ফুটবলবাংলাদেশ ফুটবল

এবার শিরোপা জয়ের লড়াই হবে বাংলাদেশ বনাম ভারতের

ভুটানের বিপক্ষে জিতবে বাংলাদেশ এটা অনুমেয়ই ছিল। দেখার বিষয় ছিল কত গোলে জিতে স্বাগতিকরা। তবে ভুটানকে যতটা সহজ প্রতিপক্ষ ভাবা হচ্ছিল, ততটা সহজ ছিল না তারা এই ম্যাচে। এএফসি আঞ্চলিক পর্বে যে দলকে দু’বছর আগেও ১৬ গোল দিয়েছিল বাংলাদেশ, সেই পাহাড়বেষ্টিত দলটির বিপক্ষে গতকাল স্বাগতিকরা জিতেছে মাত্র ৩-০ গোলে। সেটপিস থেকে দুটি গোল করেছেন ডিফেন্ডার আঁখি খাতুন। অপর গোলটি করেছেন সাজেদা খাতুন।

দিনের অপর ম্যাচে নেপালকে ১০-০ গোলে হারিয়েছে ভারত। এ জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ভারত। টানা দুই জয়ে ফাইনালে তাদের সঙ্গী স্বাগতিক বাংলাদেশ। আগামীকাল নিয়মরক্ষার ম্যাচে মুখোমুখি হবে এই দুই দল।

কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় দিনের প্রথম ম্যাচে শুরু থেকেই ভুটানকে চেপে ধরে বাংলাদেশ। একের পর এক আক্রমণে দিশাহারা করে ফেলে ভুটানের রক্ষণভাগ। কিন্তু কোনো কিছুতেই যেন কিছু হচ্ছিলো না। শুরুর দশ মিনিটে কমপক্ষে পাঁচটি আক্রমণ করে বাংলাদেশ। ভুটানের ১১ জন মিলে ডিফেন্ডিং করায় গোল হচ্ছিলো না। ম্যাচের ১১ মিনিটে সহজ সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। ভুটান গোলরক্ষক কর্মা যুদেনের হাত ফসকে যাওয়া বলে শট নিতে পারেনি মনিকা। তবে পরের মিনিটে ঠিকই জালে বল জড়াতে সক্ষম হয়। ১২ মিনিটে দ্বিতীয় কর্নার পায় বাংলাদেশ। মার্জিয়ার কর্নারে লাফিয়ে উঠে দারুণ হেডে গোল করেন আঁখি খাতুন। এই অর্ধে ১১টি কর্নার পেয়েও বাংলাদেশ গোল করতে পারে মাত্র একটি! ২৭ মিনিটে মনিকা চাকমার জোরালো শট বারের ওপর দিয়ে যায়। ৩৭ মিনিটে আনুচিং মগিনির শট সাইড বারে লেগে ফিরে আসে, ফিরতি বলটিও মার্জিয়ার শট গোলরক্ষক কর্মা যুদেন কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দেন।
প্রথমার্ধে সেভাবে খুঁজে পাওয়া যায়নি মাঝমাঠের দুই প্রাণ ভোমরা মার্জিয়া-মারিয়াকে। আগের ম্যাচের হ্যাটট্রিক করা তহুরাকেও বেশ ক্লান্ত মনে হয়েছে। ম্যাচ শেষে বিষয়টি স্বীকার করেছেন বাংলাদেশের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন। বলেন, ‘একদিন আগে একটি টাফ ম্যাচ খেলতে হয়েছে মেয়েদের। একদিনের বিরতিতে ওরা পরিপূর্ণ ফিট হতে পারেনি। তার ছাপ দেখা যায় এই ম্যাচে’।
বিরতির পর আরো দুটি গোল করে বাংলাদেশ। ৫৬ মিনিটে আবারো মার্জিয়ার কর্নারে গোল করেন আঁখি। যদিও এবারের গোল মাথা নয় বাঁ-পায়ের বুদ্ধিদীপ্ত ফ্লিকে করেছেন এই ডিফেন্ডার। হ্যাটট্রিক করার সুযোগও এসেছিলো আঁখির। বক্সের বাইরে দু’দুটি ফ্রিকিক পেয়েছিলো বাংলাদেশ। কিন্তু আঁখির নেয়া দুটি ফ্রিকিক লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়াতে হ্যাটট্রিক হয়নি। ৬১ মিনিটে স্কোর ৩-০ করার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু বক্সের বাইরে থেকে মারিয়া মান্ডার বাঁ পায়ের জোরালো শট নিলে তা সাইড বারে লেগে ফিরে আসে। ৭৯ মিনিটে তহুরার বদলি হিসেবে নেমে অবশেষে স্কোর ৩-০ করেন সাজেদা খাতুন। বক্সে ঢুকে গড়ানো শটে গোলরক্ষকের বাঁ দিক দিয়ে গোলটি করেন তিনি। আঁখি-মারিয়াদের দাপটটা ৩-০ গোলের ব্যবধান বোঝাতে পারছে না। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মাহমুদাকে হাত দিয়ে একটা বলও ধরতে হয়নি। অলস সময় কাটিয়েছেন তিনি! পুরো সময়ই বক্সের উপরে কাটিয়েছেন বাংলাদেশের এই গোলরক্ষক।

চার দলের এই প্রতিযোগিতা হচ্ছে রাউন্ড রবিন লীগ পদ্ধতিতে। সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া ?দুই দল শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে। এমন সমীকনের টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচে নেপালকে ৬-০ গোলে হারিয়ে শুভ সূচনা করে বাংলাদেশ। গতকাল সকালে ভুটানকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। বিকালে নেপালের জালে গুণে গুণে দশ গোল দেয় ভারত। হ্যাটট্রিক করেছেন সুজিতা ও প্রিয়াঙ্কা। দুটি গোল করেন লিন্ডা। একটি করে গোল আসে সানথিয়া ও আনিয়া বাইয়ের পা থেকে। প্রথম ম্যাচে ভারতও ভুটানকে হারিয়েছিলো ৩-০ গোলে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close