ক্রিকেটবাংলাদেশ ক্রিকেটবিপিএল

মাশরাফির সবচেয়ে কাছের বন্ধু কে?

কম বেশি বন্ধু আছে সকলের। তাদের মধ্যে কেউ থাকে কাছের আর কেউ থাকে কিছুটা দূরের। মাশরাফির সবই আছে। কেননা তিনিও অন্য দশ জনের মত একজন মানুষ।

তবে মাশরাফির সবচেয়ে কাছের বন্ধু কে? এটি এক জটিল প্রশ্ন। এই প্রশ্নের উত্তরে বেরিয়ে আসবে কষ্টকর জবাব। তা সবার জন্য কষ্টের।

রংপুরের হয়ে ফাইনালে মাঠে নামার আগে তার পা ব্যান্ডেজ করতে হয়েছে। ঘন্টা খানেক এ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন চিকিৎসকরা। এভাবে প্রতিটা ম্যাচের আগেই বিশেষ ব্যান্ডেজ বেধে খেলতে নামতে হয় তাকে।

এর পরে তাকে মাঠে নামার জন্য রেডি করা হয়। বয়স তার ৩৪। পায়ের সমস্যা নিয়ে এই বয়সেও অদম্য তিনি। মাশরাফি দমবার পাত্র নয়।

পঙ্গুত্বের আশঙ্কা রয়েছে মাশরাফির। এর পরেই লড়াই করছেন বাঘের মত। লড়াই করতে করতে যখন তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েন তখন তাকে মনে হয় তিনি এক ক্লান্ত বাঘ।

আর যখন তিনি লড়াই করতে করতে কোনো ম্যাচে হেরে যান তখন তাকে মনে হয় আহত বাঘ। অসংখ্যবার হাঁটুতে অপারেশন করা এই মানুষটির সবচেয়ে কাছের মানুষ আসলে কে?

তিনি খুব সম্ভব ইনজুরি। কেননা ইনজুরিটাই সবচেয়ে বেশিবার তার কাছে ছুটে আসে। এই ইনজুরি নিয়ে খেলে এবার প্রথমবারের মত রংপুর রাইডার্সকে বিপিএলের শিরোপা জেতান তিনি।

অন্যদিকে এর আগে কুমিল্লাকে শিরোপা জেতান তিনি। ঢাকাকে টানা দুইবার শিরোপা জেতান। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সাফল্য আসে তার নেতৃত্বে।

০ নাকি ২, কোন জার্সিতে খেলবেন মাশরাফি? যা বললেন তিনি

বাংলাদেশ ক্রিকেট মানেই হল মাশরাফি। কারণ মাশরাফির অধীনেই দেশের ক্রিকেট আজ এতদূর।  সেই সঙ্গে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের আসরেও নিজের দারুণ অধিনায়কত্ব ও পারফরম্যান্সের ফলে এসেছে অসাধারণ জয়।  গতকাল ঢাকার বিপক্ষে জয় পেয়ে বিপিএল পঞ্চম আসরের শিরোপা উঠে তার হাতে।

এরই ফলে প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়ন হয় রংপুর রাইডার্স।  সেই সাথে বিপিএলে চতুর্থ শিরোপা হতে উঠে মাশরাফির।  এর আগে ঢাকার হয়ে ২টি, কুমিল্লার হয়ে ১টি ও এবার রংপুরের হয়ে নেন নিজের চতুর্থ শিরোপা।  তবে এবারের বিপিএলে অন্যরকম ছিলেন মাশরাফি।

একজন জনপ্রিয় খেলোয়াড়ের জার্সি নাম্বারটা যেন ব্যান্ডই হয়ে যায়।  মাশরাফির ‘২’ যেমনটা।  কিন্তু বিপিএলে ‘০’ জার্সিতে মাঠে নামেন মাশরাফি।  আর এ জার্সিতে সাফল্যও পেয়েছেন মাশরাফি।  তবে সে সময় মাশরাফি নিজেই জার্সি বদলের কারণ জানান।  এদিকে বিপিএল তো শেষ।  এখন কোন জার্সি পড়ে খেলবেন মাশরাফি?

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দুই জার্সিতেই সাফল্য এসেছে।  বুঝতেছি না ‘০’ না ‘২’ কোনটা বেছে নিব। ‘

‘মজাটা’ হলো ঠিকই, কিন্তু মাশরাফি ফিরবেন না

ওপরের ছবিটি হয়তো বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে স্মরণীয় ছবিগুলোর একটি। বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসান ব্যাখ্যা দিচ্ছিলেন মাশরাফির টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়ে, আর পাশে বসেই হাসছিলেন মাশরাফি!

