আন্তর্জাতিক ফুটবলফুটবল

বিবিসি বনাম এমএনসি

ঠিক এই ম্যাচটাই মাস ছয়েক আগে হলে আলোচনার শুরুতে দুই ‘তিনের’ লড়াইয়ের প্রসঙ্গটা টেনে আনা যেত। এখনো যায়। কিন্তু লড়াইটার ঝাঁজালো অনুভূতি এখন ঠিক সেভাবে পাওয়া যাচ্ছে কি?

কাদের কথা বলা হচ্ছে বুঝতেই পারছেন। দুই ‘ত্রয়ী’। একদিকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, গ্যারেথ বেল, করিম বেনজেমা—‘বিবিসি’। অন্যদিকে নেইমার, এডিনসন কাভানি, কিলিয়ান এমবাপ্পে—‘এমএনসি’। মুখোমুখি যখন পিএসজি ও রিয়াল মাদ্রিদ, এই দুই ত্রয়ীর লড়াই-ই তো সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন, তাই না?

কিন্তু আজ মাদ্রিদে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগের আগে বিজ্ঞাপনটা যতটা না ধারে কাটছে, তার চেয়ে বেশি কাটছে ভারে। দায়টা দুই ত্রয়ীর ফর্মের, বিশেষত বিবিসির। বেনজেমা মৌসুমে গোল করেছেন পাঁচটি, গত নভেম্বরের পর লিগে গোল নেই। গ্যারেথ বেল তো চোট কাটিয়ে কখন খেলেন, আবার কখন চোটে পড়েন, সেটির হিসাব রাখার জন্য মাইক্রোসফট এক্সেলে আলাদা ফাইলই তৈরি করতে হয়। ফর্ম অবশ্য ওয়েলশ উইঙ্গারের ভালোই যাচ্ছে। সর্বশেষ যে সাত ম্যাচে মাঠে নেমেছেন, তাতে পাঁচ গোল। ‘বিবিসি’র তরঙ্গটা রোনালদোই যা ধরে রেখেছেন। সর্বশেষ ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে পিএসজি-প্রস্তুতির হালচালও জানিয়ে দিয়েছেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড।

ওদিকে এমএনসির কী অবস্থা? সেখানেও ত্রিফলার একটিতে কিছুটা জং ধরেছে। নেইমার ও কাভানি এখনো শাণিত, ধারালো। কাভানি গোল করেই যাচ্ছেন, নেইমার গোল করার পাশাপাশি সমানতালে করিয়েও যাচ্ছেন। কিন্তু এমবাপ্পে হারিয়ে খুঁজছেন মৌসুম শুরুর ফর্ম।

তাহলে এই ম্যাচে লড়াইটা সেভাবে জমবে না?

সে কথা বলার ঝুঁকি কে নেবে! ফর্মের হিসাব, গোলের পরিসংখ্যান…ওসব তো ম্যাচের আগে-পরের বিবেচ্য। ম্যাচের ৯০ মিনিটে কী হবে, সেটি আগে থেকে অনুমান করতে না যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। বিশেষ করে, ম্যাচটা যখন চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বের, রিয়াল ও পিএসজির সম্ভাব্য মৌসুম-নির্ধারক। রোনালদো তো আরও মাস দুয়েক আগেই বলে দিয়েছিলেন, ‘এই ম্যাচই আমাদের মৌসুম কেমন গেল, তা ঠিক করে দেবে। দুর্দান্ত খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া অসাধারণ একটা দলের মুখোমুখি হচ্ছি আমরা।’

