আন্তর্জাতিক ক্রিকেটক্রিকেট

২০১৩ সালে মাত্র ৪টা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ

ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণ টি-টুয়েন্টি। কম ওভারের খেলা হওয়ায় দুই দলের পার্থক্য কমই থাকে। তাই এ সংস্করণে বাংলাদেশের বেশ ভালো সম্ভাবনাই দেখেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। আদতে তা হয়নি। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এক বছরে যত ওয়ানডে খেলে, তার অর্ধেকও টি-টোয়েন্টি খেলে না। অথচ বাংলাদেশে আন্তর্জাতিকমানের একটি লিগ হয়। সেখান থেকে প্রতি বছর ভালো ভালো ক্রিকেটার আবিষ্কৃত হচ্ছে। দল হিসেবে ওয়ানডেতে বাংলাদেশ যে পরিমাণ উন্নতি করেছে টি-টোয়েন্টিতে ঠিক ততটুকু হয়নি।
এখন পর্যন্ত ৬৯টি টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। যার মধ্যে জয় মাত্র ২১টি। এর অধিকাংশই এসেছে দুর্বল দলগুলোর বিপক্ষে। তাই টি-টুয়েন্টিতে আরও উন্নতি করা উচিৎ বলেই মনে করেন দলের অন্যতম সেরা তারকা তামিম ইকবাল। আশা করছেন এ সংস্করণে আরও ভালো খেলতে পারবে টাইগাররা।