বিস্ময়কর এক মুহূর্তই বটে। আগের রাতে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়া মাশরাফি জয় নিয়ে দেশে ফিরলেও তখন তার নামের পাশে আর নেই ক্রিকেটের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত সংস্করণটি। অথচ তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটের টি-টোয়েন্টির সবচেয়ে সফলতম অধিনায়ক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৮ ম্যাচে ১০ জয় তার নেতৃত্বে। এটা শুধু একটা পরিসংখ্যান। কিন্তু তাকে নিয়ে আলোচনা ‘ইনসাইড অফ দ্য বক্স’!

অদ্ভুতুড়ে কারণে তার টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু। পরের গল্পটা সবার জানা। অথচ বোর্ড প্রধান সেদিন বিমানবন্দরে বলেছিলেন, ‘মাশরাফি তো টি-টোয়েন্টি খেলা ছাড়েনি, শুধু অধিনায়কত্ব ছেড়েছে।’ শুনে ছবির মতোই হাসছিলেন মাশরাফি। আর নিজের বক্তব্যে মাশরাফি বলেছিলেন, ‘আমি তো এখনো ওয়ানডে খেলছি। মাঠে দেখা হবে, মজা হবে ওখানে!’ ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি না খেললেও ‘মজা’ করে যাচ্ছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে।

গুনে গুনে ঠিক আট মাস, ‘মজা’টা ঠিকই হলো ২২ গজের ক্রিজে। সাক্ষী হয়ে থাকলেন মিরপুরে উপস্থিত হওয়া ২৫ হাজার দর্শক। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরে যাওয়া মাশরাফি বিন মুর্তজা জিতলেন বাংলাদেশের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টির সবচেয়ে বড় আসর বিপিএলের শিরোপা। সেটাও তার জায়গায় টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়া সাকিব আল হাসানকে হারিয়ে।

শুধু এবারই নয়, বিপিএলের পাঁচ আসরের চার শিরোপা মাশরাফি বিন মুর্তজার নামে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই পরিসংখ্যানটা তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে কি যথেষ্ট না? এমন সাফল্য বিশ্ব ক্রিকেটে খুব অল্প খেলোয়াড়ের রয়েছে। ভারতের মহেন্দ্র সিং ধোনি জিতেছেন ছয়টি শিরোপা, পাকিস্তানের শোয়েব মালিকের পাঁচটি। রোহিত শর্মা ও ইমরান নাজিরের সঙ্গে চার শিরোপা মাশরাফির।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ছাড়ার পর পরই এত বড় শিরোপা কি জিদের ফলাফল? মাশরাফি বললেন, ‘আমার আজেবাজে জিদ নেই।’ জিদ না থাকলেও ক্ষুধা ছিল। ক্ষুধা মেটাতে পেরে তৃপ্ত মাশরাফি। উজ্জ্বল পারফরম্যান্সে কি রঙিন জার্সিতে আবার টি-টোয়েন্টি খেলবেন?

‘প্রথমত, ফেরার কথা চিন্তা করছি না। দ্বিতীয়ত, আমি যতক্ষণ খেলি, সেই সময়টা উপভোগ করি। টি-টোয়েন্টি পছন্দ করি না কিংবা খেলতে পছন্দ করি না; এগুলো যদি চিন্তা করে থাকি তাহলে আমার দলের জন্য খারাপ। যারা তরুণ ক্রিকেটার আছে, তারা তাহলে ভুল তথ্য পাবে। আমি সব সময় চেষ্টা করি আমি যেটা খেলি, যেখানেই খেলি আমার শতভাগ দিতে’ -বলেছেন মাশরাফি।

বলার অপেক্ষা রাখে না, অধিনায়ক মাশরাফি কিংবা খেলোয়াড় মাশরাফি আবার ফিরবেন না টি-টোয়েন্টি দলে। তবে মঞ্চটা ছাড়তে নারাজ। ওয়ানডেতে ভালো ফল পেতে বিপিএলের মঞ্চটা বেশ কার্যকরী। আর্থিকভাবে লাভবানের পাশাপাশি ম্যাচ অনুশীলন তো হচ্ছেই।

তবুও তখন ‘ইনসাইড অফ দ্য বক্স’ চিন্তা করলেও এখন সময় এসেছে ‘আউট সাইড অফ দ্য বক্স’ চিন্তা করার। শুধু বিপিএলের রূপালি ট্রফির জন্য না, ১৫২.৩২ স্ট্রাইক রেটে ১৩১ রান ও ৬.৭৪ ইকোনমি রেটে ১৫ উইকেটের জন্যও। কারণ বিজয়ীর বেশে বারবার মাথা উঁচু করে মাঠ ছাড়েন মাশরাফি বিন মুর্তজা।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close