ক্রিকেটবাংলাদেশ ক্রিকেটবিপিএল

এতবড় আয়োজন এই প্রথম

হাতে মাত্র কয়েকদিন। ৪ নভেম্বর শুরু হবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের পঞ্চম আসর।
এ আসরের উদ্বোধনী পর্ব নতুন ভেন্যু সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। এ লক্ষ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

এখন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের প্রহর গুণছেন সিলেটবাসী। দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই ইভেন্টকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। গ্রিন গ্যালারিসহ ১৮ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন স্টেডিয়ামে পর্যাপ্ত গোপন ক্যামেরা বসানো হয়েছে। স্টেডিয়াম, প্রবেশপথ ও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে শুরু হয়েছে সাজসজ্জার কাজ।

আয়োজকরা বলছেন, বন্যার কারণে বিপিএলের এবারের আসর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের একটা অংশ দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে। তবে সিলেটে এতবড় আয়োজন এই প্রথম।

এ আসরকে স্মরণীয় করে রাখতে সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা নিজস্ব ব্যবস্থায় আগামীকাল নগরীতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি করবে। বিসিবির অনুমতি সাপেক্ষে উদ্বোধনের দিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এতে গান করবেন সুবীর নন্দীসহ দেশের বরেণ্য শিল্পীরা।

চার-ছক্কার ঝড় তুলতে ঢাকা ডায়ানামাইট ছাড়া সিলেটে পৌঁছেছে বিপিএলের বেশিরভাগ টিম। যোগ হয়েছেন বিদেশি খেলোয়াড়রা। আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক অনুশীলন । তবে গত বৃহস্পতিবার থেকে কুমিল্লা ও সিলেট টিম পৌঁছে গেছে। তারা অনুশীলন করছে নিয়মিত।

প্রথমবারের মতো সিলেটে অনুষ্ঠিতব্য এই বড় আসরের সফলতা নিয়ে আশাবাদী আয়োজকরা। সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবির পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন, ‘আমরা মাঠের যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। আশা করছি একটি সফল ইভেন্ট উপহার দিতে পারব। ‘

এই বড় আয়োজনকে সামনে রেখে স্টেডিয়ামকে পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে। টিলা আর চা-বাগান বেষ্টিত এই স্টেডিয়ামের মর্যাদাও অনেক বেশি। স্টেডিয়ামের বিশেষত্ব নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর এই স্টেডিয়াম আক্ষরিক অর্থে ক্রিকেট স্টেডিয়াম।

যা শুধুমাত্র ক্রিকেটের জন্য তৈরি করা হয়েছে। প্রকৃতির মধ্যে অবস্থান এই স্টেডিয়ামের। গ্রিন গ্যালারি আর চা বাগানের বেষ্টনিতে গড়ে ওঠা এই স্টেডিয়ামের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আইসিসিও সন্তুষ্ট। তারা এই স্টেডিয়ামের প্রশংসা করেছেন। ‘

নিরাপত্তার বিষয়ে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর সিলেটের আইন-শৃংখলা সংশ্লিষ্টদের নিয়ে প্রস্তুতি সভা করেছে বিসিবি। সভায় সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) আব্দুল ওয়াহাব বলেন, ‘সিলেটে অনুষ্ঠিতব্য বিপিএলের সকল ম্যাচ সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজনে আমাদের যা করণীয় সব করতে প্রস্তুত আছি। মাঠে ও মাঠের বাইরে তিন স্তরের নিরাপত্তা দেওয়া হবে। খেলোয়াড়দের থাকার হোটেল ও মাঠে যাতায়াতে পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। ‘

এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, ‘বিপিএলের কর্মকর্তা ও সিলেটের সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিনিধিদের নিয়ে ইতোমধ্যেই আইনশৃংখলা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা বিপিএল কর্তৃপক্ষকে আশ্বস্ত করেছি এই আয়োজনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। ‘

এ আয়োজনকে সামনে রেখে খেলার মাঠ ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কের মোড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে গোপন ক্যামেরা।  পোশাক ও সাদা পোশাকের পুলিশের র‌্যাব ও বিজিবি আইন-শৃংখলা ব্যবস্থায় তাদের সহযোগিতা করবে বলে জানান আব্দুল ওয়াহাব।

র‌্যাব-৯ সিলেটের এএসপি মো. আফজাল হোসেন বলেছেন, ‘বিপিএল আয়োজনে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবের নিরাপত্তা বেষ্টনি থাকবে। খেলা চালাকালে মাঠে ও হোটেলে আলাদা চারটি টিম নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দায়িত্ব পালন করবে। ‘

স্টেডিয়ামের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলেছেন ভেন্যু ম্যানেজার জয়দ্বীপ দাস, ‘গত দুই সপ্তাহ ধরে মাঠের উন্নয়নে কাজ চলছে। এটা নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। এছাড়া গ্যালারি রং করা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় প্রতিদিন অন্তত অর্ধশত কর্মী কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের একমাত্র গ্রীণ গ্যালারিটিও প্রস্তুত করা হয়েছে। ‘

জয়দীপ দাস আরও জানান, সিলেট স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজ গত বছর শেষ হয়। কিউরেটর গামিনি ডি সিলভার তত্ত্বাবধানে পিচগুলো তৈরি করা হয়েছে। এই মাঠে এখন ৭টি উইকেট রয়েছে। আরো ৬টি প্র্যাকটিস পিচ তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি স্টেডিয়ামের ড্রেনেজ সিস্টেমের উন্নতি করা হয়েছে।  বিপিএলের এই আয়োজনকে সামনে রেখে সিলেটের ক্রীড়ামোদি দর্শকদের মধ্যে উৎসব আমেজ বিরাজ করছে।

সিলেটের মাঠে বিপিএল আসর ও সিলেটী পৃষ্ঠপোষকতায় প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘সিলেট সিক্সার্স’ এর অংশগ্রহণের কারণে সিলেটবাসীর আগ্রহে আলাদা মাত্রা। চলছে প্রচার-প্রচারণা, টিকিট সংগ্রহের জন্য আগে থেকেই দৌঁড়-ঝাপ।

মঙ্গলবার সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের বুথে টিকিট বিক্রির ১২ ঘন্টা আগে থেকে সারিবদ্ধ হয়েছিলেন দর্শকরা। একপর্যায়ে টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গেলে লাঠিচার্জও করতে হয়েছে পুলিশকে।  রাতভর অপেক্ষার পর সকালে টিকিট নিয়ে আনন্দ মিছিল করে বাড়ি ফিরেছেন অনেকে। তবে বেশিরাভাগ দর্শকই ফিরে গেছেন খালি হাতে আর পুলিশের মারের দাগ দেহে নিয়ে।

Tags
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close