লিগ জেতার আশা বাস্তবে নেই, কাপ থেকেও বাদ—মাদ্রিদের জন্য ম্যাচটা কেন মৌসুম-নির্ধারক বোঝাই যায়। শিরোপার একমাত্র আশাই এখন চ্যাম্পিয়নস লিগ। পিএসজির জন্য ব্যাপারটা উল্টোভাবে সত্যি। ফ্রেঞ্চ লিগে সবচেয়ে বেশি দাম দিয়ে গড়া দল তাদের, লিগের সবচেয়ে বেশি বেতনভোগী ১৩ ফুটবলারের ১২ জনই তাদের। লিগ আর ঘরোয়া কাপ জেতা তো পিএসজির জন্য তুড়ি বাজানোর মতো ব্যাপার। অন্তত সাধারণ্যে প্রত্যাশা তা-ই। পরীক্ষাটা বরং চ্যাম্পিয়নস লিগে। এটি না জেতা মানে, অন্য সব জেতাও ‘ব্যর্থতা’।

দুই পক্ষেরই যেখানে পিঠ ঠেকেছে দেয়ালে, ম্যাচটা বারুদে হওয়ারই কথা। তাতে অভিজ্ঞতাই হতে পারে মাদ্রিদের বড় অস্ত্র। সবচেয়ে বেশি চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার রেকর্ড তাদের। সর্বশেষ চার মৌসুমে জিতেছে তিনবার, চ্যাম্পিয়নস লিগ যুগে টানা দুবার জয়ের রেকর্ডও গড়েছে গত মৌসুমে। একসময়ের মাদ্রিদের ও বর্তমানে পিএসজির উইঙ্গার অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়াও তো বলেছেন, ‘চ্যাম্পিয়নস লিগের থিম সং শুনলেই মাদ্রিদের খেলোয়াড়েরা বদলে যায়!’ এই মৌসুমে বিদ্যুতের সুইচের মতো ফর্মে ‘অন-অফ’ ভাবটা এখন আর থাকবে না দলের, এটাই নিশ্চয় প্রার্থনা করছেন কোচ জিদান।

রক্ষণ নিয়েই বেশ ভাবতে হচ্ছে জিজুকে। রাইটব্যাক দানি কারভাহালের দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার শেষ ম্যাচ এটি। সেখানে কে খেলবেন? নেইমার তো ওদিক দিয়েই ঢুকবেন! সর্বশেষ আট ম্যাচের একটিতেও নিজেদের জাল অক্ষত ছিল না, এটিও নিশ্চয়ই জিদানের মাথাব্যথার কারণ। এটি ৮-এ থেমে যাক, তাতে আরেকটি ‘আট’ ছুঁয়ে ফেলুক রিয়াল, চাইবেন সেটিও। সর্বশেষ সাত মৌসুমে প্রতিবারই চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলো পেরিয়ে গেছে রিয়াল। একটা রেকর্ডও প্রেরণা জোগাবে জিদানকে। রিয়ালে তাঁর দুই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে দুই লেগ মিলিয়ে কখনো হারেনি রিয়াল।

আর পিএসজির প্রেরণা? নেইমার আছেন না! বার্সেলোনা থেকে তাঁকে নিয়ে আসা, তাঁর নিজের বার্সেলোনা ছাড়া, সবকিছুর কেন্দ্রেও তো এটিই। চ্যাম্পিয়নস লিগ। হতে পারে রিয়ালের অভিজ্ঞতার সামনে তারা নস্যি, কিন্তু নেইমার আছেন বলেই তো পিএসজি স্বপ্ন দেখে। নেইমার আছেন বলেই পিএসজি টুর্নামেন্ট-পূর্ব হট ফেবারিটদের একটি।

ওহ, এই ম্যাচের ডামাডোলে আরেকটা ম্যাচ তো হারিয়েই গেছে আড়ালে। অথচ সেখানে খেলছে দুই সাবেক চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী। পোর্তোর মাঠে আজ খেলতে যাবে লিভারপুল। তাতে কারা ফেবারিট বুঝতে একটা তথ্য কাজে লাগতে পারে। এর আগে চারবারের দেখায় কখনো ইংলিশ ক্লাবটিকে হারাতে পারেনি পোর্তো।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close