আন্তর্জাতিক ক্রিকেটক্রিকেট

শারজায় রশিদ খানের নেতৃত্বে আফগান শো

প্রতিটি ম্যাচেই যেন অন্তমিলকে পুঁজি করে বাঁচতে চাইছে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে। প্রথম দুই ম্যাচে দুই দলই জয় পায় ১৫৪ রানে। ঠিক তৃতীয় ম্যাচে এসে সেই জয়ের স্কোরই হয়ে যায় জিম্বাবুয়ের দলীয় স্কোর। শারজায় রশিদ খানের নেতৃত্বে আফগান শো।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে রশিদ খানের বোলিং তোপে ছয় উইকেটে জয় পেয়েছে আফগানিস্তান। এই জয়ের ফলে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল আফগানরা। সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যথাক্রমে ১৬ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি।

মঙ্গলবার শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে রশিদ খানের ঘূর্ণি জাদুর ফাঁদে পা দেয় জিম্বাবুয়ে। তার সঙ্গে জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানদের দিশেহারা করেন আরেক স্পিনার মুজিব উর রহমান। শেষ পর্যন্ত ৩৪.৩ ওভারে ১৫৪ রান সংগ্রহ করে অলআউট হয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন ক্রেইগ আরভিন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেন সিকান্দার রাজা।

আফগানিস্তানের পক্ষে ৮.৩ ওভার বল করে ২৪ রান দিয়ে পাঁচটি উইকেট নেন রশিদ খান। ১০ ওভার বল করে ৪৫ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন মুজিব উর রহমান। এছাড়া দৌলত জাদরান ১টি ও গুলবদিন নাইব ১টি করে উইকেট নেন।

পরে আফগানিস্তান ব্যাট করতে নেমে ২৭.৩ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয়। দলের পক্ষে রহমত শাহ করেন ৫৬ রান। নাসির জামাল করেন ৫১ রান। ইনসানউল্লাহ ১২ ও মোহাম্মদ নবী অপরাজিত ১৮ রান করেন।

জিম্বাবুয়ের পক্ষে টেন্ডাই সাতারা ২টি, গ্রায়েম ক্রেমার ১টি ও রায়ান বার্ল ১টি করে উইকেট নেন। ২ বছর ৩ মাসের ছোট্ট ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো ৫ উইকেট (কিংবা তার বেশি) শিকার করে ম্যাচসেরা হন রশিদ খান।

