ম্যারাডোনার পিছু ছাড়েনি। মাদকাসক্ত এবং নারী কেলেঙ্কারি নিয়ে বিতর্ক ছিল ম্যারাডোনার নিত্য দিনের সঙ্গী। কিন্তু ম্যারাডোনার ফুটবল দক্ষতা নিয়ে কারো প্রশ্ন তোলার অবকাশ ছিল না। সেই ম্যারাডোনাই জন্ম দেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা বিতর্কের। ম্যারাডোনার একটি গোল যা ‘হ্যান্ড অফ গড’ নামে পরিচিত।

মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা এবং ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধ গোল শূন্য ড্র এর পর দ্বিতীয়ার্ধের ছয় মিনিটের মাথায় ইংল্যান্ড এর ডিবক্সের ভিতর উড়ে আসা বলকে হেড দিতে লাফিয়ে উঠেন ম্যারাডোনা এবং ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিটার শিল্টন। আশ্চর্যজনক ভাবে পিটার শিল্টন এর থেকে ৮ ইঞ্চি খাটো ম্যারাডোনা লাফিয়ে হেড দিয়ে গোল করেন। যদিও স্পষ্টই দেখা যাচ্ছিল ম্যারাডোনা হাত দিয়ে বল জালে পাঠাচ্ছেন কিন্তু রেফারি কিংবা লাইন্সম্যান দেখতে ব্যর্থ হন। ম্যারাডোনার এই গোলটি বিশ্বকাপ ফুটবলের অন্যতম বিতর্কিত গোল হিসাবে টিকে আছে।

২০১০ বিশ্বকাপে লুইস সুয়ারেজ:
সাউথ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত ২০১০ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয় ঘানা এবং উরুগুয়ে। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে শেষ হয়। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত মিনিটে। আফ্রিকার শেষ প্রতিনিধি ঘানা দাপটের সাথেই মোকাবেলা করছিল ল্যাটিন আমেরিকার জায়ান্ট উরুগুয়ের সাথে। ভাগ্য সুপ্রশন্য থাকলে ঘানা চলে যেতে পারত সেমিফাইনালে। কিন্তু বাঁধা হয়ে দাঁড়ান লুইস সুয়ারেজ, না ফুটবল নৈপুণ্যে নয়। তার কাপুরুষোচিত আচরণে উরুগুয়ে চলে যায় সেমিফাইনালে।

অতিরিক্ত মিনিটের শেষ মিনিটে ঘানার স্ট্রাইকার ডমিনিক আদিয়াস এর হেড থেকে বল যখন নিশ্চিত গোল লাইন অতিক্রম করছিল। তখন সুয়ারেজ ইচ্ছাকৃতভাবে হাত দিয়ে বল ঠেকান। যার ফলে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ থেকে বেড়িয়ে যেতে হয় তাঁকে। কিন্তু পেনাল্টি থেকে ঘানা গোল করতে ব্যর্থ হয়। এবং পরবর্তীতে টাইব্রেকারে উরুগুয়ের কাছে পরাজিত হয়ে বিশ্বকাপ থেকে ঘানা বিদায় নেয়।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close