আন্তর্জাতিক ক্রিকেটক্রিকেট

স্লিপে ক্যাচ ধরতে যা করতে হবে ইমরুল-সাব্বিরদের

টেস্ট স্ট্যাটাসপ্রাপ্তির পর থেকেই এই এক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে বাংলাদেশ। স্লিপে ক্যাচ ধরার রহস্যটা যে উন্মোচন করতেই পারছে না বাংলাদেশ। স্লিপে ক্যাচ ধরা ১৮ বছরেও আয়ত্তে আনতে পারেননি দুই প্রজন্মের ক্রিকেটাররা। উইকেটরক্ষকের পাশে যাঁকেই রাখা হোক না কেন, বোলারদের আস্থার প্রতিদান দিতে পারছেন না কেউই।

টেস্ট সিরিজ চলাকালে এটা বেশ ভয়ংকর মনে হলেও সিরিজ শেষের পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশের স্লিপে ক্যাচ ফসকানোর সংখ্যাটা অতটা বেশিও ছিল না। দুই টেস্টে দুবার করে মোট চারটি ক্যাচই ফেলেছেন বাংলাদেশের স্লিপ ফিল্ডাররা। অবশ্য ফ্ল্যাট উইকেট কিংবা স্পিনবান্ধব উইকেটে এভাবে মুফতে পাওয়া জীবনটা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে বড় শাস্তিই দিয়েছেন শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যানরা।

স্লিপ ফিল্ডিংয়ের মান পড়ে গেছে প্রায় প্রতিটি দলেই। এর পেছনের কারণটা ব্যাখ্যা করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ক্রিকেটার ড্যারেল কালিনান। ৭০টি টেস্ট ম্যাচে নামার সৌভাগ্য হয়েছে কালিনানের। এ ৭০টি টেস্টে ৬৭টি ক্যাচ তাঁর। সংখ্যাটা কম না বেশি, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই বলে ফেলা যাক, দক্ষিণ আফ্রিকা দলে স্লিপে যাওয়া ক্যাচটা ভাগাভাগি হয়ে যেত দুর্দান্ত সব ফিল্ডারের কাছে। কালিনান অবশ্য ৬৭টি ক্যাচ ধরতে পেরেও তৃপ্ত। অভিষেক টেস্টেই যে ৪টি ক্যাচ ফেলেছিলেন হাত থেকে! এরপরই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্লিপে নিজের দক্ষতা বাড়াবেন। নিজে যে পথে হেঁটেছেন, সে পথটাই দেখিয়ে দিচ্ছেন উত্তরসূরিদের। ক্রিকেট মান্থলির সঙ্গে দেওয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে ব্যাখ্যা করেছেন কীভাবে স্লিপে ক্যাচ ধরার ক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। সে জন্য কয়েকটি ধাপও বলে দিয়েছেন—

প্রথম ধাপ: উইকেটরক্ষকদের মতো ভাবতে শেখা
টেস্টে উইকেটরক্ষক আশা করেন প্রতিটি বল তাঁর কাছে আসবে। এভাবেই প্রতিটি বলের জন্য সমান মনোযোগ থাকে তাঁর। স্লিপের ফিল্ডারদের মাঝেও সে চিন্তা আনতে হবে। নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে হবে প্রতিটি বলের জন্য। ভাবতে হবে, প্রতিটি বলই তাঁর কাছে আসবে এবং প্রতিটি বলের মুভমেন্ট খেয়াল করতে হবে। কখনো মনঃসংযোগ হারানো যাবে না।

দ্বিতীয় ধাপ: মার্ক ওয়াহ ও মার্ক টেলরকে অনুসরণ
ড্যারল কালিনানের ভাষায়, স্লিপ ফিল্ডিংয়ের শেষ কথা হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত স্লিপ কোয়াড্রনের এ দুজন। টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ ধরার তালিকার প্রথম তিনে নেই এ দুজন। একই সময়ে দলে থাকা এ দুজন যে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে ক্যাচ ধরতেন। সে সঙ্গে রিকি পন্টিংও তো ছিলেন এ দুজনের সঙ্গে! কিন্তু এ দুজনের দাঁড়ানোর ভঙ্গি, মনঃসংযোগ থেকে শুরু করে হাতের অবস্থানকেই স্লিপ ফিল্ডিংয়ের আদর্শ মনে করেন কালিনান।

তৃতীয় ধাপ: দুই পায়ের মাঝে ফাঁক কম রাখা
দুই পায়ের মাঝে ফাঁক বেশি থাকলেই ফিল্ডারদের জন্য নড়াচড়া করা কঠিন হয়ে যায়। এ কারণে দুই হাত ব্যবহার করে ক্যাচ ধরার সুযোগও কমে যায়। পায়ের মাঝে ব্যবধান কম থাকলে পুরো শরীর ব্যবহার করে ক্যাচ ধরা যায়। এতে বল যেদিকে যাবে, মাথাও সেদিকে নাড়ানো সম্ভব ফিল্ডারের পক্ষে। ফলে বলের ওপর থেকে দৃষ্টি কখনো সরে যায় না।

চতুর্থ ধাপ: গোড়ালিতে ভর নয়
গোড়ালিতে ভর দিয়ে দাঁড়ানো মানেই শরীরের ভারসাম্য নষ্ট করা। ডান বা বাঁ দিকে নড়াচড়া কঠিন হয়ে যায়। তাই স্লিপ ফিল্ডারদের দাঁড়াতে হবে সামনের দিকে ঝুঁকে। পায়ের অগ্রভাগে ভর দিয়ে।

পঞ্চম ধাপ: হাত হাঁটুতে নয়
ইদানীং স্লিপ ফিল্ডারদের অধিকাংশকেই দেখা যায় হাঁটুতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। কিন্তু এতে বল ছুটে এলে মাথা প্রথমে নিচু হয়ে আসে। এতে সময় নষ্ট হয় এবং এতেই ক্যাচটা ফসকানোর আশঙ্কা বেড়ে যায় বেশি।

ষষ্ঠ ধাপ: বল অনুসরণ
প্রথম স্লিপে যিনি দাঁড়াবেন, তাঁকে বল অনুসরণ করতে হবে। আর দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় স্লিপে দাঁড়ানো ফিল্ডাররা নজর রাখবেন ব্যাটের এজে। অনেক ভালো ফিল্ডারই বোলারের হাত থেকে বল অনুসরণ করেন।

সপ্তম ধাপ: নিচের হাত ব্যবহার করা
ক্যাচ ধরার সময় যে হাতটা নিচে থাকবে সেটাই সবচেয়ে গুরুত্ব পাবে। সে হাত দিয়ে বলটা আয়ত্তে রাখতে হবে। এ দক্ষতা বাগে আনতে অনুশীলনে এক হাতে ক্যাচ ধরার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। কারণ, এক হাতে যে ক্যাচ ধরা যায়, সেটা দুহাতে আরও সোজা হয়।

এ ছাড়া অনুশীলনে নতুন বলে ক্যাচ ধরা এবং খালি হাতে ক্যাচ ধরার অনুশীলন করার পরামর্শ দিয়েছেন কালিনান। এতে ম্যাচের সময় বলের গতি ও সুইংয়ে বিভ্রান্ত হবেন না ফিল্ডাররা। খালি হাতে ক্যাচ ধরার অনুশীলন করলে ম্যাচেও ক্যাচ ধরাটা সহজ হয়ে যায়।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close