আন্তর্জাতিক ক্রিকেটক্রিকেট

অস্ট্রেলিয়ার কাছ থেকে এমনটা আশা করেননি তাসকিন

তাসকিন আহমেদ নিজে ফাস্ট বোলার। তাই খুব ভালো করেই জানেন, বল টেম্পারিং বোলারদেরকে অবশ্যই সাহায্য করে। কিন্তু একই সঙ্গে তা ক্রিকেটের স্পিরিট নষ্ট করে। এককথায় এটি নিষিদ্ধ কাজ। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মতো ক্রিকেটের পরাশক্তি যখন ‘দলীয়ভাবে’ এই কাজ করছে, তাতে অবাক হয়েছেন বাংলাদেশি এই ক্রিকেটার।

কেপ টাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টে দলীয়ভাবে বল টেম্পারিং করার অভিযোগ উঠেছে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। ক্যামেরায় তার প্রমাণও মিলেছে। বলা যায়, হাতেনাতে ধরা পড়েছে অস্ট্রেলিয়া। শাস্তি হিসেবে অজি অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথকে এক ম্যাচে নিষিদ্ধ, চলতি ম্যাচের দুদিন বিশ্রাম ও শতভাগ ম্যাচ ফি কাটা হয়েছে। এ ছাড়া এই কাজের সঙ্গে সরাসরিভাবে যুক্ত ক্যামেরন ব্যানক্রফটকে ৭৫% ম্যাচ ফি জরিমানা ও তিনটি ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনার রেশ পৌঁছে গেছে বাংলাদেশেও। ক্রিকেটারদের মধ্যে আলোচনার নতুন বিষয় বল টেম্পারিং। তাসকিনের ভাবনা, এই কাজ থেকে সব ক্রিকেটারকেই বিরত থাকা উচিত।

২৬ মার্চ সোমবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিনি বলেন, ‘বল টেম্পারিং আসলে স্পিরিট নষ্ট করে। এটা করা ঠিক না। স্পেশালি অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের কাছ থেকে এটা আশা করা যায় না। এ জিনিসটা থেকে সব ক্রিকেটারেরই বিরত থাকা উচিত।’

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে ৫ টেস্ট, ৩২ ওয়ানডে আর ১৯ টি-টোয়েন্টি খেলা তাসকিন জানান, বল টেম্পারিং করলে কি সুবিধা পাওয়া যায়। কাজটা ধরাও অনেক কঠিন বলে মনে করেন তিনি।

তাসকিনের ভাষায়, ‘সত্যি বলতে বলের একটা পাশ যখন রাফ হয়, তখন রিভার্স হয় ওই মুহূর্তে। ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচে ক্যামেরার মধ্যে জিনিসটা ধরা খুব কঠিন। এটা ঘরোয়া ক্রিকেটেও কখনও করা উচিত নয়।’

এই ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক স্মিথকে আজীবন নিষিদ্ধ করার কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ান গণমাধ্যম। শুধু তাই নয়, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর অধিনায়ক ছিলেন স্মিথ। বল টেম্পারিং কাণ্ডের পর সেই নেতৃত্ব থেকেও সরতে হয়েছে তাকে।

 

বিপিএলেও বল টেম্পারিং হয়

 

‘বল টেম্পারিং একটা আর্ট’- মন্তব্যটা হাবিবুল বাশার সুমনের। কিন্তু সেই আর্টের কাজটা বাংলাদেশি পেসাররা পারেন না বলে মনে করেন সাবেক জাতীয় দলের এই অধিনায়ক। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) কিছুটা হলেও বল টেম্পারিংয়ের ঘটনা ঘটে বলে মনে করেন খালেদ মাহমুদ সুজন।

সুজন জাতীয় দলের ম্যানেজার। কদিন আগে ত্রিদেশীয় সিরিজে, শ্রীলঙ্কা সিরিজে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ‘টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের’ মোড়কে কোচের কাজ করেছেন তিনি। সাবেক এই অধিনায়ক বর্তমানে পুরনো দায়িত্বে অর্থাৎ ম্যানেজার হিসেবে ফিরেছেন। বিপিএলে তিনি কোচ ঢাকা ডায়নামাইটসের। তার অধীনে শিরোপাও জিতেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

দেশি-বিদেশি ক্রিকেটারদেরকে কোচিং করাতে গিয়ে আর বাকি দলগুলোর উপর পাখির চোখ রাখতে গিয়ে খানিকটা হলেও সুজন টের পান, বল টেম্পারিংয়ের মতো ঘটনা হয়তো ঘটছে। তবে সেটা একেবারেই চোখ এড়িয়ে।

সোমবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সে কথা তুলে সুজন বললেন, ‘বিপিএলে কিছু ক্ষেত্রে যে হচ্ছে না (টেম্পারিং) এমন না। হয়তো বাঁ হচ্ছে, আমরা বুঝতে পারি না। এটা যারা করে তারা অনেক ট্যাক্টফুলি করে। অনেক পন্থা অবলম্বন করে। এটা উচিত নয়। কিন্তু অনেক কিংবদন্তি ক্রিকেটাররা এটা করেছে, কাজেই এটাকে এখন খেলারই অংশ বলতে হবে।’

বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান বলেছেন, ‘যারা খেলছে তারা খুবই সচেতন। সবকিছু স্বাভাবিকভাবে নেয়। নেতিবাচক কিছু করে জেতার মানসিকতা নেই এবং থাকবেও না এই বিশ্বাস করি। বোর্ডের তাই আলাদা করে সচেতন হওয়ার দরকার নেই মনে করি।’

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close