মঙ্গলবার তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে অনুশীলনে নামার আগে সংবাদ সম্মেলনে তামিম বলেন, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশের আরও ভালো করা উচিত, এই একটা ফরম্যাটে আমি বিশ্বাস করি আমরা যা করি তার চেয়ে আরও ভাল করতে পারি। আমরা যা খেলছি তার চেয়ে অনেক ভাল খেলতে পারি। পাশাপাশি এই ফরম্যাটে আমরা ইন্টারন্যাশনাল লেভেলের ডমেস্টিক টুর্নামেন্টও খেলি, সেটা হল বিপিএল। সুতরাং এই একটা ফরম্যাটে আমাদের আরও ভাল করা উচিত। আমি আশা করি আমরা আরও ভাল খেলতে পারি।
ড্যাশিং এ ওপেনার বলেন, আমার কাছে মনে হয় যে কোনও ক্রিকেটার লাগাতার দুই বা তিন বছর ঘরোয়াতে পারফর্ম করছে, জাতীয় দলে আসার পর তার একটা বা তিন-চারটা খারাপ ম্যাচ হতেই পারে। তাকে ওই সময় সরিয়ে দেয়াটা আমার মনে হয় না কোনও সমাধান। আমি মনে করি, যখনই তাকে নির্বাচন করা হয় তার ওই সক্ষমতা আছে এটাই চিন্তা করা হয়। এজন্য যথেষ্ট সুযোগ দিতে হবে।
২০১৩ সালে মাত্র ৪টা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। ২০১৪ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে হয় ১০টি। ২০১৫তে এসে আবার কমে যায় টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সংখ্যা। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ মাত্র ৫টি ম্যাচ খেলে। ২০১৬ সালে বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপ থাকায় বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি খেলে সর্বোচ্চ ১৬টি। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের খেলা টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সংখা মাত্র ৭। তবে নতুন ক্যালেন্ডারে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সংখ্যা বাড়ছে।
এ বিষয়ে তামিম বলেন, এখন পরিস্থিতিটা একটু আলাদা। আপনি যদি দেখেন আমরা নরমালি টি-টোয়েন্টি খেলতাম খুবই কম। কিন্তু আপনি যদি আমাদের পরবর্তী ৬ মাস বা এক বছরের সূচি দেখে আমরা কিন্তু প্রচুর পরিমান টি-টোয়েন্টি খেলব। সম্ভবত ওয়ানডের চেয়েও বেশি টি-টোয়েন্টি খেলা আছে পরবর্তী এক বছরের মধ্যে। আমরা এখানেও ২টি খেলব। শ্রীলঙ্কায় ৪/৫টা খেলব।
তারপর ওয়েস্ট ইন্ডিজেও ২-৩টি টি-টোয়েন্টি আছে। এখন আমার কাছে মনে হয় এখনই সঠিক সময় যে আমাদের কোন ধরণের ব্যালান্স অথবা কোন ধরণের প্ল্যানিংয়ে আমরা আগাব। এখন থেকে আমরা যদি রেডি হয়ে যাই যত কম সময় নিয়ে তাহলে আমাদের জন্য ভাল।
২০২০ সালে টি-টুয়েন্টির পরবর্তী বিশ্বকাপ হবে অস্ট্রেলিয়ায়। এর আগেই সঠিক পরিকল্পনা গড়ে এগিয়ে যাওয়ার কথা বললেন তামিম। এর মধ্যেই চলতি শ্রীলঙ্কা সিরিজের জন্য ৬ জন নতুন মুখ ডেকেছে বিসিবি। যারা প্রত্যেকেই বিপিএলে ধারাবাহিক পারফর্মার। এটাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন তিনি। আশা করছেন তাদের পর্যাপ্ত সুযোগ দেবেন নির্বাচকরা।
তামিম আরও বলেন, এমন না আমরা অনেক অনেক খেলোয়াড় প্রস্তুত করছি। আমরা খেলোয়াড় প্রস্তুত করছি, হয়ত এইচপি ও অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে আসছে। কিন্তু যখন একজন আসে, অন্তত সবার সন্তুষ্টির জন্য তাকে যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া উচিত। কারণ আমার মনে হয় ঘরোয়া ক্রিকেট ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মধ্যে একটা বড় গ্যাপ থাকে। ওখানে খাপ খাইয়ে নেয়ারও ব্যাপার আছে। তারা (নির্বাচকরা) যদি মনে করে বাংলাদেশের হয়ে ভালো করার ওর সামর্থ্য আছে, তাকে তাহলে যথেষ্ট সুযোগ দেয়া উচিত।
বাংলাদেশ ওপেনার বলেন, আশা করবো প্রথম ম্যাচ থেকেই নিজের একটা অবস্থান টিমে করে ফেলবে যখনই ও খেলে। ভাল একজন খেলোয়াড় কখনও নিশ্চয়তা দিতে পারবে না যে সে প্রথম ম্যাচ বা প্রথম তিন ম্যাচ ভাল খেলবে। হয়তোবা ৪ বা ৫ নাম্বার ম্যাচ থেকেও ভাল খেলতে পারে। এমনও হতে পারে প্রথম ম্যাচ থেকেও ভাল খেলতে পারে। আমি নিশ্চিত ওদেরকে এটা ভেবেই নির্বাচন করেছেন যে ওদের সামর্থ্য ও স্কিল আছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে টি-টুয়েন্টি ভাল খেলার। আশা করবো ওদেরকে এজন্য পর্যাপ্ত সময় দেয়া হবে।
তামিম বলেন, আমি দুই-তিনজনের নাম উল্লেখ্য করেই বলতি পারি…স্পেশাল রাহী, আমার কাছে মনে হয় ওয়েল ডিজার্ভিং। কারণ শেষ দুই বছর ধরে বিপিএলে টপ পারফর্মার বোলার হিসেবে। আরিফুল হকও শেষ দুই-তিন বছর ধরে বিপিএলে সমানভাবে ভাল খেলে যাচ্ছে। আরও দুজন নতুন আছেন, একজন (মেহেদী) আমার সাথে খেলেছে। আমি মনে করি হি হ্যাজ অ্যা ভেরি বিগ হার্ট। আমার কাছে মনে হয় না যে এই দুই ম্যাচ অথবা সামনে আরও তিন-চারটা ম্যাচ দেখে ওকে মূল্যায়ন করা উচিত। কারণ এখনও অনেক তরুণ।
গত সোমবার বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজনের কথার রেশ ধরে তামিম বলেন, আমারতো মনে হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে উন্নতির পেছনের গণমাধ্যমের ভূমিকা অনেক। সাংবাদিকরা ক্রিকেটর বন্ধু। মিডিয়া তাদের কাজ করবে আমরা আমাদের কাজ করবো। সুজন ভাই সেদিন কি বলছে সেটা একমাত্র ওনার ব্যক্তিগত মতামত। আমি শুধু আমার জায়গা থেকে আমার মতামত দিলাম।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close