পরিস্থিতিটা একটু আলাদা-তামিম

গতকাল ছিল পহেলা ফাগুন, শুরু হয়ে গেছে বসন্তের বাতাস। শীত বিদায় নিয়েছে মরা পাতা ঝরিয়ে। ঠিক এমন একটি দিনে বাংলাদেশ দল কী করে বিষণ্ন থাকে! হ্যাঁ, থাকারই কথা- নিজেদের ভুলে ডেকে এনেছে দুঃস্বপ্ন। ত্রিদেশীয় ওয়ানডের পর টেস্ট সিরিজ হেরে খাবি খাচ্ছে মুক্তির আশায়। তাই দলের বিষণ্নতা দূর করতে সকালে জাতীয় দল গিয়েছিল আনন্দ ভ্রমণে। সকাল ১১টায় হোটেল সোনারগাঁও থেকে পূর্বাচলের একটি রিসোর্টে যায় দল।
সেখানে সারা দিন মন খুলে আনন্দ করে বিকালে মিরপুর মাঠে শুরু করে অনুশীলন। তবে এ উৎসবে যোগ দিতে যাননি মুশফিকুর রহীম ও সাব্বির রহমান রুম্মান। অনুশীলনে মাঠে নামার আগে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন দেশের সেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। বলা হচ্ছিল টি-টোয়েন্টি সিরিজে তিনি হচ্ছেন অধিনায়ক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকেই নেতৃত্ব তুলে দেয়া হয়েছে। যদিও অধিনায়ক কে হচ্ছেন তা নিয়ে কোনো চিন্তা ছিল না তামিমের। তার কণ্ঠে শুধু ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়। ওয়ানডে ও টেস্টের ভুল থেকে শিক্ষা নিলেও এখন সেই বাজে সময় ভুলে নতুন শুরু করতে চান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে বলা তার কথার মূল অংশ তুলে ধরা হলো-
ব্যর্থতা ভুলে নতুন শুরু
যেটা চলে গেছে, চলে গেছে। সবারই এটি নিয়ে মন খারাপ। আমরা মনে করেছিলাম যা খেলেছি তার চাইতে ভালো রেজাল্ট করবো অথবা তার চাইতে ব্যক্তিগতভাবে ভালো পারফর্ম করবো। কিন্তু তা হয়নি। এমনটি ক্রিকেটে হয়ই। কিন্তু এখান থেকে আপনি কীভাবে ঘূরে দাঁড়াবেন সেটাই বিষয়। আবার একটা নতুন সিরিজ যেটি ভিন্ন ফরমেটে। এই জায়গাতে নিজের সেরাটা দিতে হবে বাংলাদেশের জয়ের জন্য। টিম ম্যানেজমেন্ট বলেন আর আমরা সবাই জানি খারাপ খেলছি কারণ আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুসারে খেলতে পারিনি। এখন তাদের টার্গেট সবার মধ্যে আমাদের ভালো খেলতে হবে। আমরা যদি আমাদের ভালোটা খেলি তাহলে টি-টোয়েন্টি সিরিজ চমৎকার হবে।
সামনে অনেক টি-টোয়েন্টি
এখন পরিস্থিতিটা একটু আলাদা। আমরা নরমাললি টি-টোয়েন্টি খেলতাম খুবই কম। কিন্তু আপনি যদি আমাদের পরবর্তী ৬ মাস বা এক বছরের ফিক্সার দ্যাখেন আমরা কিন্তু প্রচুর সংখ্যাক টোয়েন্টি খেলবো। আমরা এখানেও ২টা খেলবো, আশা করি শ্রীলঙ্কায় ৫টা খেলবো। তারপর ওয়েস্ট ইন্ডিজেও ২টা না ৩টা ম্যাচ আছে। সো, এখন আমার কাছে মনে হয় এটাই সঠিক সময়, যে আমাদের কোন ধরনের ভারসাম্যে অথবা কোন ধরনের পরিকল্পনায় আমরা সামনে আগাবো তা ঠিক করা। এখন থেকে আমরা যদি রেডি হয়ে যাই, যত কম সময় নিয়ে- তত আমাদের জন্য ভালো। বিকজ ২০২০-তে ওয়ার্ল্ড কাপ আছে।
নতুন ৫ ক্রিকেটার
আমি দু-তিনজনের নাম বলবো। স্পেশালি রাহী আমার কাছে মনে হয় ওয়েল ডিজার্ভিং। কারণ শেষ দুই বছর ধরে বিপিএলে টপ পারফর্মার বোলিংয়ের দিক থেকে। আরিফুল হকও শেষ দুই তিন বছর ধরে বিপিএলে সমানভাবে ভালো খেলে যাচ্ছে। আর আমরা সব সময় বলি যে একজন ফিনিশার দরকার, যে ম্যাচটা শেষ করে আসতে পারবে। আরও দুজন নতুন আছেন, একজন আমার সঙ্গে খেলেছে (মেহেদী হাসান) আমি মনে করি তার বিগ হার্ট। আমার কাছে মনে হয় না যে এই দুই ম্যাচ অথবা সামনে আরও তিন চারটা ম্যাচ দেখে ওকে বিচার করা উচিত। আশা করবো প্রথম ম্যাচ থেকেই টিমে নিজের একটা অবস্থান করে ফেলবে, যখনই ও খেলতে সুযোগ পাবে। নির্বাচকরা ওদের দলে নিয়েছেন সক্ষমতা দেখেই। আশা করবো ওদেরকে লম্বা সময়ও দেয়া হবে।
প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা
গত কদিনে মনে হচ্ছে তারা ভালো করছে। তারা অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশ্রণ, কিছুটা আমাদের মতোই। আমি ওরা বা আমরা এগিয়ে আছি তা বলব না। দুই দলই সমান সামর্থ্যের, নির্দিষ্ট দিনে যারা ভালো খেলবে তারাই জিতবে।
ওপেনিংয়ে ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠা
শুরু তো আসলে সব ফরমেটেই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ব্যাটিং বা বোলিং যখন ভালো শুরু করি, তখন বেশির ভাগ সময় দারুণ হয়। ব্যাটিংই নয় বোলিংও, শুরুটা সব জায়গাতেই গুরুত্বপূর্ণ।
মিডিয়া নিয়ে খালেদ মাহমুদের বক্তব্য
উনি কী বলেছেন তাতে আমার না যাওয়াই ভালো হবে। আমার কাছে দল হিসেবে, ম্যানেজমেন্ট হিসেবে আমরা শক্ত থাকি, সেটাই বড় কথা। মিডিয়াও খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে এখন। আমরা আমাদের কাজ করি, মিডিয়া মিডিয়ার কাজ করুক। আমাদের নিজেদের কাজেই মনোযোগ থাকা উচিত।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close